উপকূলীয় জেলে পল্লীর সদস্যদের ভাগ্যে জোটেনা সামান্য বুট-মুড়ির ইফতার

জুন ০৬ ২০১৭, ১৭:১৩

পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ উচ্চবিত্ত বা মধ্যবিত্তের ইফতারীতে বাহারি আয়োজন থাকলেও উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের খাজুরা জেলে আবাসন পল্লীর ৮০টি জেলে পরিবারসহ সংলগ্ন মোট ৪৬০টি জেলে পরিবারে ইফতারিতে নেই কোন আয়োজন। সীমাহীন দারিদ্রতার কারনে সিয়াম সাধনার মাসেও এখানকার পরিবারে কপালে জোটেনা সামান্য বুট-মুড়ি। ফলে কারো ইফতারি হয় শুধু পানি দিয়ে। কেউবা আবার পান্তা ভাত মরিচ পোড়া দিয়ে, কেউবা রাস্তার পাশ থেকে তুলে আনা শাক এবং আটার রুটি দিয়ে করছেন ইফতারী।
সত্তোরোর্ধ লালভানু বেগম ছয়দিন ধরে ইফতার করছেন শুধু এক গ্লাস পানি দিয়ে। আর রাতে কিংবা সেহরীর খাবার হচ্ছে কারো দেয়া সামান্য ভাত, লবন-পানি-মরিচ দিয়ে। লালভানু বেগম জানালেন, জেলে স্বামী মজিদ হাওলাদার দীর্ঘদিন রোগে ভুগে মারা গেছেন। দুই মেয়েসহ তার আশ্রয় মিলেছে খাজুরা জেলে আবাসন পল্লীর পাশে নদীর পাড়ে। পরিবারের একমাত্র উপার্যনক্ষম মেয়েটি অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছে। চলছেনা চিকিৎসা। মেয়েটি কাজ করতে পাড়লে হয়ত জুটত কিছু খাবার। একই আবাসনের সোনিয়া (২৫) অসুস্থ তিন শিশু সন্তানকে নিয়ে ঘরের দুয়ারে স্বামীর আসার অপেক্ষায় বসে আছেন। গেল ছয়দিন চিড়া কিংবা পাচঁ টাকার মুড়ি দিয়ে চলছে স্বামী-স্ত্রী ইফতার।
পাশের ঘরের লাইলী বেগম এক কেজি আটা এনে রুটি তৈরি করছেন। ছোট ছোট মেয়েরা মায়ের পাশে রোজার ক্লান্তির শুকনো মুখ নিয়ে বসে আছে। লাইলী বেগম জানালেন, মেয়েরা রাস্তার পাশ থেকে শাক তুলে এনেছে।

রান্না করব। ইফতারী এবং রাতের খাবর এক সাথেই হবে। সেহরীর খাবার শাক আর ভাত। পরিবারের আট সদস্য নিয়ে সালেহা বেগমের ইফতারীর আয়োজন পানি ভাত আর পোড়া মরিচ। জানালেন, স্বামী সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে সিডরে নিখোঁজ। দুই ছেলেকে নিয়ে পড়ে আছি। গাঙ্গে মাছ পায়না। তাই দিন খুব খারাব যাচ্ছে।
চোখ জ্বালা করা, বুকে ব্যাথা তোলা এমন নিদারুন করুন চিত্র পটুয়াখালীল উপক’লীয় এলাকার লতাচাপলী, কুয়কাটা, ধুলাসর, লালুয়া, বড় বাইশদিয়া এবং চরমোন্তাজের জেলে পল্লীর নিত্য দিনের। এ বয়সেও এখন নদী কিংবা সাগরে মাছ ধরতে যেতে হয় পঞ্চাশোর্ধ হাফেজ হাওলাদারকে। রোজা আছেন কিনা এবং কি দিয়ে ইফতার করছেন এমন প্রশ্নে কিছুটা সময় নীরব থেকে ম্লান মুখে জানালেন, রোজ থাকবনা কেন বাপ? আমাদের বারো মাসের অর্ধেই সমযই রোজার মত কাটে। গরীব মানুসের আর ইফতারি! মুড়ি আর চিড়া পানি দিয়ে খাব।
দারিদ্রতার কারনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গভীর সমুদ্র থেকে মাাছ শিকারের মাধ্যমে দেশের আমিষের চাহিদা পুরনের পাশাপাশি অর্থনীতিতে আবদান রাখছে এখানকার জেলেরা। কিন্তু ভ’মিহীন এসব জেলেদের জীবিকা থাকলেও জীবন থাকে অনিশ্চতায়। অনিশ্চয়তায় থাকে পরিবারের খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসার মত মৌলিক চাহিদা। সাগরে মাছ মিললে পরিবারের ভাগ্যে জোটে এসব মৌলিক চাহিদা। তবুও এসব পরিবারে নেই হতাশা। আশায় দিন গোনে। সাগরে মাছ ধরা পড়বে। রোজা না হয় কেটেই গেল, ঈদে সেমাই খেতে পারবে!

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>