অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সংবাদ প্রকাশ করায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী মামলা

জুলাই ০৪ ২০১৭, ২৩:২৮

জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে এমন সংবাদ প্রকাশ করার ঘটনায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী মামলা দায়ের করা হয়েছে। পানপট্টি এলাকার আব্দুল মালেক প্যাদা বাদী হয়ে সোমবার গলাচিপা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের বিচারক মোঃ নাছির উদ্দিন মামলটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী গোয়েন্দা শাখাকে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দেয়া নির্দেশ দেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ জুন বেলা ১১টার দিকে এমএল আসিফ ও এমএল হালিম ০২ নামের লঞ্চে এসে ওই তিন সাংবাদিক ও তার সহযোগীরা বাদীর কাছে অস্ত্র প্রর্দশন করে ৩ হাজার টাকা নিয়া যায় এবং ২ লক্ষ টাকা না দিলে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে।
জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে জেলার আগুনমুখা নদীর পানপট্টি টু কোড়ায়ালিয়া নদী পাড়াপাড়ে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে-জন প্রতিনিধিসহ একাধিক ব্যক্তিদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৫ জুন রাঙ্গাবালী উপজেলার মানবজমিন পত্রিকার প্রতিনিধি জোবায়ের হোসেন, নয়াদিগন্ত পত্রিকার প্রতিনিধি মোঃ জাবীর হোসেন এবং সংবাদ পত্রিকার প্রতিনিধি তাইমুন ইসলাম রায়হান তথ্য সংগ্রহ করতে যায়। এসময় কোড়ালিয়া লঞ্চ র্টামিনালে যাত্রী নিয়ে আসা এম,এম আসিক এক্সপ্রেস লঞ্চ কর্তৃপক্ষ মোঃ কামরুল ও মোঃ বোরহান অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে যাত্রীদেরকে টানা-হ্যাচরা করছে এবং এক মহিলা যাত্রীকে ধাক্কা মেরে পন্টুনে ফেলে দেয়ার দেয়া হয়েছে। এসময় উপস্থিত সাংবাদিকরা তাদের ক্যামেরায় চলমান দৃশ্য ধারন করতে চাইলে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন।
তখনই সাংবাদকর্মীরা রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনর্চাজ সামসুল আরেফিন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রেজাউল করিম, পটুয়াখালী নৌবন্দরে উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক এবং পটুয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহেব আলী পাঠানকে অবহিত করেন। তাৎক্ষনিক ভাবে রাঙ্গাবালী থানা অফিসার ইনর্চাজ সামসুল আরেফিন কোড়ালিয়া লঞ্চ টার্মিনালে আসেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। তিনি অতিরিক্ত ভাড়া

আদায় না করার জন্য লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে মৌখিক ভাবে নিষেধ করেন এবং সাংবাদকর্মীসহ ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে ডেকে মৌখিক ভাবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে নিষেধ করেন বলে জানান রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দোলোয়ার হোসেন। পটুয়াখালী নৌ-বন্দরে উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা বিষয়টি স্বীকার করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া কথা জানান সাংবাদিকদের। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের পরে তিনি জানান, ঢাকা থেকে নির্দেশ পেলে তিনি লঞ্চ কর্তৃপক্ষদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। সর্বশেষ ০৪ জুলাই তিনি জানান, আগামীকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনর্চাজ সামসুল আরেফিন জানান, ওই দিন সাংবাদিকদের ফোন পেয়ে আমি পুলিশ নিয়ে লঞ্চঘাটে পৌছাই । এসময় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পাই যাত্রীদের হয়রানী এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে সাংবাদিকরা ছবি তুলছেন কেন। এ নিয়ে লঞ্চ কর্তৃপক্ষের সাথে বাকবিতন্ডা চলছে তিন সাংবাদিকদের। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনে আমি ও সাংবাদিকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করি। ওসি আরো বলেন, আমি ওই তিন সাংবাদিককে চিনি। তাদের বিরুদ্ধে চাদাবাজী মামলা এটাই শুধুই হয়রানী বলে আমার ধারনা।
রাঙ্গাবালী উপজেলার প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, লঞ্চ কর্তৃপক্ষের কাছে এ উপজেলার মানুষ কতটা জিম্মী হয়ে আছে তা আমি এখানে চাকুরি না করলে জানতে পারতাম না। একই ভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপজেলা আওয়ামীর এক প্রভাবশালী নেতা। তবে তিনি লঞ্চ কর্তৃপক্ষ দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়ার ভয়ে তার নামটি প্রকাশ করতে নিষেধ করেছেন।
প্রসঙ্গত, পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার কোড়ালিয়া টু পানপট্টি নদী পাড়াপাড়ে নৌবন্দর কর্তৃপক্ষ লঞ্চ ভাড়া বিশ টাকা নির্ধারন করলেও লঞ্চ কর্তৃপক্ষ সর্বনিম্ন ৫০ থেকে তিন’শ এবং সন্ধ্যার পরে আড়াই থেকে সাড়ে তিন হাজার ছাড়িয়ে যায় বলে একাধিক সুত্র প্রকাশ করেন। লঞ্চ কর্তৃপক্ষ দ্বারা যাত্রী হয়রানী এবং একাধিক সহিংষতার ঘটনা ঘটেছে বলে জানান রাঙ্গাবালী উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>