ঈদের বিশেষ সার্ভিসে বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে থাকবে ৩০ নৌযান

আপডেট : June, 12, 2017, 2:02 pm

রুবেল খান ॥ আসন্ন ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে এবার ঈদ সার্ভিসে বেড়েছে যাত্রীবাহী নৌ যান। বরিশাল-ঢাকা সহ দূরপাল্লার রুটে মোট ৩০টি সরকারি ও বেসরকারি নৌযান ঈদের আগে ও পরে যাত্রী সেবায় নিয়োজিত থাকবে। এর মধ্যে বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে নতুন যুক্ত হতে চলা ক্যাটামেরন ওয়াটার বাস এ্যাডভেঞ্চার-৫ এবং এমভি গ্রীন লাইন দিবা সার্ভিসে ডাবল ট্রিপ দিবে। তাছাড়া বিআইডব্লিউটিসি’র নিয়মিত চারটি জাহাজ এর সাথে বিশেষ সার্ভিসে যুক্ত হবে আরো দুটি নৌ যান। তাছাড়া ঈদ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ১৫ জুন থেকে শুরু হচ্ছে বেসরকারি লঞ্চের বিশেষ সার্ভিসের অগ্রীম টিকেট বিক্রির কার্যক্রম। তাছাড়া ২২ জুন অগ্রীম টিকেট বিক্রি শুরু করবে বিআইডব্লিউটিসি। এমনটিই জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসি’র সহকারী মহা-ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ এবং বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ বরিশাল এর উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু।

জানাগেছে, নদীমাতৃক বরিশাল অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষ জীবন-জীবিকা এবং শিক্ষা সহ বিভিন্ন কারনে রাজধানী ঢাকায় বসবাস করে আসছেন। বছরের বেশিরভাগ সময় তাদের থাকতে হচ্ছে পরিবার-পরিজনকে ছেড়ে। তাই বছর শেষে ঈদ কুরবানী আসলে নাড়ীর টানে বাড়ি ফেরেন তারা। পরিবারের সাথে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে লঞ্চ, বাস এবং বিমানে বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারের ন্যায় অধিক ঝুঁকি নিয়েও ফিরছেন কর্মের মাঝে ডুবে থাকা মানুষগুলো। তবে নদীমাতৃক অঞ্চল হওয়ায় এখানকার বেশিরভাগ মানুষ নদী পথেই আনন্দদায়ক ভ্রমনে বেশি উৎসাহি হচ্ছে। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির সাথে সাথে নৌযানে যাত্রীর সংখ্যাও যেনে বেড়ে চলেছে। সেই সাথে বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটেও বাড়ছে বিলাসবহুল এবং অত্যাধুনিক মানের বিশাল বিশাল যাত্রীবাহী নৌযান। প্রতি বছরই ঈদ কুরবানীকে লক্ষ্য করেই নৌযান মালিকরা বাড়তি আয়ের আশা করে থাকেন। ঠিক তেমনি করে এবারেও বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটে যাত্রী সেবায় যুক্ত হচ্ছে অত্যাধুনিক মানের ক্যাটামেরন ওয়াটার বাস এ্যাডভাঞ্চার-৫। একই সাথে এ্যাডভেঞ্চার-৬ নামার কথা থাকলেও রহস্যজনক আগুন সেই প্রস্তুতি ম্লান করে দিয়েছে। অবশ্য আগামী কুরবানীর ঈদকে লক্ষ্য করে প্রস্তুতি চলছে দেশের প্রথম

লিফ্ট যুক্ত সর্ববৃহৎ এমভি কীর্তনখোলা-১০ এবং আরো দু’টি এ্যাডভেঞ্চার নামক নৌযান। এছাড়াও ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে নতুন আঙ্গিকে সাজানো সুন্দরবন-১১ ঢাকা-বরিশাল রুটে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, এবারের ঈদ উল ফিতরে বরিশাল-ঢাকা সহ দক্ষিণাঞ্চলমুখি দুরপাল্লার রুটে সরকারি এবং বেসরকারি ৩০ নৌযান যাত্রী সেবায় যুক্ত হচ্ছে। ৩০টি নৌযানই ঈদে যাত্রী দুর্ভোগ লাঘবে বিশেষ সার্ভিস অর্থাৎ ডাবল ট্রিপ দিবে। সর্বমোট নৌযানের মধ্যে

বিআইডব্লিউটিসি’র জাহাজ থাকবে ৬টি। দক্ষিণাঞ্চল রুটে নিয়মিত চলাচলকারী এমভি মধুমতি, পিএস মাহসুদ, লেপচা, টার্ন এর সাথে বিশেষ সার্ভিসে যুক্ত হচ্ছে এমভি বাঙালী ও অষ্ট্রিচ। ঢাকা-বরিশাল এবং ঢাকা-মোড়লগঞ্জ, হুলারহাট ভায়া বরিশাল রুটে যাত্রী পরিবহন করবে এই ৬টি জাহাজ।

বিআইডব্লিউটিসি বরিশাল কার্যালয়ের সহকারী মহা-ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ জানান, ঈদের পূর্বে আগামী ২২ জুন থেকে বিশেষ সার্ভিস শুরুর কথা রয়েছে। তাছাড়া ঈদের পরে এক সপ্তাহ পর্যন্ত বিশেষ সার্ভিস চালু রাখার জন্য সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে চিঠি লেখা হয়েছে। আগামী ১৫ জুন থেকে বিআইডব্লিউটিসি’র জাহাজের বিশেষ সার্ভিসের অগ্রীম টিকেট বুকিং শুরু হবে। ঢাকা থেকে বরিশাল কিংবা বরিশাল থেকে ঢাকার অগ্রীম টিকেট পেতে হলে ঢাকায় নির্ধারিত কাউন্টার কিংবা অনলাইনের মাধ্যমে বুকিং দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসি’র ওই কর্মকর্তা।

এদিকে নতুন চালু হতে যাওয়া ক্যাটামেরন ওয়াটার বাস এ্যাডভেঞ্চার-৫ এবং এমভি গ্রীন লাইন ঈদ সার্ভিসে থাকছে। এমভি গ্রীন লাইনের একটি জাহাজ সম্প্রতি দুর্ঘটনা কবলিত হওয়ায় সেটির ঈদ সার্ভিসে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এছাড়া সরাসরি বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে ঈদ সার্ভিস দিবে ১৭টি লঞ্চ। এর মধ্যে সুন্দরবন- ৮, ১০, ১২, সুরভী- ৭, ৮, ৯, পারাবত- ২, ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, এমভি টিপু-৭, এমভি ফারহান-৫, কীর্তনখোলা-২, দীপরাজ এবং কালাম খান-২।

অবশ্য এর মধ্যে কীর্তনখোলা-১, দীপরাজ এবং কালাম খান-২ নামক লঞ্চ তিনটি বর্তমানে ডকইয়ার্ডে রয়েছে। এ তিনটি নৌ-যানের পরিবর্তে এমভি তাসরিফ এর তিনটি লঞ্চ বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে যাত্রী পরিবহন করছে। ওই তিনটি নৌযান ঈদ সার্ভিসে যুক্ত না হতে পারলেও বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে ভাড়ায় চালিত তাসরিফ এর তিনটি লঞ্চই ঈদের বিশেষ সার্ভিসে যুক্ত হবে।

এর বাইরে বরগুনা-ঢাকা, ঝালকাঠী-ঢাকা ভায়া বরিশাল রুটে চলাচল করবে পুবালী সহ আরো ৪টি যাত্রীবাহী নৌযান। পটুয়াখালী-ঢাকা রুটের আরো দুটি লঞ্চ চললেও তারা বরিশাল নৌ বন্দরে নোঙ্গর করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ’র বরিশাল কার্যালয়ের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা (নৌনিটা) বিভাগের উপ-পরিচালক আজমুল হুদা মিঠু।

তিনি জানান, ঈদ সার্ভিসের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র প্রধান কার্যালয়ে প্রস্তুতি সভা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আগামী ১৩ থেকে ১৫ জুনের মধ্যে বরিশালেও গনমাধ্যম কর্মী ও লঞ্চ মালিক এবং শ্রমিকদের সাথে মতবিনিময় করা হবে। তাছাড়া বিশেষ সার্ভিস চালুর বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে ঢাকার বৈঠকে। আগামী ১৫ জুন থেকে ঈদের বিশেষ সার্ভিসের টিকেট বিক্রি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ’র নৌনিটা’র উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু।

Facebook Comments