অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের গালি, ক্ষমা চাইলেন অধ্যক্ষ সচিন

মার্চ ১৬ ২০১৭, ২০:৩৪

স্টাফ রিপোর্টার
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ আচরন করাকে কেন্দ্র করে সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থী ও তাদের অবিভাবকেরা। কলেজ অধ্যক্ষকে দীর্ঘক্ষন তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে অভিভাবকদের কাছে হাতজোর করে ক্ষমা চেয়েছেন অধ্যক্ষ সচীন কুমার রায়। বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টার দিকে কলেজ সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের সামনে বসে অবিভাবককে অপমান করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীরা। খবর পেয়ে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রে আনার চেস্টা করে। ক্যম্পাস সূত্রে জানা যায়, কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় উন্নতির জন্য কলেজ কতৃপক্ষের উদ্যেগে অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। অভিভাবক সমাবেশ চলাকালীণ সময় কলেজ অধ্যক্ষ শচীন রায় উচ্চ মাধ্যমিকের ১ম বর্ষের ছাত্র ইনানের বাবাকে সবার সামনে বসে অপমান করেন। একে একে সে বেশ কয়েকজন অভিভাবককে অপমান করলে অধ্যক্ষ’র সাথে অভিভাবকদের বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ছাত্র এবং অভিভাবকরা কলেজ অধ্যক্ষকে ঘন্টাব্যাপী অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করে, পাশাপাশি অভিভাবকদের কাছে ক্ষমা চাওয়ারও দাবী জানায় ছাত্ররা। এতে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে গেলে মূহুর্তের মধ্যে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরপরেই কলেজ ছাত্রলীগের নেতারা বিষয়টি সমাধান করতে গেলে তাদের সাথেও বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হয় অধ্যক্ষ শচীন রায়। এ ঘটনায় বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ওসি তদন্ত আতাউর রহমান অধ্যক্ষের কাছে বিষটি সম্পর্কে কোন অভিযোগ দায়ের করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন অভিযোগ না দিয়ে সমাধান হবে বলে জানান। এইচএসসি বানিজ্য বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র মোঃ জায়েদি হাসান জানান, সকালে অধ্যক্ষ স্যার নিজে ক্লাসে এসে ৩০/৪০ ছাত্রকে তার কক্ষে নিয়ে যান। আমাদেরকে বিভিন্ন খারাপ ভাষায় গালাগাল করেন। তিনি আমাদের জন্ম নিয়েও কথা তোলেন। এক পর্যায় আমাদেরকে

অভিভাবকদের নম্বরে ফোন দিতে বলেন। অভিভাবকরা আসলে তাদের সামনেই বাজে বাজে কথা বলা শুরু করেন অধ্যক্ষ। অভিভাবকদের মধ্যে প্রায়ত ছাত্রলীগ নেতা সোহেলের বোনও ছিলেন। সোহেলের বোনের ছেলে হাতেম আলী কলেজের ছাত্র। সে দীর্ঘ দিন ধরে কলেজে আসেনা। অভিভাবকদের সাথে আলাপ আলোচনার এক পর্যায় অধ্যক্ষ রেগে গিয়ে ওই ছাত্রকে এমন খারাপ ভাষায় গালাগাল করেন সবার সামনেই ছাত্র কান্না শুরু করেন। এনিয়ে সেখানে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অধ্যক্ষকে অভিভাকরা অবরুদ্ধ করে রাখেন। এক পর্যায় অধ্যক্ষ সচিন কুমার রায় সবার কাছে ক্ষমা চান। খবর পেয়ে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল ইসলাম বাপ্পি ছাত্রদের পক্ষ হয়ে অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। অধ্যক্ষের অভিযোগ ছাত্রলীগ নেতারা তাকে লাঞ্ছিত করেছেন। অভিযোগ অস্বীকার করে কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল ইসলাম বাপ্পি বলেন, ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনের অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আলোচনা করতে যাই। কলেজ অধ্যক্ষ আমাকে জানান যেহেতু শুক্রবার কলেজ বন্ধ তাই স্বল্প পরিসরে কর্মসূচি পালন করবে। আমাদের দাবী জাতীয় এ কর্মসূচি ভালভাবে পালন করতে হবে। এনিয়ে অধ্যক্ষের সাথে আমার উচ্চবাচ্য হয়েছে। তাকে আমি লাঞ্ছিত করিনি। কলেজ অধ্যক্ষ সচিন কুমার রায় বলেন, প্রায় ৩০/৪০ জন ছাত্র ভর্তির পর গত ছয় মাসে একদিনও ক্লাস করেননি। আমি তাদের অভিভাবকদের ডেকে এনে কাউন্সিলিং করেছি। তারা আমার এ উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। আমাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন ‘আপনার (অধ্যক্ষ) কাছে আমরা চিরঋনী হয়ে থাকলাম’। এদিকে দ্বিতীয় দফায় ছাত্রলীগ নেতাদের অধ্যক্ষ সচিন কুমারের সাথে বাকবিতন্ডা হয়েছে। অধ্যক্ষ অভিযোগ করেছেন কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল ইসলাম বাপ্পি তাকে লাঞ্ছিত করেছেন। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাপ্পি। এবিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ সচীন কুমার রায় জানান, সামান্য একটা বিষয় নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। পরে আমরা সমাধান করেছি। আর কলেজ ছাত্রলেিগর সাথে আমার কোন দন্দ নাই ।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>