ইটের ভারে চাপা শৈশব

মে ০১ ২০১৭, ১১:৩৩

‘আমার বাপরে সায্য করবার লাইগ্যা ভাটায় কাম করছি। আমি গ্রামের স্কুলে তিন ক্লাস পুর্যন্ত পড়ছি। বাপ আমারে গত বছর গ্রামের থেইক্যা লইয়া আইছে। এইহানে কাম কইরা ৭০ টাকা পাই। বাপ কইছে, কাম না করলে খাওন নাই।’ বলছিল আট বছরের শিশু ইমন।

ইমনের এখন স্কুলে যাওয়ার কথা। মেতে ওঠার কথা শৈশবের দুরন্তপনায়। অথচ সে কাজ করছে ইটভাটায়। ২৩ এপ্রিল কথা হয় ইমনের সঙ্গে। সে কাজ করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর এলাকার এনবিএম ইটভাটায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর, আব্দুল্লাহপুর, জাজিরা, কোন্ডা ও হজরতপুর এলাকায় শতাধিক ইটভাটা আছে। বেশির ভাগ ইটভাটায় শিশুরা কাজ করে। তাদের সংখ্যা সহস্রাধিক। ৮ থেকে ১২ বছর বয়সী এসব শিশুর বেশির ভাগই এসেছে কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, জামালপুর ও ময়মনসিংহ থেকে।

ইমনের বাবা আমজাদ হোসেন (৪৫) বলেন, তাঁদের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জে। জীবিকার তাগিদে গ্রাম ছেড়ে কেরানীগঞ্জে এসে এনবিএম ইটভাটায় কাজ করছেন। এখন তাঁর বয়স হয়েছে। শরীরে কুলায় না।

ইটভাটায় কাজ করতে গেলে শরীর নিস্তেজ হয়ে আসে। এদিকে সংসারে অভাব-অনটন লেগে আছে। তাই সংসার চালাতে ইমনকে ইটভাটায় কাজ করতে দিয়েছেন।

তেঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও এনবিএম ইটভাটার মালিক জজ মিয়া বলেন, শিশুরা ইটভাটায় কাজ করবে, সেটা তিনিও আশা করেন না। তিনি আশা করেন শিশুশ্রম বন্ধ হয়ে যাক। কিন্তু কিছু অসাধু ঠিকাদার নিজেদের স্বার্থে শিশুশ্রমিকদের ব্যবহার করছেন।

শিশুরা মূলত মাথায় করে কাঁচা ইট বহন করে। ১ হাজার ইট বহন করে তারা ১০০ টাকা পায়।

কোন্ডা বিবিরবাজার এলাকার মদিনা ব্রিকসে গিয়ে দেখা যায়, ১০-১২টি শিশু তাদের মা-বাবার পাশপাশি কাজ করছে। তাদের বয়স ১০ ও ১১ বছরের মধ্যে।

বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর বলেন, শিশুরা ইটভাটায় কাজ করুক, সেটা তাঁরা চান না। কিন্তু মা-বাবার ইচ্ছায় শিশুরা কাজ করে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা ইউএনও শাহে এলিদ মাইনুল আমিন বলেন, ইটভাটায় শিশুশ্রমের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>