উন্নয়নের মহাসড়কে পানি আর পানি: এরশাদ

আপডেট : July, 29, 2017, 11:11 pm

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, দেশের সব কিছুতে জট লেগেছে, উন্নয়নে জট, চাকরিতে জট, রাস্তাঘাটে জট।

এ জট খুলতে হবে। আওয়ামী লীগ- বিএনপি এ জট লাগিয়েছে। জাতীয় পার্টিই পারে এ জট খুলে দেশের মানুষকে শান্তি দিতে। তাই আগামী নির্বাচনে লাঙ্গল মার্কায় ভোট দিয়ে জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় আনার জন্য তিনি দেশবাসীকে আহবান জানান।

তিনি আরও বলেন, সরকার কথায় কথায় বলে দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। আমরা তো দেখি এখন মহাসড়কে শুধু পানি আর পানি। পানি দিয়ে সরকার কী উন্নয়ন করছে, তা তো দেশের মানুষ হারে হারে টের পাচ্ছেন।

আমাদের মন্ত্রী বলেছেন, দেশে বন্যা হয়নি। তো দেশে কী হয়েছে? বন্যায় পর্যাপ্ত চাল নেই। চাল কোথাও কিনতে পারছেনা। সরকার চেষ্টা করছে। দাম বেশি। সরকার আগে চেস্টা করলে এ অবস্থার সৃস্টি হতোনা।

শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনির্য়াস ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জাতীয় পার্টির যৌথ সভায় সভাপতির বক্তব্যে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এসব কথা বলেন। যৌথ সভায় জেলা ও উপজেলা সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকসহ মাঠ পর্যায়ের শীর্ষ নেতাসহ সারাদেশ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।

সভায় অন্যাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-  বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি, সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান,  আব্দুর রশিদ সরকার, সাহিদুর রহমান টেপা, রত্মা আমিন হাওলাদার এমপি, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, একিউ তাজ রহমান , মাহজাবিন র্মোশেদ এমপি,  নুরুল ইসলাম ওমর এমপি, মোহম্মদ নোমান মিয়া এমপি,  শফিকুল ইসলাম সেন্টু , চেয়ারম্যানের উপদেস্টা রেজাউল ইসলাম  ভুইয়া. ভাইস চেয়ারম্যান  অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু, নুরুল ইসলাম নুরু, জহিরুল আলম রুবেল, জহিরুল ইসলাম জহির, আরিফ খান,  আলমগীর শিকদার লোটন, সুলতান  আহমেদ, একেএম গোলাম মতুর্জা, মোস্তাকুর রহমান মোস্তফা।

এরশাদ বলেন, সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যর্থ, মানুষের জান মালের নিরাপত্তা দিতে ব্যার্থ, চারদিকে দুনীর্তি আর সন্ত্রাস।  ব্যাংকের টাকা লুট হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও টাকা লুটপাট করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু সরকার কিছুই করছে না। চারদিকে আজ দুনীর্তি ছেয়ে গেছে। ঢাকা শহর বসবাসের অযোগ্য হয়ে গেছে। কোথাও শান্তি নাই। চারদিকে অশান্তি। এর থেকে দেশের মানুষকে বাঁচাতে হবে। জাতীয় পার্টিই পারবে দেশের মানুষকে বাঁচাতে।

তিনি বলেন, আমি সম্প্রতি ভারত সফরে গিয়েছিলাম। তারা সুশাসন দেখতে চায়। লুটপাটের বাংলাদেশ দেখতে চায়না। তারা উন্নয়ন ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ দেখতে চায়।

জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ বলেন, সম্মিলিত জাতীয় জোটের ব্যানারে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা তিনশ’ আসনে প্রার্থী দেবো। আমরা বিশ্বাস করি, দেশের মানুষ আমাদেরকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনবে। ক্ষমতায় এসে আমরা আবারো দেশের মানুষকে শান্তি ফিরিয়ে দেবো। দুনীতি চিরতরে বন্ধ করবো। লুটপাট, সন্ত্রাস বন্ধ করবো।

এরশাদ বলেন, আগামী তিন মাস সারাদেশে জাতীয় পার্টি ও জোটের ব্যানারে সভা সমাবেশ হবে। শহর, বন্দর,  গ্রামে গঞ্জে, পার্টিকে আরো সুসংগঠিত করতে হবে।  এরপর আগামী নভেম্বর মাসে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জোটের পক্ষ থেকে মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দেন এরশাদ।

তিনি বলেন, নয় বছর ক্ষমতায় ছিলাম। আমরা ব্যাংক লুট করিনি। টাকা পাচার করিনি। আজ ব্যাংক লুট হচ্ছে । টাকা পাচার হচ্ছে। এ জন্য পরিবর্তন প্রয়োজন। জাতীয়

পার্টি পরিবর্তন আনতে পারে।

সভায় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার ৩ মাসের কর্মসূচি ঘোষণা করে। নভেম্বরে ঢাকা মহাসমাবেশ করা ছাড়াও জেলা উপজেলায় সম্মেলন, মনিটরিং সেল গঠন, জোটের সমম্বয় কমিটি গঠন হবে।

সভায় প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, জাতীয় পার্টি আগামীতে ক্ষমতায় যাবে। দেশের মানুষ এরশাদকে ক্ষমতায় দেখতে চায়।

তিনি আরও বলেন, এদেশের যতো উন্নয়ন এরশাদের সময় হয়েছে। মানুষ আবার উন্নয়নের যুগে ফিরে যেতে চায়।

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানিয়ে বলেন, দুই নেত্রীর দিন শেষ। সময় এখন এরশাদের।  মানুষ এরশাদকে রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখতে চায়। এজন্য প্রয়োজন জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করা। তৃণমূল পর্যায়ে দলকে গোছানো।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের মুক্তির নিষাণা এখন জাতীয় পার্টি। জাতীয় পার্টির আমলে যে উন্নয়ন হয়েছে তা আর কারও সময় হয়নি। উন্নয়ন চাইলে জাতীয় পার্টিকেই আগামী দিনে ক্ষমতায় নিতে হবে।

প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ মন্ত্রীদের সরকার থেকে বেরিয়ে আসার আহবান জানিয়ে বলেন, জাতীয় পার্টির মন্ত্রীরা সরকার থেকে বেরিয়ে আসুক। কর্মীরা দলকে ক্ষমতায় নেবে। মন্ত্রীরা কোনও কাজে আসেনা। কর্মীরাই মূল। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি না সরকারি দল না বিরোধীদল। এ অবস্থার অবসান ঘটাতে হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য কুড়িগ্রাম জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম চৌধুরী এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গাইবান্ধা জেলা সভাপতি আব্দুর রশিদ সরকার, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মানিকগঞ্জ জেলা সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সিরাজুল ইসলাম, সুনীল শুভ রায়, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, নাসরিন জাহান রতনা, মোঃ মজিবুর রহমান সেন্টু, এটিইউ তাঁজ রহমান, উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ক্বারী হাবিবুল্লাহ বেলালী, অধ্যাপক রওশন আরা মান্নান এমপি, মো.নোমান মিয়া এমপি, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু, জহিরুল ইসলাম জহির, নুরুল ইসলাম নুরু, জিয়াউল হক মৃধা এমপি, মাহ্জাবিন মোরশেদ এমপি, যুগ্ম মহাসচিব শফিকুল ইসলাম মধু, খুলনা মহানগর সদস্য সচিব মুশফিকুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ও বগুড়া জেলা সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ওমর এমপি, যুগ্ম মহাসচিব জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক, সিলেট মহানগর আহ্বায়ক ইয়াহিয়া চৌধুরী এহিয়া এমপি, নরসিংদী জেলা সভাপতি আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম শফিক, নওগাঁ জেলা সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা সভাপতি লুৎফর রহমান রেজা খোকন, শেরপুর জেলা সভাপতি ইলিয়াছ উদ্দিন, ভোলা জেলা সাধারণ সম্পাদক আজিম গোলাদার, জয়পুরহাট সাধারণ সম্পাদক তিতাস মোস্তাফা, সুনামগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক পীর ফজলুর রহমান মেজবাহ এমপি, হবিগঞ্জ জেলা সদস্য সচিব শ্রী শংকর পাল, টাঙ্গাইল জেলা সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, পটুয়াখালী জেলা সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আলম মামুন, কক্সবাজার জেলা সভাপতি মৌলভী ইলিয়াছ এমপি ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সাধারণ সম্পাদক নুরুচ্ছফা সরকার, রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি মোঃ হারুন অর রশিদ মাতব্বর, বরিশাল মহানগর আহ্বায়ক একেএম মুরতজা আবেদীন, পটুয়াখালী জেলা সভাপতি সোলতান আহমেদ হাওলাদার, মুন্সীগঞ্জ জেলা সভাপতি কুতুব উদ্দিন, রাজবাড়ী জেলা সভাপতি এ্যাড. খন্দকার হাবিবুর রহমান বাচ্চু, কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি নাফিজ আহমেদ খান টিটু, গাজীপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবদীন, চুয়াডাঙ্গা জেলা সভাপতি এ্যাড. সোহরাব হোসেন, সন্ধীপ উপজেলা সভাপতি মোঃ আব্দুস ছালাম, সিরাজগঞ্জ জেলা সভাপতি আমিনুল ইসলাম ঝন্টু, বাংলাদেশ লেভার পার্টি চেয়ারম্যান সেকেন্দার আলী মনি, জাতীয় ইসলামী মহাজোটের আবু নাসের ওয়াহেদ ফারুক প্রমুখ।

Facebook Comments