অচেনাই থেকে যাবেন গ্রেনফেল টাওয়ারে নিহতদের অনেকে

জুন ১৬ ২০১৭, ১৭:৩৮

তৃতীয় দিনের মতো পশ্চিম লন্ডনের গ্রেনফেল টাওয়ার নামের ভস্মীভূত ভবনে মরদেহের সন্ধান করছেন উদ্ধারকারীরা। তবে লন্ডন মেট্রোপলিট্রন পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট স্বীকারোক্তি দেওয়া হয়েছে, সব মরদেহ পাওয়ার ব্যাপারে তারা নিজেরাই নিশ্চিত নন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম কমান্ডার স্টুয়ার্ট কান্ডিকে উদ্ধৃত করে  আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এই খবর জানিয়েছে। বুধবার রাতে পশ্চিম লন্ডনের গ্রেনফেল টাওয়ারে আগুন লাগে। আগুনের তাণ্ডবে ভবনটি একদম ছারখার হয়ে যাওয়ায় ১৭ প্রাণহানির পাশাপাশি কোনও কোনও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে শতাধিক মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
১৯৭৪ সালে নির্মিত ভবনটিতে ১২০টি ফ্ল্যাট ছিল। বিভিন্ন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ওই ভবনে ৪০০ থেকে ৬০০ মানুষের বসবাসের কথা জানিয়েছে। তবে আগুন লাগার পর ঠিক কতজন বের হতে পেরেছেন বা কতজন আটকা পড়েছেন সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। ভবনের ভেতরে বহু মানুষের জিম্মি হয়ে থাকার খবর জানিয়েছিল প্রত্যক্ষদর্শীরা। বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের বিশেষ ব্যবস্থায় নেওয়া ছবিতে দেখা  গেছে, বিতর্কিত বৃষ্টিপ্রতিরোধী প্রলেপে মোড়ানো ভবনটিতে এখন সারি সারি ভস্মীভূত বস্তু। পুড়ে যাওয়া আসবাবগুলোর এমন অবস্থা যে এখন বোঝার উপায় নেই কোনটা কী জিনিস। ভবনের বিভিন্ন কক্ষে ভস্মীভূত জানালা, গলে যাওয়া টেবিল আর বিভিন্ন আসবাবের সমাহার। দেখা গেছে অর্ধেক কাপড়ে ভর্তি ওয়াশিং মেশিন, যেন ভবনের বাসিন্দাদের জীবনের আর্তির এক আধমরা সাক্ষী। এইসব ভস্মীভূত বস্তুর মধ্যে যে মানুষের মরদেহ নেই তা কে বলতে পারে?

গ্রেনফেল টাওয়ারের আগুন -১২

মেট্রোপলিটন পুলিশের কমান্ডার স্টুয়ার্ট কান্ডি স্বীকারোক্তি দিয়েছেন,  নিহতদের সবার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হবে না। বলেছেন, ‘দুঃখজনক হলেও একটা আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে; নিহতদের প্রত্যেককে বোধহয়

শনাক্ত করতে পারব না আমরা।’
আগুন লাগার খবর পাওয়ার ছয় মিনিটের মাথায় দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে আগুন নেভাতে তাদের অনেক হিমশিম খেতে হয়। ভয়াবহ সেই আগুন নেভাতে দুইদিন লেগে যায় তাদের। এরপর শুরু হয় মরদেহ উদ্ধারের কাজ। ডেইলি মেইল জানিয়েছে, ভবনের উপরের তলাগুলোতে উদ্ধারকাজ শেষ হয়েছে। বুধবার সকাল পর্যন্তও ভবনে জীবিত মানুষ ছিলেন। উদ্ধার কর্তৃপক্ষের ধারণা, তাদের কেউ এখন বেঁচে নেই। ফায়ার সার্ভিসের দাবি অনুযায়ী, তারা এখনও জানেন না যে ভেতরে কতটি মরদেহ রয়েছে। মঙ্গলবার ‘গ্রেনফেল টাওয়ার’ নামের ওই আবাসিক ভবনটিতে আগুন লাগে।

.

গ্রেনফেল টাওয়ারের আগুন -১৩

শুক্রবার (১৬ জুন) গ্রেনফেল টাওয়ারে তৃতীয়দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। তারা গতকালই, জ্বলে পুড়ে যাওয়া ভবনের ভেতর থেকে আর কাউকে জীবিত উদ্ধারের আশা ছেড়ে দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত যে ১৭টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে তার মধ্যে প্রাথমিকভাবে ছয়জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সবগুলো মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব নাও হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মেট্রোপলিটন পুলিশের কমান্ডার স্টুয়ার্ট কান্ডি। নিহতের সংখ্যার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে কান্ডি বলেন, তিনি আশা করছেন মৃতের সংখ্যা ‘তিন অংকে’ অর্থাৎ শতকে পৌঁছাবে না।

এই আগুনের ঘটনা কোনও নাশকতা কিনা, জানতে চাইলে স্টুয়ার্ট কান্ডি বলেন, ‘পেশাগত জায়গা থেকে  আমরা অপরাধের তদন্ত করি-এখানে বসে থেকে আমি বলতে পারি না এ অগ্নিকাণ্ডে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কিনা। এর জন্য তদন্ত করতে হবে।’ এ ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। আর বৃহস্পতিবার তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>