অ্যাডভেঞ্চার-৬ অগ্নিকান্ড নিয়ে মালিক বললেন…

আপডেট : June, 7, 2017, 6:12 am

 

ঝালকাঠি : ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় নিজাম শিপিং লাইন্সের ডকইয়ার্ডে নির্মানাধীন তিনতলা বিশিষ্ট একটি লঞ্চে (ক্যাটামেরান টাইপ) অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

 

মঙ্গলবার দিবগত রাত সাড়ে ৮ টার দিকে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় লঞ্চের আসবাবপত্রসহ ভেতরে থাকা সকল মালামাল পুড়ে গেছে।

 

ডকের কর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সহায়তায় দীর্ঘ দেড়ঘন্টার অধিক সময়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনা হয়।

 

এসময় আগুন নেভাতে গিয়ে স্থানীয় বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

 

নিজাম শিপিং লাইন্সের কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, দিনের বেলায় নদী পথে চলাচলের জন্য নিজাম শিপিং লাইন্সের এ্যাডভেন্সার ৫ ও ৬ নামে দুটি লঞ্চের (ক্যাটামেরান টাইপ) নির্মাণ কাজ চলছিল। এডভেন্সার ৫ নামের লঞ্চটি শতভাগ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এডভেন্সার ৬ লঞ্চটিরও ৯০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। ঈদের আগেই লঞ্চ দুটি বরিশাল-ঢাকা নৌপথে চলাচল শুরু করার কথা থাকায় শুক্রবার লঞ্চদুটি পানিতে ভাসানোর প্রস্তুতি চলছিলো

 

স্থানীয় বাসিন্দা জাফর জানান, তারাবির নামাযের সময় হঠাৎ করেই নিজাম শিপিং লাইন্সের ডকে নির্মানাধীন এ্যাডভেন্সার ৬ লঞ্চের দোতলায় আগুন দেখতে পান। ডকের কর্মী ও স্থানীয়রা তাৎক্ষনিক সেখানে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। তবে মুহুর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা সেখান এসে আগুন নেভাতে নেভাতে তিনতলা বিশিষ্ট লঞ্চের সকল তলায় আগুন ছড়িয়ে পরে।

 

এ্যাডভেন্সার লঞ্চের মালিকের স্বজন সাদ্দাম হোসেন জানান, তারাবির নামাযের জন্য নিজাম শিপিং লাইন্সের ডক ইয়ার্ডের সামনের মসজিদে সবাই অবস্থান

করছিলেন। ওইসময়ে ডকের ভেতরে সকল কাজ বন্ধ ছিলো। বৈদ্যুতিক লাইনের কোন কাজও ছিলো না। এরই মধ্যে হঠাৎ করেই এ্যাডভেন্সার ৬ লঞ্চে আগুন দেখতে পান তারা। যে আগুনে লঞ্চের ডেকরেশনসহ ভেতরের সকল আসবাবপত্র পুড়ে গেছে।

 

মামুন হাওলাদার নামে অপর একজন স্বজন জানান, ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের খবর দেয়া হলেও তাদের বিলম্বের কারনে আগুন ভয়াবহ রুপ নেয়।

 

ফায়রা সার্ভিসের উপ পরিচালক শামিম আহসান চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ফায়ার সার্ভিসের বরিশাল নৌ স্টেশনের জাহাজের সাথে বরিশাল ও নলছিটির আরো ৬ টি ইউনিট ঘটনাস্থলে আসে। তারা লঞ্চের চারিপাশ থেকে আগুন নেভানোর কাজ করে। তবে আগুন লাগার সূত্রপাত কিংবা ক্ষয়ক্ষতির পরিমান সম্পর্কে তদন্ত কমিটি গঠন ছাড়া কিছুই বলা সম্ভব হবে না।

 

ঢাকায় অবস্থানরত নিজাম শিপিং লাইন্সের সত্ত্বাধিকারী ও বরিশাল মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি নিজাম উদ্দিন মৃধা বলেন, ওয়াটার বাসটির এক পাশে শ্রমিকরা তারাবি নামাজ আদায় করছিল। হঠাৎ তারা দেখেন ওয়াটার বাসটির মধ্যে আগুন জ্বলছে। এসময় ফায়ার সার্ভিস খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওয়াটার বাসটির আগুনে কত টাকার ক্ষতি হয়েছে এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে এটি প্রায় পরিত্যক্ত হয়ে গেছে। ভস্মিভূত ওয়াটার বাসটি দুই সপ্তাহের মধ্যে পানিতে ভাসানোর কথা ছিলো।

উল্লেখ্য অগ্নিকান্ডের সময় এ্যাডভেন্সার ৬ এর পেছনেই এ্যাডভেন্সার ৫ ও পাশে দিবাসার্ভিসের ৩ শত ফুট দৈর্ঘের একটি লঞ্চ ছিলো।

Facebook Comments