আমতলীতে সিডরে নিখোঁজের ১০ বছর পর ফিরে এসেছে সোহেল

জুন ১১ ২০১৭, ২২:৫৫

আমতলী প্রতিনিধি: আমতলীতে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সুপার সাইক্লোন সিডরে নিখোঁজ হয় মো. সোহেল (২২)। ১০ বছর পর রবিবার সকালে সোহেল তার পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। সোহেল বরগুনার আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের ঘটখালী গ্রামের এনসান আলীর ছেলে। জানা গেছে, ঘুর্ণিঝড় সিডরের একদিন পূর্বে ঘটখালী গ্রামের ১২ জন দিন মজুর ধানচী লতা গাছ কাটতে ট্রলার নিয়ে বঙ্গোপসাগর ও পায়রা নদীর মোহনায় একটি চরে অবস্থান নেয়। সিডর শুরু হলে পানির প্রজন্ড ঢেউয়ে রাতে ট্রলার উল্টে সাগর বক্ষে নিমজ্জিত হয়। এরপরে ১২ জন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঝড়ের ৪দিন পরে ২ জন বাড়ী ফিরে এলেও দিন মজুর খলিল, ছোবাহান, ইউসুব, জব্বার, হোসেন, মনিরুল, দেলোয়ার, আলতাফ, রত্তন ও সোহেল নিখোঁজের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। পরিবারের স্বজনরা ধরে নেয় এদের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাতে আড়পাঙ্গাশিয়া বাজারের জেসমিন নামের এক নারী সিডরে নিখোঁজ হওয়া সোহেলকে বাজারে ঘোড়া ফিরা করতে দেখে চিনতে পারে। জেসমিন ঘটখালী গ্রামে সোহেলের পরিবারের কাছে খবর দিলে আলম বিশ্বাসসহ

প্রতিবেশীরা রবিবার সকালে আরপাঙ্গাশিয়া বাজারে ছুটে আসে। এরপর সোহেলকে তারা বাড়ীতে নিয়ে যায়। এসময় সোহেলের শরীরে থাকা সনাক্তকরণ চিহ্ন দেখে মা হাজেরা খাতুন তার ছেলেকে চিনতে পেরে বুকে টেনে নেয়। সিডরের সাড়ে ৯ বছর পরে সন্তানকে ফিরে পেয়ে মা হাজেরা বেগম কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি জানান মোর হারানো মানিক ফিররা পাইছি। সকাল থেকে সোহেলকে দেখতে শত শত মানুষ তাদের বাড়ীতে ছুটে আসে। সোহেল এখনও স্বাভাবিক হতে পারেনি কি কারনে সে এরকম হয়েছে তা জানা জায়নি। সোহেল এখণ আগত লোকজনের দিকে শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকে। কোন কথা বলছে না। তার পরিচিতদের দেখলে শুধু চোখের পানি ছেড়ে দেয়। নিখোঁজ এতদিন কোথায় কিভাবে ছিল তা জানা জায়নি। সুস্থ হলে হয় তো জানা যাবে। এদিকে আড়পাঙ্গাশিয়া বাজারে কয়েকজন প্রত্যাক্ষদর্শী জানান, শনিবার রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে একটি ট্রাক থেকে ৫-৬ জন লোককে বাজারে নামিয়ে ট্রাকটি দ্রুত চলে যায়। ট্রাক থেকে নামানো ওই লোকদের মধ্যে সোহেল ছিল।

 

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>