অবাধে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন, তীব্র ভাঙন

জুন ১৮ ২০১৭, ০৯:৩৬

ভোলার লালমোহন উপজেলায় তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে খননযন্ত্রের সাহায্যে বালু তোলা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এ কারণে উপজেলার পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের গজারিয়া খালগোড়া লঞ্চঘাট এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। লঞ্চঘাটের পন্টুন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

 উপজেলার গজারিয়া খালগোড়া লঞ্চঘাট এলাকায় ৪ জুন দেখা যায়, লঞ্চঘাট থেকে দক্ষিণ দিকে প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকা ভাঙনের শিকার হয়েছে। গজারিয়া খালগোড়া বাজার থেকে লঞ্চঘাট পর্যন্ত সড়কটির অর্ধেক নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। লঞ্চঘাটের পন্টুন ছুটে গেছে। এ কারণে যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা-বরিশালের লঞ্চে ওঠানামা করছেন।

লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে একটি কার্গো জাহাজ রয়েছে। সেটি থেকে পাইপের সাহায্যে আবদুর রহমান ব্যাপারী নামের এক ব্যবসায়ীর খোলা মাঠে বালু তোলা হচ্ছে। জাহাজের সঙ্গে একটি খননযন্ত্র (ড্রেজার) রয়েছে।

ওই জাহাজের লস্কর, সারেং ও শ্রমিকেরা  বলেন, জাহাজটি চরফ্যাশন উপজেলার আলাউদ্দিন শিকদারের। আলাউদ্দিনের ভাই মুরাদ শিকদার জাহাজটি পরিচালনা করছেন। জাহাজের কর্মচারীরা যন্ত্রের সাহায্যে নদী থেকে বালু জাহাজে তোলেন। পরে জাহাজ থেকে রহমান ব্যাপারীর খোলা জায়গায় নেওয়া হয়। লালমোহন নাজিরপুর থেকে ল্যাতরা বাজার পর্যন্ত তাঁরা নদীর বিভিন্ন অংশ থেকে বালু তুলে বিভিন্ন ব্যবসায়ী, বাড়ি, পুকুর-ডোবা-বিল ও ঠিকাদারদের সরবরাহ করে থাকেন। শুধু তাঁদের নয়, আরও চার-পাঁচটি খননযন্ত্র লালমোহন-চরফ্যাশন তেঁতুলিয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে।

বালু ব্যবসায়ী আবদুর রহমান ব্যাপারী বলেন, শুধু মুরাদ শিকদার নন, লালমোহন শহরের নুরে আলম ও ফুলবাগিচার আবুল কালামের খননযন্ত্রে তোলা বালু তাঁকে সরবরাহ করা হয়।

ড্রেজার ও জাহাজের মালিক মুরাদ

শিকদার বলেন, তাঁদের জাহাজ আছে। এর সঙ্গে একটি খননযন্ত্র আছে। এর সাহায্যে নদী থেকে বালু উত্তোলন ও সরবরাহ করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভোলার ক্ষমতাসীন রাজনীতিবিদদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। তাঁরা তাঁকে অবৈধভাবে বালু তুলতে বলেছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেন।

৪ জুন এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুল আরিফ বলেন, তেঁতুলিয়া নদীতে বালু উত্তোলনের কোনো অনুমোদন নেই। যদি কেউ তুলে থাকেন, তা অবৈধ। তিনি তক্ষুনি বালু উত্তোলন বন্ধে ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বাস দেন।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গতকাল শনিবারও নদী থেকে বালু উত্তোলন করতে দেখা গেছে।

গজারিয়া খালগোড়া বাজার এলাকার হিরণ পাটওয়ারী, মানসুর মুন্সি আবদুল খালেক, মফিজুল ইসলামসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, তেঁতুলিয়া নদীর যত্রতত্র থেকে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে লঞ্চঘাট এলাকায় ভাঙন তীব্র হয়েছে।

লঞ্চের যাত্রী আইনুদ্দিন লস্কর বলেন, সরকার পন্টুন দিয়েছে, কিন্তু ভাঙনে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এখন যাত্রীরা চরম ভোগান্তি নিয়ে লঞ্চে ওঠানামা করছেন।

বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা বিভাগের পরিদর্শক নাসিম আহমেদ বলেন, ঘাটটি সংস্কারে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজার বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মাসুদ রানা বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা সাধারণত যেখানে-সেখানে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করেন। এ কারণে ভাঙন বৃদ্ধি পেয়ে থাকতে পারে।

ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো-২) নির্বাহী প্রকৌশলী কাইসার আহমেদ বলেন, লালমোহন-গজারিয়া খালগোড়া লঞ্চঘাট এলাকা ভাঙনপ্রবণ। আশপাশে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করলে ভাঙন আরও বৃদ্ধি পাবে। ঘাট এলাকা সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে, অনুমোদন হয়ে এলে কাজ করা হবে।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>