‘এই বাজেট জনকল্যাণে কিছু করতে পারবে না’

জুন ০১ ২০১৭, ১৭:০০

সরকার বাজেটকে ‘রাজনৈতিকভাবে’ ব্যবহার করছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এই বাজেট জনগণের কল্যাণে খুব একটা কিছু করতে পারবে না।’

গতবছরের বাজেটের ৫৫% থেকে ৬০% এখনো বাস্তবায়ন হয়নি জানিয়ে এবারো বড় বাজেটের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় দুঃস্থ নারীদের মাঝে বস্ত্র বিতরণের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই কর্মসূচির আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বেলা দেড়টায় জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন। তার দেড় ঘণ্টা আগে বিএনপির পক্ষ থেকে এ রকম বক্তব্য আসলো।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এই সরকার সামনে নির্বাচনকে রেখে রাজনৈতিকভাবে বাজেটকে ব্যবহার করছে। স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা ভালো না, শিক্ষা খাতের অবস্থা ভালো না। সেগুলোর জন্য আমরা দেখতে চাই, ওইসব খাতে কী রকম বরাদ্দ হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ওইসব খাতের অবস্থা ভালো নয়। সে কারণে আমরা মনে করি এই বাজেটটি জনগণের কল্যাণে খুব একটা কিছু করতে পারবে না।’

সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি উল্লেখ করে তাদের বাজেট উপস্থাপনার বৈধ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী সরকারকে একটা বাজেট দিতে হয়। পার্থক্যটা এখানে যে, এই সরকার নির্বাচিত সরকার নয়। এখানে সরকারের লেজিটিমেসির (বৈধতা) প্রশ্ন এসে যায়।’

‘সে কারণে সমস্ত সংকটের মূলে এই যে, এই সরকারের বৈধ্যতা নেই। বাজেট যে তারা দিচ্ছে, সেটারও কোনো জবাবদিহিতা বা দায়বদ্ধতা তাদের নেই। সংসদে যে আলোচনাগুলো হবে, তারও জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতার মাধ্যমে হবে না।’

বড় বাজেটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এই বাজেটের আলোচনা-সমালোচনা, জনগণের কল্যাণে কতটুকু হবে, সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।

পত্র-পত্রিকায় আমরা দেখেছি, অর্থনীতিবিদরা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো তারা এই বাজেটের যে বিশাল একটা অবয়ব, যেটা এই সরকার বরাবরই বড় অবয়ব দিচ্ছে, বড় একটা বাজেট দিচ্ছে যেটা সব সময় বলা হচ্ছে ইট ইজ হাইলি অ্যামবিশাস।’

‘এবার বলা হচ্ছে যে, ঝুঁকি নিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী নিজেই বলছেন যে, শেষ বাজেট ঝুঁকি নিয়ে দিচ্ছেন। ভালো কথা। যারা বাজেট দিচ্ছে, তাদের সেই বৈধ্যতা আছে কি না। বৈধ্যতা নেই বলেই আজকে আর্থিক ক্ষেত্রে যত সংকট সৃষ্টি হচ্ছে,’ বলেন বিএনপি মহাসচিব।

অতীতের বাজেট বাস্তবায়নের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা লক্ষ্য করেছেন, ব্যাংকিং সিস্টেম, শেয়ার মার্কেট এবং এডিবির (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) যে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া, সেটাও কিন্তু চূড়ান্তভাবে হচ্ছে না। কয়েকদিন আগে আমরা পত্রিকায় দেখেছি, গতবছরের বাজেটের ৫৫% থেকে ৬০%  এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। তাহলে এই বড় বাজেট দেওয়ার যুক্তিটা কী থাকতে পারে?’

তিনি বলেন, ‘এই বাজেটের লক্ষ্যটা কী? লক্ষ্যটা এমন হতো জনগণের কল্যানের জন্য, তাদের আয় বৃদ্ধির জন্য তাহলে একটা কথা ছিল। আমরা দেখছি যে, ভ্যাট (মূল্যসূচক কর) এর মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কেটে নেওয়া হচ্ছে এবং অনুৎপাদক খাতে ব্যয় বেশি হচ্ছে।’

‘একই সঙ্গে পাওয়ার প্ল্যান্টের ক্ষেত্রে দুর্নীতি চরম পর্যায় চলে গেছে এবং কোনো জবাবদিহিতা নেই, কোনো টেন্ডার হয় না, এই বিষয়গুলো রয়েছে। সেজন্য আমরা মনে করি, আমাদের দেশের আর্থিক যে নিয়ন্ত্রণ বা আর্থিক যে ব্যবস্থাপনা যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

আসছে বাজেটেও বিশাল ঘাটতি থাকবে, সেক্ষেত্রে জনকল্যাণ কতটুকু সম্ভব হবে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘খুব কঠিন এটা। এটা শুধু কঠিন নয়, অসম্ভব ব্যাপার।’

এ সময়ে সংগঠনের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক নুরে আরা সাফা প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>