‘উনাদেরকে বলতে হবে টাকা ডেলিভারি হয়ে গেছে’

জুলাই ১৩ ২০১৭, ০০:০৮

ফরিদা : ‘হ্যালো’
ফরহাদ : ‘হ্যা। শুধু বলতে হবে, যে হবে উনাদেরকে বলতে হবে যে, টাকা ডেলিভারি হয়ে গেছে। টাকা ব্যাগের মধ্যে রাখতে হবে। ’
‘টাকা?’
‘টাকা ডেলিভারি হয়ে গেছে, উনারা যদি প্রশ্ন করে টাকা ডেলিভারি হয়ে গেছে। ’
‘আচ্ছা আচ্ছা’
‘টাকা তোমার কাছে রাখতে হবে। তোমাকে রাখতে হবে। কেউ যেন না দেখে।
আচ্ছা… আচ্ছা… আচ্ছা…
‘তারপর আমাকে আসার পরে বুঝিয়ে বলবা, হ্যা’
ফরিদা : সামনে (অস্পষ্ট)
‘এখন মুড ভালো?
‘হ্যাঁ’
‘খারাপ আচরণ করেনি?’
‘খারাপ আচরণ করেছে, অবশ্যই’
(অস্পষ্ট)
‘একটু পরে কথা বলি’
‘আচ্ছা, আচ্ছা, আমি…আমরা তো…’
‘না আমি এখনো বাইচা আছি’
‘আমরা তো অস্থিরতার মধ্যে আছি’
‘ওকে, ঠিক আছে’
‘তুমি যে জায়গায় আছ, সেটা কিরকম মানে, কিরকম জায়গা’
‘ঠিক চিনি না, হাঁটতেছি’
‘হাটতেছেন, রাস্তায়?’
‘রাস্তায়, হ্যাঁ। ‘
‘কোন বাড়িতে না?’
ফরহাদ: না, গাড়িতে… (অস্পষ্ট)
‘ফাঁকা রাস্তায়?’
‘হ্যাঁ, হ্যাঁ’
‘আচ্ছা, তাইলে কি করব তাহলে আমি এখন?… হ্যালো… হ্যালো… এটা কোন জায়গা?’

ওপরের কথাগুলো কবি ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহার ও তার স্ত্রী ফরিদা আখতারের। গত ৩ জুলাই ভোর ৫টা ৫ মিনিটে শ্যামলীর রিং রোডের বাসা থেকে ফরহাদ মজহার বেরিয়ে যাওয়ার পর তার স্ত্রী ফরিদা আখতার সকাল ১০টায় আদাবর থানাকে অবহিত করেন। তিনি জানান, ফরহাদ মজহারকে অপহরণ করা হয়েছে। এরপর আইন শৃঙ্খলা বাহিনী প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেখতে পায় ফরহাদ মজহারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি কখনো খোলা আবার কখনো বন্ধ। তিনি সেদিন তার স্ত্রী ফরিদা আখতার ও ফরহাদ মজহারের এনজিও উবিনীগ এর সাবেক কর্মী অর্চনা রানীর সঙ্গে কয়েক দফা কথা বলেন। সেই অডিও রেকর্ড এখন পুলিশের হাতে। তার মধ্যে থেকে একটি অডিও রেকর্ড আমাদের হাতে এসেছে।

জানা গেছে,  ৩ জুলাই সন্ধ্যায় ফরিদা আখতারের মোবাইল ফোনে ফরহাদ মজহার কথা বলেন। তাতে ফরহাদ মজহার বারবার বলছেন টাকা ডেলিভারি হয়ে গেছে।

অন্যদিকে মামলার তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে খুলনা, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সংশ্লিষ্ট ২৫-৩০ জনের সঙ্গে কথা বলেছেন তদন্তকারীরা। তারা খুলনার যে হোটেলে ফরহাদ মজহার রাতে খেয়েছেন সেই হোটেলের লোকদের সঙ্গেও কথা বলেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির ইন্সপেক্টর মাহবুবুল হক বুধবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে সব কিছু বলা যাবে না। ’

খোজ নিয়ে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা

বারডেম হাসপাতালে গিয়েছিলেন। কিন্তু তারা ফরহাদ মজহারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাননি। চিকিত্সকদের অনুমতি না পাওয়ায় সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।

তবে পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন। এখন পর্যন্ত পুলিশের তদন্তে অপহরন নয় নাটক হিসেবেই প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

বুধবার ডিএমপি সদর দপ্তরে শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম সম্পর্কিত আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, ফরহাদ মজহারের জবানবন্দির সঙ্গে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের মিল নেই। ফরহাদ মজহারের অপহরণ রহস্যের সমাধান দু-এক দিনের মধ্যেই হবে। তদন্ত শেষে শিগগির এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। ’

তিনি আরো বলেন, আমরা ইতোমধ্যে তথ্য সংগ্রহ করেছি। এই তথ্যের বিচার-বিশ্লেষণ চলছে। তদন্তে সঠিক সিদ্ধান্তে আসার জন্য আমাদের আরো দু-একদিনের মতো সময় লাগবে। তবে ফরহাদ মজহার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় যে জবানবন্দি দিয়েছেন, তা তদন্ত করতে গিয়ে আমরা যে ভিডিও ফুটেজ, সিসিটিভি ফুটেজ, কললিস্ট এবং বস্তগত সাক্ষ্য প্রমাণ পেয়েছি, তার সঙ্গে ওনার বক্তব্যর মিল নেই। আমরা তদন্তে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসার পরই এই ব্যাপারে গণমাধ্যমকে পরিষ্কার করবো।

উল্লেখ্য, গত ৩ জুলাই নিখোঁজ হওয়ার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফরহাদ মজহারকে যশোরের অভয়নগর এলাকায় হানিফ পরিবহনের বাস থেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী উদ্ধার করে। পরদিন সকালে তাকে ঢাকার আদবর থানা হয়ে মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন পুলিশ কর্মকর্তারা। তাতে ফরহাদ মজহার জানান তাকে ভোর বেলা চোখের ড্রপ কেনার জন্য বাসা থেকে বেরিয়ে ছিলেন। রাস্তা থেকে তিনজন লোক তাকে ধাক্কা দিয়ে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। পরে সন্ধ্যায় একটি বাসের টিকিট ধরিয়ে দিয়ে খুলনা শহরে নামিয়ে দেয় তাকে। তিনি সেখান থেকে বাসে করে ঢাকায় ফিরছিলেন।

এ ঘটনার পর পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে তিনি ওই দিন নিজেই খুলনার একটি বাস কাউন্টার থেকে টিকিট কেটেছিলেন। সেই কাউন্টারের ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। সেই ম্যানেজার আদালতে ১৬৪ ধারায় ফরহাদ মজহার নিজে টিকিট কেটেছিলেন বলে বক্তব্য দিয়ে গেছেন। পরবর্তী সময়ে তদন্তকারীরা জানতে পারেন ফরহাদ মজহার সেদিন তার স্ত্রী ফরিদা আখতার ছাড়াও মোবাইল ফোনে তার এনজিউ উবিনীগের সাবেক কর্মী অর্চনা রানীর সঙ্গে ৬ বার কথা বলেন। সেই অর্চনা রানীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্তকারীরা। অর্চনা রানীও তার সঙ্গে সেদিন মোবাইল ফোনে কথা হয়েছিল বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় সাক্ষী হিসেবে বক্তব্য দেন।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>