ইয়াবার গডফাদারকে ধরতে চলবে অভিযান

মার্চ ৩১ ২০১৭, ২০:৪৯

গৌরনদী প্রতিনিধি
দুইদিনের রিমান্ডে ইয়াবাসহ গ্রেফতারকৃত বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কটকস্থল গ্রামের মাদক স¤্রাট  হিরা মাঝি, তার সহযোগী বার্থী ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইউপি সদস্য মামুনুর রশিদ ওরফে মনু মোল্লা, ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা শহিদুল ইসলাম ওফে শহিদ বেপারীকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তারা গড়ফাদারের নামসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে ডিবি পুলিশকে। মামলার তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য দিতে ডিবি পুলিশ অপারগতা প্রকাশ করেছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরিশাল ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর জহিরুল ইসলাম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে দক্ষিণাঞ্চলের ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ অন্যান্য মাদকের পাইকারী ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী মাদক স¤্রাট হিরা মাঝি তার গডফাদারের নাম প্রকাশ করেছে। ওই গডফাদারকে আটক করতে অভিযান চলছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে ডিবি পুলিশের এসআই  তুষার ম-ল বাদি হয়ে মামলা দায়েরের পর বৃহস্পতিবার শেষ কর্মদিবসে বরিশাল আদালতে সোর্পদ করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালতের বিচারক ২দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। ওইদিনই সন্ধ্যায় ডিবি কার্যালয়ে তিন মাদক বিক্রেতাকে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছেন। বরিশাল ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. শাহাবুদ্দিন জানান, ডিবি’র একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার গভীর রাতে গৌরনদী উপজেলার কটকস্থল গ্রামের দুলাল ফকিরের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় মাদক বিক্রেতা বার্থী ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য মামুনুর রশিদ মনু

মোল্লা, যুবলীগ নেতা শহিদুল ইসলাম ওরফে শহিদ বেপারী ও মাদক স¤্রাট হীরা মাঝি পুলিশ দেখে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ধাওয়া করে তাদের আটক করা হয়। তখন আটককৃতদের দেহ তল্লাশী করে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে ৯০০পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) তুষার কুমার মন্ডল  বাদি হয়ে মাদক স¤্রাট হীরা মাঝি, মামুনুর রশিদ মনু মোল্লা, শহীদ বেপারীসহ ৭ জনকে আসামি করে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ গ্রেফতারকৃতদের বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।  স্থানীয়রা জানায়, গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের কটকস্থল গ্রামের মজিবুর রহমান ওরফে ইঙ্গুল মাঝির পুত্র আ’লীগ নেতা মানিক মাঝির ছত্রছায়ায় তার  সহোদর হিরা মাঝি (৩২) দীর্ঘদিন থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় পাইকারী মূল্যে ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ অন্যান্য মাদক সরবরাহ করে আসছিলো।  হিরা মাঝির সহযোগী বার্থী ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য মামুনুর রশিদ ওরফে মনু মোল্লা, যুবলীগ নেতা শহীদ বেপারীসহ ৭-৮ জনে উপজেলার বিভিন্ন মাদক স্পষ্টে ইয়াবা বিক্রি করে আসছিলো। হিরা মাঝির মাদক ব্যবসার মূল গডফাদার মানিক মাঝি এখনও ধরাছোয়ার বাইরে রয়েছেন।

Facebook Comments