ঈদে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা বরিশালগামী যাত্রীদের শঙ্কা বাড়ছে

জুন ১৫ ২০১৭, ০৯:৪৫

 

বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে লঞ্চ ও স্টিমার চলাচলে শঙ্কা বেড়েছে। বর্ষায় নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীগুলো খরস্রোত থাকে। এছাড়া নৌরুটে পর্যাপ্ত বয়া, বিকন বাতি ও মার্কা নেই। তেলবাহী ট্যাংকার, বাল্কহেড এবং মাছ ধরার নৌকাও অহরহ চলছে। অন্যদিকে কয়েক সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিনই ঝড়োবৃষ্টি হচ্ছে ।

আবহাওয়ার এই অবস্থা  আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে । এছাড়া কখনো আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ারও কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময়ে নদীও উত্তাল থাকবে। ফলে লঞ্চ, ফেরি, স্টিমার, স্পিটবোর্ডসহ নৌপথে চলাচল করা যানগুলোতে ঝুঁকিও বেশি থাকবে। আর এ সময়েই লাখ লাখ মানুষ নদীপথ পাড়ি দিবে গন্তব্যে পৌঁছাবার জন্য।

একইসাথে ঢাকা-বরিশাল রুটে প্রয়োজনীয় বয়া ও বিকন বাতি না থাকায় লঞ্চ চলাচলে সমস্যা হয়।এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনারও আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান লঞ্চের মাস্টাররা। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবসৃষ্ট সমস্যা উভয় কারনেই দক্ষিনাঞ্ছলের বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলাসহ নদীপথ এলাকার বাসিন্দারা ঈদে বাড়ি ফেরা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। ।

বেসরকারি নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির প্রকাশিত তথ্য অনুসারে ঈদ মৌসুমে নৌপথে যাত্রী চলাচল প্রায় ৪০ গুণ বেড়ে যায়। আর ঈদের এক সপ্তাহ আগে এ হার

বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় একশ’ গুণ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াও মানবসৃষ্ট কিছু কারণে বেড়েই চলেছে নৌপথে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। কারণগুলোর মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ নৌযান, অদক্ষ মাস্টার, ড্রাইভার, অতিরিক্ত যাত্রীবহন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

 

বরিশাল ও খুলনা বিভাগের প্রায় সব জেলার মানুষকেই ঈদের সময় লঞ্চে করে নদী পাড়ি দিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়।আর ঈদের সময়ে নদীপথে বাড়ি ফিরতে প্রায় প্রতি বছরই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে থাকে অসংখ্য মানুষ। আর এবার বর্ষা মৌসুমে ঈদ হওয়ায় লঞ্চডুবির মতো ঘটনার ঝুঁকি অন্যান্য বারের চেয়ে বেশি থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

 

অন্যদিকে ,নদীপথে যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য লাইফ জ্যাকেট, ফায়ার বাকেট, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, বালুভর্তি বাক্স বা বালতি এবং হস্তচালিত পানির পাম্পের ব্যবস্থা রাখার কথা থাকলেও বেশির ভাগ লঞ্চেই এসব নিয়মকানুনের কোনো তোয়াক্কা করা হয় না। অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনারোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সামনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে নৌপথে যাতায়াতকারীদের অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। বিগত কয়েক সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিনই ঝড়োবৃষ্টি হচ্ছে।

 

এসব বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগ ও মানবসৃষ্ট সমস্যা মোকাবেলা করে ঈদে ঘরমুখো মানুষ কতটা নিরাপদে ফিরতে পারবে নিজের ঘরে সেটাই এখন প্রশ্ন দক্ষিণের জনপদে।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>