আগৈলঝাড়ায় ধান কিনছে না খাদ্য অধিদপ্তর

মে ২৭ ২০১৭, ২৩:১৩

দেশব্যাপি ৫মে থেকে ৩১মে পর্যন্ত কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান-চাল ক্রয়ের সরকারী ঘোষণার পরেও আগৈলঝাড়ায় কৃষকদের কাছ থেকে এবছর কোন ধান কিনছে না সরকার। ফলে ধানের বাজারের নিয়ন্ত্রন নিয়েছে স্থানীয় মিল মালিকদের মদদপুস্ট দালাল ও ফরিয়ারা। এমনকি ধান ক্রয়ের কোন লক্ষমাত্রাও নির্ধারণ করেনি খাদ্য অধিদপ্তর। আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দ্বায়িত) বিএম শফিকুল ইসলাম জানান, প্রতি বছর ধান ও চাল ক্রয়ের লক্ষমাত্রার চিঠি পান তারা। এবছর শুধুমাত্র ১শ ১মে.টন চাল কেনার লক্ষমাত্রার চিঠি পেয়ে এ পর্যন্ত তারা মিল মালিকদের সাথে ৩০ থেকে ৩৫ মে.টন চাল ক্রয়ের চুক্তি সম্পাদন করতে পেরেছেন। খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার দেয়া তথ্য অনুযায়ি, সম্প্রতি খাদ্য মন্ত্রী বরিশালের এক সভায় এলাকায় ধানের পরিবর্তে শুধুমাত্র চাল ক্রয়ের কথা বলেছেন। সেলক্ষে তারা আগৈলঝাড়া উপজেলায় ১শ ১ মে.টন চার ক্রয়ের লক্ষমাত্রা নিয়ে মাত্র তিনটি রাইস মিলের সাথে ৩৪ টাকা দরে এ পর্যন্ত ৩০ থেকে ৩৫ মে.টন চাল ক্রয়ের চুক্তি সম্পাদন করেছেন। তিনটি মিলের সাথে চুক্তি সম্পাদন হলেও গত ২০দিনে এক ছটাক চালও সংগ্রহ হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। বরিশালের সভায় খাদ্য মন্ত্রী এলাকায় ধানের পরিবর্তে শুধু চাল কয়ের কথা বলার কোন কারণ বা ব্যাখ্যা তিনি দেন

নি বলেও জানান এই কর্মকর্তা। সূত্র মতে, ৩৪টাকা দরে চাল ক্রয়ের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাবে শুধু মিল মালিকদের সাথে চুক্তি সম্পন্ন করতেই। এর পরেও বাজার মূল্যের চেয়ে কম ৩৪ টাকা দরে মিল মালিকদের কাছ থেকে সরকারের চাল ক্রয়ের চুক্তি হলেও ওই চাল ক্রয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। কারণ, স্থানীয় বাজারে কেজি প্রতি ৪০টাকার নীচে কোন চাল নেই। উপজেলা মার্কেটিং অফিসারের বরাত দিয়ে খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার বলেন, মার্কেটিং অফিসার প্রতি কেজি ২০ টাকা দরে ধানের স্থানীয় বাজার মূল্য নির্ধারন করেছেন ৮শ টাকা। কিন্তু চাষিরা সরকারের কাছে ২৩ টাকা কেজি দরে ধান বিক্রি করতে পারলে মন প্রতি তারা লাভবান হতেন ১শ বিশ টাকা। খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আরও বলেন, উপজেলায় ১হাজার মে.টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন গোডাউন থাকলেও গত বছর চাষিদের কাছ থেকে ১হাজার ২শ ৫৮ মে.টন ধান কিনেছিল খাদ্য অধিদপ্তর। কিন্তু এবছর ধান কেনার কোন নির্দেশনাই তারা পাননি। তিনি উপজেলায় আরেকটি গোডাউন নির্মানের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে বলেন, তার দপ্তরের ডিজিকেও তিনি চাষি পর্যায় থেকে ধান ক্রয়ের জন্য বললেও ডিজি মন্ত্রীর কথানুযায়ি কাজ করার নির্দেশ দেন। ফলে এবছর উপজেলায় কোন ধান ক্রয় করা হবে কিনা তা তিনি বলতে পারছেন না।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>