‘আমাগো সব শেষ’

এপ্রিল ২৫ ২০১৭, ২২:০০

‘আমাগো সব শেষ অইয়া গেছে। আমাগো মুগ ডাইল, হেলেন ডাইল, বাদাম, মরিচসহ যা করছি সব শেষ অইয়া গেছে। সব পানিতে তলাইয়া গেছে। ব্রিজ কইর‌্যা খালের পানি বন্ধ কইর‌্যা দিছে। অহন পানি যাওনের জায়গা নাই। বিলের মধ্যে অহনও এক মাঝা (কোমর) পানি। আমরা অহন কি করমু?’

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নের ছাগলা গ্রামের কৃষক বাচ্চু বেপারী।

তিনি বলেন, ‘আমি প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচা করে ছাগলা গ্রামে তিন একর জমিতে মুগ ডাইল, হেলেন ডাইল, বাদাম, মরিচসহ রবিশষ্য করেছিলাম। কিন্তু জমির সব শষ্য বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। জমির থাইক্যা এক পয়সার ফসলও উডাইতাম পারি নাই। ‘

বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে কৃষকের ফসলি জমি ক্ষতির কথা স্বীকার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক আজ মঙ্গলবার জানান, উপজেলায় মোট ৫৮০ হেক্টর জমিতে শাক-সবজিসহ গ্রীস্মকালীন ফসল মাঠে রয়েছে। গত ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া অবিরাম বর্ষণের কারণে প্রায় ৩২০ হেক্টর ফসলি জমি আক্রান্ত । এর মধ্যে ৪০ হেক্টর জমি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ও ২৮০ হেক্টর জমি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ছাড়া মনপুরা উপজেলায় প্রায় দুই হাজার একর জমিতে এবার কৃষকরা রবি শস্যের আবাদ করেছেন। ফলনও ভালো হয়েছে। লক্ষমাত্রা অর্জনের আশা ছিল তাদের। আর কিছুদিন পরই ফসল

ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছিলেন কৃষকরা।

কিন্তু অবিরাম বর্ষণে তাদের সব আশা আর স্বপ্ন যেন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায় সব ফসলি জমি। এক হাজার ২০০ একর জমিতে মুগ, ৬৫০ একরে মরিচ, ১০০ একরে বাদাম, ১২০ একরে মিষ্টি আলু এবং ১০০ একর জমিতে ফেলন ডালের চাষ করেছেন।

উপজেলার হাজীর হাট ইউনিয়নের সোনার চর গ্রামের কৃষক ইয়াছিন মিয়া বলেন, ‘আমার যেটুকু জমি আছে তাতে মুগ ডাল, মরিচ, বাদাম আর মিষ্টি আলু লাগিয়েছি। বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেছে। ‘

চরফৈজুদ্দিন গ্রামের কৃষক ছিদ্দিক বলেন, ‘আমাদের মুগ ডালের চাষ বেশি। মরিচও করেছি কিছু জমিতে। মুগ, মরিচ এখন ঘরে তোলার সময়। শেষ মুহূর্তে এসে বৃষ্টিতে সব তলিয়ে গেছে। ‘ এভাবে উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়ন ও দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের কোথাও রবিশস্যের ফলন নেই বলে জানান কৃষকরা।

মনপুরা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) গোপীনাথ দাস জানান, অবিরাম বৃষ্টির পানিতে কৃষকের জমির রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এটা এখানকার কৃষকদের জন্য অভাবনীয় ক্ষতি বলে জানান তিনি। গত কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণে ভোলা জেলায় ১০০ কোটি টাকার ফসল ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ভোলার উপপরিচালক কৃষিবীদ প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, ‘কৃষকদের ক্ষতিপূরণে দ্রুত ফসল উত্তোলন ও পরবর্তীতে আউশ আবাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। -কালের কণ্ঠ

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>