উন্নয়ন প্রকল্পে বেশি নজর

মার্চ ১৫ ২০১৭, ০০:৩১

আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য এ সরকারের শেষবারের মতো পূর্ণাঙ্গ বাজেট দেবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আগামী ১ জুন এ বাজেট ঘোষণা করতে পারেন। যদিও বর্তমান সরকারের মেয়াদে আরও একটি বাজেট দেওয়া হবে। কিন্তু সেটি বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ ৬ মাস সময় পাবে। কেননা ২০১৯ সালের জানুয়ারির শুরুর দিকেই সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। ফলে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য সরকার যে বাজেট দিতে যাচ্ছে তাতে নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণের দৃশ্যমান পদক্ষেপ থাকছে। আগামী বাজেটে সরকারের প্রতিশ্রুত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর প্রতি বিশেষ নজর থাকছে।

জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ইতোমধ্যে বাজেট প্রস্তুত করতে অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআরকে নির্দেশনা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী বাজেটের সম্ভাব্য আকার হবে ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ধরা হচ্ছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। এ বিষয়ে বাজেট তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, আগামী বাজেট তৈরির প্রাথমিক কাজ আমরা শুরু করেছি। ধারাবাহিকভাবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এবারের বাজেটের গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদে আগামী বাজেটই হবে শেষবারের মতো পূর্ণাঙ্গ বাজেট। এ জন্য সরকারের যেসব উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে তা শেষ করার প্রতি থাকবে বিশেষ নজর। এ ছাড়া বাজেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও নির্দেশনা দেবেন। তবে আগামী অর্থবছরেও বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশের মধ্যেই থাকবে। তবে জিডিপির আকার বাড়বে। এ হিসেবে টাকার অঙ্কে ঘাটতির পরিমাণও বাড়বে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছে অর্থ বিভাগ। সেখানে সম্পদের জোগান এবং অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর চাহিদা সম্পর্কেও জানতে চেয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এদিকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়ে পর্যালোচনা হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা নতুন

নতুন যে প্রকল্প বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করবে সেগুলোর বিষয়েও কাজ করছে। ইতোমধ্যে সংসদ সদস্যের কাছে জরুরি ও তাদের প্রতিশ্রুত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সম্পর্কে তথ্য চেয়েছে মন্ত্রণালয়।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের বাজেটে মেগা প্রকল্পের কাজ ত্বরান্বিত করার নির্দেশনা ছিল। আগামী বাজেটে এসব প্রকল্পের সফলতা প্রতিফলন দেখানোর দিকে নজর থাকবে। ফলে আগামী বাজেটে বড় প্রকল্পগুলোয় বরাদ্দ যেমন বাড়ানো হবে, তেমনি তদারকি জোরদারের নির্দেশনাও থাকবে।

এদিকে এনবিআর বাজেটের অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের ব্যাপারে নতুন পরিকল্পনা তৈরি শুরু করেছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবে আয়কর ও ভ্যাট আদায়ের ওপর। এ খাত থেকেই সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হবে। ১ জুলাই থেকে নতুন মূসক আইন বাস্তবায়নে বেশি নজর রয়েছে এনবিআরের। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরে বিপুল পরিমাণ নতুন করদাতাকে যুক্ত করা হয়েছে। এ ধারাবাহিকতা আগামী বাজেটেও অব্যাহত রাখা হবে। পাশাপাশি করের জাল বিস্তারেও থাকছে নতুন পদক্ষেপ। এ ছাড়া শুল্ক ও আয়করের বিষয়ে দেশের বিভিন্ন শিল্প ও বণিক সমিতি, ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন, পেশাজীবী সংগঠন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কাছে আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা চেয়েছে এনবিআর।

এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, আগামী বাজেটকে অধিকতর ব্যবসাবান্ধব, শিল্পবান্ধব ও বিনিয়োগবান্ধব করতে কাজ করছে এনবিআর। এ জন্য সব স্টেকহোল্ডারদের মতামত নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, আয়কর মেলা বাংলাদেশের উদ্ভাবন। এটি সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গত বছর আয়কর সপ্তাহ উদযাপন করা হয়েছে। এবার কর ব্যবস্থা জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে আয়কর ক্যাম্প (ট্যাক্স ক্যাম্প) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে এ ক্যাম্প চালু করা হবে। যাতে তৃণমূল থেকে আরও রাজস্ব আহরণ করা যায়।

সূত্র জানায়, শুল্ক কাঠামোয় এবার কিছু সংস্কার করা হবে। তবে সেগুলো শিল্পবান্ধব হবে। ভোগ্যপণ্যে বরাবরের মতো কোনো কর থাকবে না। ফলে বাজেটের প্রভাবে বাজার উত্তপ্ত হবে না। এদিকে দারিদ্র্য বিমোচন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে এবারও বরাদ্দ বাড়বে।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>