আমতলী ও তালতলীর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২২১ পদ শূন্য

অক্টোবর ০৯ ২০১৭, ২৩:০৫

আমতলী প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১৮ টি প্রধান ও ১০৩ টি সহকারী  শিক্ষককের পদ শূন্য রয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম ও পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। আমতলী ও তালতলী প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ দুই উপজেলায় ২০০টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

এর মধ্যে আমতলী ৭৯টি প্রধান, ৪২টি সহকারী ও তালতলীতে ৩৯টি প্রধান, ৬১টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য। দীর্ঘদিন প্রধান ও সহকারী শিক্ষককের পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়ের কার্যক্রম ও পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। তালতলীর মৌরুবী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচটি পদ থাকলেও কোন শিক্ষক নেই। ওই বিদ্যালয়ে তাতিপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষক মৌখিক আদেশে এসে ক্লাস করছে। শিক্ষক না থাকায় দপ্তরী দিয়ে পাঠদান করাতে হয়।

আমতলীর গেরাবুনিয়া, উত্তর গেরাবুনিয়া ও পূর্ব তক্তাবুনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুইজন করে শিক্ষক  রয়েছে। এছাড়া আমতলীর দক্ষিণ খাকদান, গুলিশাখালী, ডালাচারা, আঙ্গুলকাটা, বালিয়াতলী, ছোটনীলগঞ্জ, উত্তর টিয়াখালী ও টেপুরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৭৯ টি এবং তালতলীর গাবতলী, জেবি মনশাতলী, কলারং, কচুপাত্রা ও নলবুনিয়াসহ ৩৯ টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। এ সকল বিদ্যালয়ে চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক সঙ্কট থাকায় বিদ্যালয়ের কার্যক্রম ও  পাঠদান ব্যহত হচ্ছে।

তালতলীর

মৌরুবী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মৌখিক দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক শাহআলম জানান, এ বিদ্যালয়ে নিয়মিত কোন শিক্ষক নেই। একজন শিক্ষক ছিল তিনি মে মাসে অবসরে গেছেন। তার অবসরে যাওয়ার পর থেকে আমি মৌখিক আদেশে এখানে এসে পাঠদান করছি। কিন্তু আমার একার পক্ষে এত শিক্ষার্থীর পাঠদান সম্ভব নয়, তাই দপ্তরী কবির হোসেনকে দিয়ে পাঠদান করাতে হয়। উত্তর গেরাবুনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আসাদুল হক বশির বলেন, দু’জন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করাতে পারছি না।

তিনি আরো বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় আমাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হয়। এতে পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। তালতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন,  মৌরুবী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোন শিক্ষক নেই। মৌখিক আদেশে এক শিক্ষক দিয়ে ক্লাস করাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, উপজেলার কলারং, কচুপাত্রা ও নলবুনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন করে শিক্ষক রয়েছে।

আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, ডেপুটেশনে শিক্ষক দেয়ার কোন ক্ষমতা আমার নেই। ডেপুটেশনে শিক্ষক দিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আদেশ লাগে। তাই কিছু বিদ্যালয়ের শিক্ষক সঙ্কট থাকলেও সমাধান করতে পারছি না। তিনি আরো বলেন, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিবে মন্ত্রণালয়, তাই প্রধান শিক্ষক সঙ্কটের সমাধান এ মুহূর্তে করা যাচ্ছে না।

 

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>