আগামীকাল পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে শহরে বিরাজ করছে টান টান উত্তেজনা। দফায় দফায় চলছে মটর সাইকেল শোডাউন, মহড়া ও মিছিল। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাদের আগমনে শহরের গুরুত্বপূর্ন সড়ক ও পয়েন্টে প্রদর্শন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবি সম্বলিত ব্যানার, তোরন। স্থানীয় প্রশাসন সহিংসতা এড়াতে বিভিন্ন স্থানে মোতায়ত করেছে পুলিশ।
পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগ সুত্রে জানা গেছে, ২৪ জুলাই পটুয়াখালী স্থানীয় শিল্পকলা একাডেমী ভবনের ছাত্রলীগের সম্মেলনে আওয়ামী কেন্দ্রীয় নেতা আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, বরিশাল মহানগরের নেতা আবু হাসানাত আব্দুলাহ, সাংসদের চীপ আসম ফিরোজসহ স্থানীয় আওয়ামীর নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এর আগে ২০১৪ সালে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরে ২০১৫ সালে একটি কমিটি অনুমোদিত হয়। পটুয়াখালীর প্রয়াত ত্যাগী যুবলীগ নেতা আহসান হাবিব খানের মৃত্যুতে তার ভাইয়ের পুত্র রাশেদ খানকে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক এবং নাসির উদ্দিনকে সভাপতি করা হয়।
জুন মাসের প্রথম থেকেই ছাত্রলীগের সম্মেলন নিয়ে আলোচনা শোনা যায়। জেলা পর্যায়ের ছাত্র নেতাদের শুরু হয় উপজেলা ছাত্র নেতাদের সাথে সমন্বয়ের দৌড়ঝাপ। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ন পদ পেতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে চলে সমন্বয় ও কৌশল অবলম্বন। ২৪ জুলাই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ১৫ জুলাই পটুয়াখালীতে অবস্থান করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও পটুয়াখালীর দায়িত্বে থাকা শেখ ফয়সল আমীন। তিনি পটুয়াখালীতে পর্দাপন করা পরপরই ঘুমান্ত ছাত্রলীগের শুরু হয় দৌড়ঝাপ। পদ পেতে শুরু করে নানা কৌশল। একদিকে জেলা শহর ও উপজেলা ছাত্রললীগের মধ্য উৎসব আমেজ বিরাজ করছে।
১৭ জুলাই জেলার দশমিনা উপজেলায় ছাত্রলীগের কমিটির দ্বন্দ্ব নিয়ে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাসিরের হাতে লাঞ্ছিত হয় কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা মুহিত। ওই রাতেই সভাপতি নাসিরের বাসায় হামলা সংগঠিত হয়। পরে দিন তাকে পদ থেকে বহিস্কার করে ওই পদে দায়িত্ব দেয়া হয় ওমর ফারুককে। বিষয়টি নিয়ে ছাত্রলীগের একাংশের মধ্য ছড়িয়ে পরে ক্ষোভ ও হতাশা। পাশাপাশি চরম

উত্তেজনা দেখা দেয় শহরে। একতা সড়ক এলাকায় চলে কয়েক দফা দেশীয় অস্ত্রের মহড়া। এসময় টহলরত পুলিশ চার জনকে আটক করলেও পরে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকায় কোন সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। ১৭ জুলাই জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির বাসায় হামলা পর থেকে শহরের গুরুত্বপূর্ন পয়েন্ট গুলোতে বসানো হয় অতিরিক্ত পুলিশের তৎপরতা। যে কারনে বর্তমান সময় পর্যন্ত পটুয়াখালী সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে যে কোন সময় সহিংসতার ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করছে সাধারন কর্মীরা।
বিভিন্ন পদে ৪৫ জন পদ প্রত্যাশি ফরম ক্রয় করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা শেখ ফয়সল এর কাছে জমা দিয়েছেন বলে জানান তিনি। তিনি আরো জানান, সম্মেলনকে সুষ্ঠু ও নিরাপেক্ষ করতে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করা হয়েছে। আবেদনকৃত প্রার্থীদের নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষন। কোন ভাবেই বির্তকিতরা এ কমিটিতে প্রবেশ করতে পারবেনা। এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
পটুয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব কাজী আলমগীর বলেন, বর্তমান কমিটি নিয়ে বির্তক রয়েছে। ৯৬ এবং ২০০১ সালে পরে নির্যাতিত ও ক্ষতিগ্রস্থ আওয়ামীলীগ পরিবারের সন্তানরা ও নিয়মিত ছাত্ররা যাতে নতুন কমিটিতে সুযোগ পায়, এমনটাই আশা করছি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে। যারা হবে মাদক, দখল,টেন্ডারসহ নানা অভিযোগ মুক্ত। যারা বর্তমান সরকারের সুনাম অক্ষুন্ন রেখে রাজপথে বিশেষ ভূমিকা রাখেতে পারবে।
বহিস্কৃত ছাত্রলীগ নেতা নাসির উদ্দিন মোবাইল ফোনে অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সাধারন সম্পাদক রাশেদ খান অর্থের বিনিময় বিগত কমিটিতে অযোগ্য এবং অপারাধীদের সুযোগ দিয়েছেন। রাশেদ খান বলেন, এই অভিযোগ সত্য নয়। রাজনৈতিক ভাবে আমি এগিয়ে আছি,তাই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে।
পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহাফুুজুর রহমান জানান, পটুয়াখালী ছাত্রলীগের সম্মেলনে যাতে কোন ধররে সহিংসতা না ঘটে, সে জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। নিরাপ্তার জন্য থাকবে সিসি ক্যামেরা, গোয়েন্দা এবং সাদা পোশাকধারী পুলিশ। এছাড়াও সার্বক্ষনিক টহল পুলিশের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>