আমতলীতে ঋণ দেয়ার নাম করে গ্রাহকের টাকা নিয়ে উধাও প্রতারক 

আগস্ট ১১ ২০১৭, ২২:১৬

আমতলী প্রতিনিধিঃ বরগুনার আমতলী উপজেলার বিভিন্ন গ্রাহকদের কাছ থেকে কম সুদে ঋণ দেয়ার কথা বলেন সঞ্চয়ের পাঁচ লক্ষাধীক টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে নাভানা এ্যাসোসিয়েশন লিমিটেড নামের একটি ভুয়া ঋণদান সংস্থা।
জানাগেছে, ঢাকার উত্তরা প্রধান কার্যালয়ের নাভানা এ্যাসোসিয়েশন লিমিটেড নামের একটি ঋণদান সংস্থা কম সুদে ঋণ দেয়ার কথা বলে এ বছর মে মাসে আমতলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গ্রাহক তৈরি করে। এ গ্রাহকদের কাছ থেকে বিভিন্ন মেয়াদে ৫.৫% সুদে ঋণের বিপরীতে ১০% সঞ্চয় নগদ টাকা ও পে-অর্ডার জমা দেয়। নাভানা কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের ঋণের টাকার বিপরীতে ঢাকার কর্মাশিয়াল ব্যাংকের চেক প্রদান করে। গ্রাহকরা ওই ঋণের চেক নিয়ে জুলাই ও আগষ্ট মাসে বিভিন্ন তারিখে ঢাকা কর্মাশিয়াল ব্যাংকের টাকা তুলতে যান। কর্মাশিয়াল ব্যাংকে চেক দিলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই হিসাবে কোন টাকা নেই বলে জানিয়ে দেয়। এ প্রতারনার খবর সকল গ্রাহকদের মাঝে ছড়িয়ে পরে। পরে গ্রাহকরা ঢাকার উত্তরা অফিসে গিয়ে অফিসে তালাবন্ধ দেখতে পায়। এ প্রতারক চক্র আমতলীর বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে পাঁচ লক্ষাধীক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঔষধ ব্যবসায়ী আজম মিয়ার কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা ঋণ দেয়ার কথা বলে পঞ্চাশ হাজার টাকা, শফিকুল ইসলামের কাছ থেকে চল্লিশ হাজার, হারুন মোল্লার কাছ থেকে ষাট হাজার, জিয়াউদ্দিন জিয়ার কাছ থেকে ত্রিশ হাজার, নির্মল চন্দ্রের কাছ থেকে দশ হাজার, সামসুল হক মিয়ার কাছ থেকে বিশ হাজার, নুরুল ইসলাম মোল্লার কাছ থেকে দশ হাজার নগদ টাকা এবং মাসুদ মিয়ার কাছ থেকে আশি হাজার টাকার পে-অর্ডার, ইলিয়াস মিয়ার

কাছ থেকে ত্রিশ হাজার, রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে বিশ হাজার ও মেসবাহ উদ্দিনের কাছ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকার পে-অর্ডার নিয়ে গেছে বলে জানাগেছে। এ ঘটনায় ঢাকার উত্তরা থানায় (পশ্চিম) ওই প্রতারকদের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে।
পল্লী চিকিৎসক মোঃ মাসুদ মিয়া বলেন আট লক্ষ টাকা ঋণের আসায় আশি হাজার টাকার পে-অর্ডার জমা দিয়েছিলাম। প্রতারক চক্র ওই টাকার বিপরীতে আট লক্ষ টাকার কর্মাশিয়াল ব্যাংকের চেক দেয়। কিন্তু ব্যাংকে চেক দিলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই হিসেবে কোন টাকা নেই বলে জানিয়ে দেয়। এ সকল প্রতারককে আইনের আওতায় এনে বিচার করার দাবী জানাই।
ব্যবসায়ী আজম মিয়া বলেন পাঁচ লক্ষ টাকা ঋণ দেয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা নগত সঞ্চয় নিয়ে পালিয়ে গেছে। এ টাকা এখনো পাইনি।
আমতলীর ব্যাঞ্চ ম্যানেজার মোঃ শফিকুর রহমান মোল্লা বলেন নাভানা এ্যাসোসিয়েশন লিমিটেট ঋণদান সংস্থার এমডি নজরুল ইসলাম খান, জিএম মাজেদুল ইসলাম , পরিচালক আজিজুল হক ও সিনিয়র অফিসার সালাউদ্দিন ১০ বছর মেয়াদী ৫.৫% সুদে গ্রাহকদের কাছ থেকে ঋণের বিপরীতে ১০% সঞ্চয় জমা নিয়েছে। ওই টাকার ঋণের বিপরীতে কর্মাশিয়াল ব্যাংকের চেক দেয়। কিন্তু কর্মাশিয়াল ব্যাংকে চেক দিলে ওই হিসাবে কোন টাকা নেই বলে জানিয়ে দেয়। এ ঘটনায় চার জনের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে।
নাভানাএ্যাসোসিয়েশনের জিএম মাজেদুল ইসলামের মুঠোফোনে (০১৭০৮৫২৭৪৫৬,০১৭৭৫৫৬৬৬৩২)
বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
নাভানা এ্যাসোসিয়েশন লিমিটেটের এমডি নজরুল ইসলামের সাথে কথা বলার জন্য ঢাকা অফিসের ফোন নম্বরে (৮৮০২৪৮৯৫৪৭৩৫) যোগাযোগ করলে ফোনে কল ঢুকলেও কেউ রিসিভি করেনি।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>