আসন্ন ৬ সিটি নির্বাচন বিএনপির টেস্ট কেস!

জুলাই ২৮ ২০১৭, ২৩:৩৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আসন্ন ছয় সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে টেস্ট কেস হিসেবে নিয়েছে বিএনপি। খুলনা, বরিশাল, সিলেট, গাজীপুর, রাজশাহী ও রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকালে সরকারের আচরণ ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকাণ্ড গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন দলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। ছয় সিটির এই নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের ওপর নির্ভর করেই তারা  আগামী দিনের কর্মসূচি দেবেন। এক্ষেত্রে সিটি নির্বাচন তাদের কাছে জাতীয় নির্বাচনের আগে টেস্ট কেস হিসেবে বিবেচ্য হচ্ছে। বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে এমন তথ্য জানা গেছে।

এর আগে অনুষ্ঠিত কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং সেখানে দলের প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুর বিজয়কে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে বিএনপি। এ কারণে আগামী ছয় সিটি নির্বাচনে ইসির পরিচালনা এবং সরকারের নির্বাচনকালীন আচরণ পর্যবেক্ষণে মনোযোগী হবে দলটি। এরই মধ্যে খালেদা জিয়ার সহায়ক সরকারের প্রস্তাব পেশ করা হবে। প্রস্তাবের পরই জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে সংযোগ করবে বিএনপি। তবে সিটি নির্বাচনের ফল পক্ষপাতদুষ্ট হলে আন্দোলনকেই সামনে রাখবে দলটি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিটি ইলেকশন একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। সেজন্য আমরা এই নির্বাচন গভীরভাবেই পর্যবেক্ষণ করব। সরকারের আচরণ ও ইসির কর্মকাণ্ডও দেখব। এই ছয় সিটি করপোরেশন নির্বাচন সরকার ও ইসিসহ সবার জন্য একটা টেস্ট কেস।’

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘এই পরীক্ষায় সরকার পাস করবে, না ইসি পাস করবে, সেটি গভীরভাবে দেখব। সেই পর্যবেক্ষণের ওপরে আগামী দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একটা সিদ্ধান্ত হবে। সে কারণেই এই ইলেকশন গুরুত্বপূর্ণ।’

খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ভাষ্যমতে, ‘দলনেত্রী বিদেশ থেকে ফিরে উপযুক্ত সময়ে সহায়ক সরকারের প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন। তবে এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা নির্ধারণ করেনি বিএনপি।’

বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, এ বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সদস্য সংগ্রহ অভিযান কার্যক্রম চলছে। এরপর ১ সেপ্টেম্বর দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো প্রায় মাসব্যাপী কর্মসূচি দেবে।

এরপর অক্টোবর মাসে চলবে গণসংযোগ। এরপর নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি—এই তিন মাস চলবে সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি। ফলে, এই সময়ের মধ্যেই সুযোগ ও পরিবেশ বুঝে সহায়ক সরকারের প্রস্তাব পেশ করবেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য একাধিকসূত্র জানায়, সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে বিএনপি। ইতোমধ্যেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি তালিকা করেছেন দলটির দায়িত্বশীলরা। খালেদা জিয়া দেশে ফিরলে প্রার্থীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।দু’টি মহানগরীতে প্রার্থী পরিবর্তন হবে এবং একটিতে চমক থাকবে।’

বিএনপির চেয়ারপারসনের একাধিক ঘনিষ্ঠ-দায়িত্বশীল জানান, ইসি গঠনে বিএনপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এ বিষয়ে পুনর্গঠনে খালেদা জিয়ার প্রস্তাব ও রাষ্ট্রপতির সংলাপে অংশ নেওয়ার পর ইসিতে একজন কমিশনারও নিয়োগ পেয়েছেন, যার নাম বিএনপির দেওয়া তালিকায় ছিল বলেও প্রচার আছে।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সহায়ক সরকারের প্রস্তাব দেওয়া হবে দলের চেয়ারপারসন ফিরে আসার পর। উপযুক্ত সময়ে তিনি পেশ করবেন। প্রস্তাব পেশ করে আমরা নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবিতে জনসমর্থন বাড়াতে জনসংযোগ শুরু করে কর্মসূচিতে যাব। ওই সময় সরকারের ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গির ওপরে নির্ভর করবে, কী ধরনের আন্দোলন হবে।’

আন্দোলনের সময় কবে হবে—এমন প্রশ্নের উত্তরে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সেপ্টেম্বর মানেই তো পরবর্তী বছর না। এরপর অক্টোবর, নভেম্বর, ডিসেম্বর আছে। আর আন্দোলন-সংগ্রাম তো শীতকালেই এদেশে হয়ে থাকে। এরপর তো আরও এক বছর সময় আছে।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু  বলেন, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তো আমরা সব সময়ই অংশ নিয়েছি। আগামী দিনেও সিটি নির্বাচনে বিএনপি যাবে। ক্ষমতার পরিবর্তন তো জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে হয়। সে নির্বাচন তো ভালো হয়নি।’

ইসি গঠন, গঠনে প্রস্তাব, সংলাপে অংশ নেওয়ার বিষয়ে বিএনপির ভূমিকা কী ছিল—এমন প্রশ্নে কৃষক দলের এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সিইসি তো সবার সঙ্গে আলোচনা করেন না। তিনি তো কমিটি করছেন, কারও সঙ্গে কথা না বলে। এরপরও স্থানীয় নির্বাচনে আমরা অংশ নেব। আমাদের অবস্থান জাতীয় নির্বাচন নিয়ে। তবে অবশ্যই সিটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করব।’

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>