উপকূলের শিশুরা খেলতে খেলতেই চিনে নিচ্ছে বর্ণমালা

জুলাই ২৩ ২০১৭, ২০:০৫

কলাপাড়া প্রতিনিধিঃ উপকূলের কোমলমতী শিশুরা খেলতে খেলতেই চিনে নিচ্ছে বর্ণমালা। শিখছে গননা, ছড়া আর কবিতা। এক সময় ঘরে বসে শিশুর বর্ণমালার হাতেখড়ি হতো আদর্শলিপি দিয়ে। বর্ণ পরিচিতি ও বানান শেখা শুরু হতো সেখান থেকেই। এখন সেই সময়ের চিত্র পাল্টে গেছে। সাগরপাড়ের কুয়াকাটা লতাচাপলী মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রাখা হয় খেলায় মশগুল। আর এর মধ্যেই শিক্ষক শিক্ষীকাদের চলে বর্নমালা, সংখ্যা পরিচয়, ছড়া, কবিতা ও গান শেখানোর কাজ। যার ফলে বিদ্যালয়টির শিশু শিক্ষার রীতিতেও এসেছে পরিবর্তন।
বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, শিশুদের পাঠদানে উৎসাহিত করতে রয়েছে খেলাধুলা ও সংগীতের নানা উপকরণ। সকল ধর্মের বানী পাঠ, জাতীয় সংগীত গাওয়া ছাড়াও নিজেকে একজন সুস্থ ধারার নাগরিক হিসাবে গড়ে তোলার জন্য প্রতিদিন শপথ নেয় ওই শিশু শিক্ষার্থীরা। শাররী চর্চা শেষে শ্রেনী কক্ষে ফিরে যায় রন সংগীতের তালে। ডিজিটাল শ্রেনী কক্ষসহ শিক্ষার সব আধুনিক উপকরণে সজ্জিত এ বিদ্যালয়টি ২০১২ সালে জেলায় প্রথম চাইল্ড ফ্রেন্ড স্কুলে পরিনত হয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটি আর সমাজের দানশীলদের অর্থায়নে দারিদ্র জনপদের কোমলমতি শিশুদের প্রতি বছর দেয়া হয় স্কুল ব্যাগসহ বছরে দুই সেট নতুন ইউনিফর্ম। ২০১১ সাল থেকে ধারাবাহিক ভাবে সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলে এসেছে সাফল্য। বেড়েছে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা। বর্তমানে ৪৩০ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করছে দশ জন শিক্ষক। ৬ জন প্রতিবন্ধী ছাড়াও রয়েছে দরিদ্র রাখাইন সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থী। যাদের মাতৃস্নেহে,পরম মমতায় দেয়া হচ্ছে পাঠদান। ক্রীড়া ও সংস্কৃতিকসহ ফুটবল টুর্নামেন্ট প্রতিযোগিতায় জেলা, উপজেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ধারাবাহিক সাফল্য রয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ডিজিটাল কন্টেইন তৈরিতে বিদ্যালয়টির রয়েছে বাংলাদেশের চতুর্থ স্থানে।
অবিভাবক

আর বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের অনেকেই জানান, প্রধান শিক্ষক নাসমুস শাকিব খান কনা ২০১১ সালে যোগদানের পর থেকেই বিদ্যালয়টি নতুনত্বের ছোয়া লেগেছে। প্রতিষ্ঠানটি পরিনত হয়েছে মডেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। সরকারী সীমিত বরাদ্ধের অপেক্ষায় না থেকে নিজের এবং কোন কোন ক্ষেত্রে শিক্ষকদের আর্থিক সহায়তায় বিদ্যালয়টিতে দিয়েছেন অন্যসব বিদ্যালয় থেকে এক ভিন্ন রূপ।
অবিভাবক সালমা খাতুন জানান, আমার ছেলে-মেয়ে বিদ্যালয়ে যেতে চাইত না। পড়তে চাইতনা। বিদ্যালয়ের আপারা বাড়ি গিয়ে আামদের বাচ্চাদের বুঝিয়ে স্কুলে নিয়ে আসেন। এখন তারা সারাক্ষনই স্কুলে থাকে। পড়ার জন্য বলতে হয়না। আরেক অবিভাবক জোৎসা বেগম বলেন, কোনদিন মেয়েকে গান শিখাবো ভাবিনি। এখন আমার মেয়ে গানে বিভাগের প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন করে পুরুষ্কারও পেয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসমুস শাকিব খান কনা জানান, শিশুদের শুরুতেই বর্ণমালা ও শব্দের সঠিক উচ্চারণ শেখানো খুব জরুরি। এ বিদ্যালয়ে খেলতে খেলতে বাচ্চাদের অনেক কিছু জানার সুযোগ রয়েছে। আমরাও ওই সব শিশুদের সঠিক শিক্ষাদানের চেষ্টা করছি। শিশুদের মস্তিষ্ক থাকে একদম কাদামাটির মতো। যাকে ইচ্ছেমতো আকৃতি দেওয়া যায়। তবে মায়ের ভাষা শিশু শিখবে সবার প্রথমে, এটিই স্বাভাবিক।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি অনন্ত মুখার্জী জানান, শিক্ষক শিক্ষীকারা কোমলমতি শিশুদের যতœ সহকারে বর্নমালা শিখাচ্ছে। সরকারি এ বিদ্যালয়ে সকল প্রকার আধুনিক সরঞ্জাম রয়েছে। এখানে আসা আনেক পর্যটক তাদের কর্মকান্ড দেখে মুগ্ধ হয়ে থাকে। এর ধারাবাহিকতা বজয় থাকবে বলে আশা করি।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো.রফিকুল ইসলাম জানান, শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও শিক্ষা আফিসের তদারকিতে বিদ্যালয়টি খুব ভালই চলছে। এছাড়া এ বিদ্যালয়টিতে মান্টিমিডিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হয়। এটি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার মত বলে তিনি জানিয়েছেন।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>