আবারো অচল নগর ভবন

মার্চ ২৭ ২০১৭, ১৮:৩৩

স্টাফ রিপোর্টার ॥
তিন দিনের ছুটি কাটিয়ে মাসিক বকেয়া বেতন,প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্রাচুয়েটি জমার লক্ষে এবং অনিয়মিত শ্রমীকদের বেতন বৈষম্য দুর করা সহ বকেয়া বেতনের দাবীতে পৃথক পৃথক ভাবে কাজ-কর্ম থেকে সরে এসে অবস্থান কর্মসূচী পালন ও বিক্ষেভ শুরু করেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) এর নিয়মিত ও অনিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আজ সোমবার সকাল ১০টা থেকে  তারা নগর ভবনের সামনে ও দোতালায় কর্ম বিরতি পালন ও বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভরত বিসিসি’র কর্মচারীরা জানান, গত বছরের জুলাই মাস থেকে এ অব্দি নিয়মিত প্রায় ৫ শত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বকেয়া রয়েছে। আর অনিয়মিত বা ডেইলি বেসিস ৫ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধরেও বেতন বকেয়া রয়েছে। এ নিয়ে এ বছরের শুরুতেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্দোলনে নামলে তাদের দাবী পূরণের আশ্বাস দেয়া হয়। মাঝে এক মাসের বেতন পরিশোদ করা হলেও ফের পূর্বের ন্যায়ে বেতন-ভাতা বন্ধ রাখা হয়। এ অবস্থায় তারা গত বৃহস্পতিবার থেকে ফের আন্দোলনে নেমেছেন বলে জানান নির্বাহী প্রকৌশলী আনিচুজ্জামান। এদিকে অনিয়মিত বা ডেইলি বেসিস শ্রমীক কর্ম-চারীরা তাদের বকেয়া বেতন পরিষদ করা সহ বেতন বৈষম্য দুর করার দাবীতে নগর ভবনের দোতালায় মেয়র আহসান হাবীব কামাল ও নির্বাহী কর্মকর্তা ওহেদুজ্জামানের অফিস কক্ষের সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালন সহ বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। এছাড়া নিয়মিত প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নগর ভবনের প্রবেশদ্বার মুখে বসে অবস্থান কর্মসূচী পালন ও বিক্ষোভ করছে। আন্দোলনরত নগর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা দিপক লাল মৃধা বলেন গত ফেব্রয়ারী মাসে আন্দোলনের সময় কতিপয় কাউন্সিলরের আশ্বাষের পরিপেক্ষিতে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়ে ছিলেন। সে সময় তারা আমাদের মার্চ মাসের ২০ তারিখের ভিতর বকেয়া ৫ মাসের স্থলে ২ মাসের বেতন পরিষদ করা সহ প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা জমা দেবেন। কর্তৃপক্ষ ১ মাসের বেতন দিয়ে নতুন করে ছল চাতুরি শুরু করায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন করে আন্দোলনে নামতে বাধ্য

হয়েছে। তাদের বকেয়া বেতন  পরিষোদ ও প্রভিডেন্টের টাকা জমা না দেওয়া পর্যন্ত বিসিস’র শ্রমীক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শান্তি পূর্নভাবে কর্ম বিরতি পালন ও বিক্ষোভ অব্যাহত চালিয়ে যাবার কথা বলেন। নাম প্রকাশ না করার সত্বে এক কর্মকর্তা বলেন আজ থেকে ১৫/২০ দিন পূর্বে মেয়র কাউন্সিলর রুপি ঠিকাদারদের ৭শত চেকের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক থেকে ৫ কোটি টাকা বিল পরিষোদ করেন। এছাড়া তিনি আরো বলেন সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনের সাড়ে ৪ বসরের দায়ীত্ব পালকালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রালয় থেকে উন্নয়নের জন্য ৭৫ কোটি টাকা বরাদ্ব এসেছে। আর বর্তমান মেয়র আহসান হাবীব কামালের ৩ বসর দায়ীত্ব পালন কালে মন্ত্রালয় থেকে ৯৩ কোটি টাকা এসছে এত টাকা কোথায় খরচ হয়েছে। এছাড়া আরো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন নির্বাহী কর্মকর্তারা মাসের প্রথম তারিখে তাদের বেতন পেয়ে যান তাহলে আমাদের বেতন কেন বকেয়া থাকে এ কথা একবার নির্বার্হী কর্মকর্তার কাছে আপনারা জিজ্ঞসা করেন। এদিকে নিয়মিত ও অনিয়মিত শ্রমীক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্ম বিরতির ফলে নগর ভবন অচল হয়ে পড়েছে।নগরবাসী নগর ভবনে এসে অফিস কক্ষ বন্দ আর বিক্ষোভ ছাড়া কিছুই দেখছে না। কারও সাথে সমস্যা নিয়ে আলাপ করবে সে ধরনের কোন দায়ীত্বশীল কর্মকর্তাও পাচ্ছেন না তারা তাই পুনরায় দূর্ভোগ নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন কবে এর সমাধান হবে তাও বলতে পারছেননা নগরবাসী এ বিষয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ওহেদুজ্জামানের সাথে তার কক্ষে বসে আলাপকালে তিনি বলেন শ্রমীকরা আন্দোলন করছে সে বিষয়ে তাদেরকে কোন অবহিত করেন নাই। এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব কোন ফান্ড নাই কর্মকর্তারা যদি মন দিয়ে রাজস্ব আদায়ে সময় কাজে লাগাতেন তা হলে এত সমস্যা হত না। এখনো অনেক বকেয়া রাজস্ব বিল রয়েছে এ টাকাগলো ওটানো হলে শ্রমীক-কর্মচারীদের বেতন বকেয়া থাকবে না । তার পরও যত সম্ভব তাড়া তাড়ি তাদের বেতন পরিশোধ করার চেষ্ঠা চলছে।

 

 

 

 

 

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>