‘আত্মহত্যা নয়, দিয়াজকে শ্বাসরোধে হত্যা’

জুলাই ৩০ ২০১৭, ২৩:২৪

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরী আত্মহত্যা করেননি, তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তার মরদেহের দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ‘শ্বাসরোধে হত্যা’র বিষয়টি উল্লেখ করেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ। এ প্রতিবেদন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেছে তারা।

এর আগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর দিয়াজ ‘আত্মহত্যা’ করেছিল বলে জানিয়েছিল পুলিশ। বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছিল দিয়াজের পরিবার। আদালতের নির্দেশে পুনঃময়নাতদন্ত করে ঢামেক ফরেনসিক বিভাগ। দিয়াজ কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে যাওয়ার আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একটি অংশের বিরোধ ছিল।

এ প্রসঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি চট্টগ্রাম জোনের সিনিয়র এএসপি হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেয়েছি। তবে এখনও বিস্তারিত দেখার সুযোগ হয়নি। প্রতিবেদনে শ্বাসরোধে হত্যার কথা উল্লেখ আছে।’

তবে দিয়াজের মৃত্যুর কারণ কী তা জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ তা জানাতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। বিষয়টি সম্পর্কে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। আমাদের যা কাজ আমরা তা করেছি। গত ২৪ জুলাই ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছি। শনিবার সিআইডির একটি টিম এসে

প্রতিবেদন নিয়ে গেছে।’

গত ২০ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ২ নম্বর গেট এলাকার নিজ বাসা থেকে দিয়াজের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ২১ নভেম্বর দিয়াজের মরদেহের প্রথম ময়নাতদন্ত হয়। ২৩ নভেম্বর পুলিশ জানায়, দিয়াজকে হত্যা করা হয়েছে-এমন আলামত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মেলেনি। আত্মহত্যা করেছেন বলে মত দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে দিয়াজের পরিবার। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একটি অংশও তা মানতে নারাজ।

এ ঘটনায় গত ২৪ নভেম্বর দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা করেন। মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপুসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়। আদালত সরাসরি মামলা গ্রহণ করে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেয়া হয়।

গত ৬ ডিসেম্বর সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দিয়াজের মরদেহ তুলে আবারও ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। এ জন্য আদালতের নির্দেশে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ, ডা. প্রদীপ বিশ্বাস ও ডা. কবির সোহেলকে নিয়ে তিন সদস্যের পুনঃময়নাতদন্ত টিম গঠন করা হয়। গত ১০ ডিসেম্বর পুনঃময়নাতদন্তের জন্য তোলা হয় দিয়াজের মরদেহ। এসময় চিকিৎসকরা দিয়াজের মরদেহ থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেন।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>