ঈদকে সামনে রেখে লঞ্চে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ অতিরিক্ত যাত্রী বহনের অভিযোগ

আপডেট : June, 22, 2017, 5:13 pm

আমতলী প্রতিনিধিঃ ঈদকে সামনে রেখে আমতলী – ঢাকা রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার থেকে কোন কারন ছাড়াই লঞ্চ কর্তৃপক্ষ এ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেন। এছাড়া ধারন ক্ষমতার চেয়ে তিনগুন যাত্রী বহন করছে।
জানাগেছে, আমতলী – ঢাকা রুটে এমভি হাসান হোসেন, এমভি ইয়াদ ও এমভি সুন্দর বন – ৫ নামের তিনটি লঞ্চ সার্ভিস রয়েছে। এ লঞ্চ মালিক কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে যাত্রী ধারন ক্ষমতার চেয়ে তিনগুন বেশী যাত্রী পরিবহন করছে। এমভি ইয়াদ লঞ্চে যাত্রী ধারন ক্ষমতা ৩৯৬ জন, নেয়া হচ্ছে ৯ থেকে ১ হাজার জন। এমভি হাসান হোসেন লঞ্চে যাত্রী ধারন ক্ষমতা ৩৪২ জন, নেয়া হচ্ছে ৯ শ’ থেকে এক হাজার জন। এমভি সুন্দর বন-৫ লঞ্চে যাত্রী ধারন ক্ষমতা ৪০০ জন, নেয়া হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১২০০ জন। এছাড়া ঈদকে সামনে রেখে সরকারী নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। পূর্বে আমতলী – ঢাকা প্রথম শ্রেনীর যাত্রীদের ভাড়া ছিল ১ হাজার টাকা এবং ডেকের যাত্রীদের ভাড়া ছিল ৩’শ টাকা। মঙ্গলবার কোন কারন ছাড়াই এ ভাড়া বৃদ্ধি করে সিঙ্গেল কেবিন ১২০০ টাকা, ডাবল কেবিন ২৪০০ টাকা এবং ডেকের ভাড়া ৩৫০ টাকা আদায় করা হয়েছে।
যাত্রীরা অভিযোগ করেন লঞ্চ কর্তৃপক্ষ ঈদকে সামনে রেখে যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করায় সাধারণ যাত্রীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
লঞ্চযাত্রী বশির উদ্দিন বলেন ডাবল কেবিনে ভাড়া ছিল ২০০০ টাকা এখন ভাড়া দিতে হচ্ছে ২৪০০ টাকা।
বৃহস্পতিবার সকালে আমতলীর চাওড়া ইউনিয়নের ইউনুস মল্লিক ও টেপুড়া গ্রামের রব মিয়া বলেন লঞ্চ কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। গত

তিনদিন পূর্বে ভাড়া ছিল ৩০০ টাকা এখন ভাড়া নিচ্ছে ৩৫০ টাকা। হলদিয়া গ্রামের সারমিন বেগম বলেন লঞ্চে অতিরিক্ত লোক বহন করছে। এতে জীবনের ঝুঁকি থেকে যায়। তারপর ভাড়া পূর্বেও চেয়ে ৫০ টাকা বেশী ভাড়া আদায় করছে। ঢাকার বাসিন্দা আলো বেগম বলেন লঞ্চ কর্তৃপক্ষ লঞ্চে যেভাবে যাত্রী উঠাচ্ছে একটু তিন ধরানোর ঠাই থাকে না।
সুন্দরবন – ৫ লঞ্চের সুপার ভাইজার অপু মিয়া অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কথা অস্বীকার করে বলেন সরকারী নিয়ম অনুযায়ী একজন ডেকের যাত্রী ভাড়া ৩৬৫ টাকা সেখানে নেয়া হচ্ছে ৩৫০ টাকা। ডেকের ভাড়ার চারগুন সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া,সেখানে নেয়া হচ্ছে ১২০০ টাকা। যাত্রী ধারন ক্ষমতার চেয়ে বেশী যাত্রী বহন প্রসঙ্গে সুপার ভাইজার অপু বলেন লঞ্চ কর্তৃপক্ষ কোন যাত্রী লঞ্চে ডেকে উঠায় না। যাত্রী নিজেদের ইচ্ছায় লঞ্চে উঠে। এখানে আমাদের কিছুই করার নেই।
বরগুনা বিআইডব্লিউটিএ’র আমতলী লঞ্চঘাটে টিকেট মাষ্টার মোঃ বিল্লাল হোসেন বলেন এ রুটের তিনটি লঞ্চ সার্ভিস রয়েছে।এ লঞ্চগুলোকে ধারন ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছে। এতে যাতায়াতে জীবনের ঝুঁকি থেকে যায়। তিনি আরো বলেন বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ কোন ভাড়া বৃদ্ধি করেনি। লঞ্চ মালিক কর্তৃপক্ষ তাদের ইচ্ছা মত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে।
বরগুনা বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারী পরিচালক মামুনুর রশিদের সাথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও ধারন ক্ষমতার চেয়ে বেশী যাত্রী বহনের বিষয়ে তার মুঠোফোনে (০১৬৭৮১৪২২৫৪) বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে রিং হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মুশফিকুর রহমান বলেন ধারন ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী যাতে লঞ্চে পরিবহন না করা হয় সে জন্য লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী পরিবহন করলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebook Comments