‘অনেক বড় বড় দেশ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, তাতে কিচ্ছু যায়-আসেনি’

জুলাই ২৫ ২০১৭, ১৫:৫৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ শেখ হাসিনা বলেছেন,‘একটা কথা আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আমরা স্বাধীন দেশ। মুক্তিযুদ্ধ করে দেশটাকে স্বাধীন করেছি। মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক বড়  বড় দেশ বিরোধিতা করেছিল। তাতে কিচ্ছু যায়-আসেনি। জনগণের ইচ্ছাটাই ছিল সবচেয়ে বড় কথা। জনগণই ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি।’

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি  বলেন,‘গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাই পারে একটি দেশকে উন্নত করতে। সরকার যে জনগণের সেবক তা উপলব্ধি করতে পেরেছে যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। বিজয়ী জাতি হিসেবে আমরা যেন বিশ্ব দরবারের মাথা উঁচু করে চলতে পারি। একটু দুর্বলতা পেলে অনেকেই আসবে উপদেশ দিতে,কথা বলতে। তবে অন্তরালে থেকে তারা আমাদের দেশ নিয়ে খেলবে।’

সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘পৃথিবী তো একটা গ্লোবাল ভিলেজ হয়ে গেছে। শুধু নিজেদের সিদ্ধান্ত নিলে হয় না। গণমানুষের সমর্থন নিতে হয়। সম্মিলিতভাবে এক হয়ে কাজ করতে না পারলে উন্নতি সম্ভব না।’

পদ্মা সেতুর ইস্যুত টেনে তিনি বলেন,‘পদ্মা সেতুর পর বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে। যারা আড় চোখে দেখতো এখন আর তা দেখে না। বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল মনে করে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘আপনারা জেলা প্রশাসকরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন। আমরা প্রতি বছর জেলা প্রশাসকদের একটা সম্মেলন করি। এই একটা সুযোগ হয় মাঠ পর্যায়ের বিষয়ে আলোচনা করার, সমস্যা জানার।’

তিনি বলেন,‘নির্বাচনের সময় আমরা একটা ইশতেহার করি। এছাড়া আওয়ামী লীগের একটা ঘোষণাপত্র আছে। সেখানে থাকে আমরা কিভাবে দেশটাকে গড়ে তুলবো। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা আমাদের একটা সংবিধান করে দিয়ে গেছেন। সেই সংবিধানে বলা আছে আমাদের এই দেশটা কিভাবে চলবে।’

পাকিস্তানের সঙ্গে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সরকারি কর্মকর্তা সংখ্যার পার্থক্যগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন,

‘এই বৈষম্যের কথা জাতির পিতা বারবার তুলে ধরেছেন। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এই দেশকে স্বাধীন করতে হবে। আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যান।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘শূন্য থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন জাতির পিতা। গোলায় কোনও খাদ্য ছিল না,রাস্তাঘাট কিছুই ছিল না। সেখান থেকে যাত্রা শুরু করে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে তিনি নানা পদক্ষেপ নেন। জাতির পিতা এতগুলো কাজ করে দিয়ে যাওয়ার পরও বাংলাদেশ উন্নত হতে এত সময় লাগলো কেন? কারণ পচাত্তরের পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীরা দেশের উন্নয়ন চায়নি। ‘৯৬ পর্যন্ত একুশ বছর বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ’৯৮ সালের বন্যার সময় বলা হয়েছিল অনেক মানুষ মারা যাবে। আমি বলেছিলাম,আল্লাহর রহমতে একটি মানুষও মারা যাবে না। পার্লামেন্টে তখন ডিবেট হয়। যখন আমরা ঘোষণা দিলাম বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। তখন বিএনপি-জামায়াত জোট বিরোধী দলে। তাদের অর্থমন্ত্রী বলেই ফেললেন,দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা যাবে না। তাহলে বিদেশ থেকে সাহায্য পাওয়া যাবে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘বিএনপি-জামায়াতের জোটের লক্ষ্য ছিল দেশকে পরনির্ভরশীল করে রাখবে। দেশের দরিদ্র মানুষকে দেখিয়ে ভিক্ষা করে আনবে আর নিজেরা লুটপাট করবে। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে আমরা বিশ্বে ময়দানে আসীন করবো।’

তিনি বলেন,‘আমরা ১২৩ ভাগ বেতন বৃদ্ধি করেছি। দেশের জন্য যারা কাজ করবে, তারা যেন আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করে। আমরা শুধু বেতনই বাড়াইনি,সেই সঙ্গে বাংলা নববর্ষের ভাতা দিয়েছি। সরকারি চাকরির বয়স বৃদ্ধি করে দিয়েছি।’

বক্তৃতা দেওয়ার সময় দুর্নীতি নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি উদ্বৃতি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি দূর করতে হবে। না হলে উন্নয়নের ছোঁয়া গ্রাম বাংলার কোথাও লাগবে না। আপনাদেরই জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। নিজেদেরকেও সচেতন থাকতে হবে।’

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>