ঈদের ছুটিতে শেবাচিমে রোগীর সেবায় নার্সনির্ভর রোষ্টার

বরিশাল : পবিত্র ঈদ উল ফিতরের বাকী আর মাত্র ২/১ দিন। এরই মধ্যে কমতে শুরু করেছে দক্ষিনাঞ্চলের বৃহৎ চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তিরত রোগীরা। অনেকে স্ব-ইচ্ছায় হাসপাতাল ত্যাগ করছেন, আবার অনেককে চিকিৎসকের পক্ষ থেকেই ছুটি দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে কাগজে-কলমের হাজার সজ্জার এ হাসপাতালটির বিভিন্ন ওয়ার্ড রোগীশুন্য হয়ে পরেছে। শনিবার হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, শুধুমাত্র মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ও গাইনী লেবার ওয়ার্ডে রোগীদের ভিড় রয়েছে। এই ওয়ার্ডদুটিতে রোগীরা ফ্লোরেও রয়েছে। এর বাহিরে প্রায় সব ওয়ার্ডেই রোগীদের সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। যেমন মহিলা সার্জারী ওয়ার্ডে স্বাভাবিক দিনে যেখানে রোগীরা মেঝেতেও জায়গা পেতো না, সেখানে ঈদের আগ মুহুর্তে এ ওয়ার্ডে খালি বেডের সংখ্যাই বেশি। হাসপাতালের মহিলা সার্জারীর এই ওয়ার্ডের ৪ টি ইউনিটে ৫৫ বেডের স্থলে শনিবার দুপুরে রোগী রয়েছে মাত্র ৩৫ জন। আর স্বাভাবিক সময়ে এ ওয়ার্ডে ১২০ জনের অধিক রোগী থাকে বলে জানিয়েছেন ওয়ার্ড ইনচার্জ খুকু হালদার। এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ এস এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, মূলত স্বাভাবিক নিয়মে চিকিৎসক যে রোগীকে সুস্থ মনে করেন তার নাম কেটে দেন। এটাই নিয়ম। তবে ঈদের আগে মোটামুটি সুস্থ রোগীরাও হাসপাতালে থাকতে চান না তাই তারা নিজেরাই ব্যবস্থাপত্র নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন। তিনি বলেন, ঈদ উল ফিতর মুসলমানদের জন্য বড় ধর্মীয় উৎসব। তবে ঈদের ছুটিতে হাসপাতালে এবার চিকিৎসক ও নার্সের কোন সংকট থাকবে না রোগীদের সেবার জন্য। তিনি বলেন এবারের রোষ্টার অনুযায়ী ঈদের আগে ২৫ জুন হাসপাতালের বহিঃবিভাগ খোলা থাকবে এবং ছুটি শেষে ২৮ জুন আবারো বহিঃবিভাগের কার্য্ক্রম চালু থাকবে। এছাড়াও ঈদের পরের দিন অল্প সময়ের

জন্য বহিঃবিভাগে রোগীদের সেবা প্রদান করা হবে। ঈদের ছুটিতে ৬ জন চিকিৎসক নিয়মিতো বহিঃবিভাগে সেবা প্রদান করবেন। তিনি জানান, আন্তঃবিভাগে যে সব রোগী ভর্তি থাকেন তাদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৩ ভাগের ১ ভাগ রোগীর সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। শনিবার হাসপাতালে মোট ভর্তিরত রোগীর সংখ্যা ছিলো হাজার জন সেখানে ২ দিন আগেও গড়ে ভর্তির সংখ্যা ছিলো ১৬ শত থেকে ১৮ শত জন। ঈদের বন্ধে এ রোগীর সংখ্যা আরো কমে যাবে বলে জানান তিনি। তারপরও যেকোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঈদের রোষ্টারে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ১৫৬ জন চিকিৎসকের মধ্য দিয়ে ৯০-৯৫ জন দায়িত্ব পালন করবেন। আর বরিশাল মেডিকেলে যারা অধ্যাপক-সহকারী অধ্যাপক রয়েছেন তারা এমনিতেও ঈদে বরিশাল ত্যাগ করেন না। এক্ষেত্রে জরুরী প্রয়োজনে তারা হাসপাতালে আসবেন। পরিচালক বলেন, হাসপাতালের মোট ৭২৮ জন সেবিকার মধ্যে ২৭৪ জন রয়েছেন হিন্দু ও খ্রিষ্টান ধর্মালম্বী। এদের সাথে আরো যোগ করে ৩০৪ জন নার্সকে নিয়ে ঈদের ছুটিতে দায়িত্ব বন্টন করা হয়েছে। একইভাবে তৃতীয় ও চুতুর্থ শ্রেনীর স্টাফদেরও দায়িত্ব বন্টন করা হয়েছে। আশাকরি কোন সমস্যা তো হবে ই না রোগীর চেয়ে সেবাপ্রদানকারীদের গড় সংখ্যা বেশি থাকবে। এদিকে এই প্রথমবারের মতো বিপুল সংখ্যক নার্স হাজার সজ্জার এ হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন নার্সিং তত্বাবধায়ক। হাসপাতালের অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, মুলত চিকিৎসকের রোষ্টারে গাইনী, মেডিসিন, সার্জারী, অর্থোপেডিক্স ওয়ার্ডগুলোর কথা মাথায় রেখে ৬৭ জন চিকিৎসকে এ ওয়ার্ডগুলোর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বাকী চিকিৎসকরা অন্যান্য ওয়ার্ড ও এসব চিকিৎসকদের সহায়ক হিসেবে কাজ করবেন। তবে এবার সেবিকাদের সংখ্যা তিনসিফটের ডিউটি অনুযায়ী অনেকটাই বেশি। এক্ষেত্রে শেবাচিমে ঈদের ছুটিতে রোগীরা নার্সনির্ভর সেবা পেতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সিনিয়র স্টাফ নার্সরা।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>