এই রত্ন হেলায় হারিয়েছে বার্সেলোনা!

আপডেট : May, 10, 2017, 2:04 pm

বার্সেলোনার এমএসএন আছে। তবু এই মৌসুমে বারবার ধুঁকেছে তারা। কোথায় যেন একটা শূন্যতা। একটা ‌‘মিসিং লিংক’। দ্রুতই সেই শূন্যতা আবিষ্কারও করেছে তারা। বার্সার দুই প্রান্তের দুই ফুলব্যাক কাজ করছে না ঠিকমতো। এক প্রান্তের শূন্যতার ধাক্কা যেন গিয়ে লেগেছে দুই প্রান্তেই। বার্সার হয়তো এমএসএন আছে, কিন্তু দানি আলভেস যে নেই!
বার্সেলোনা কী রত্ন হারিয়েছে, সেটা আরও একবার দেখিয়ে দিলেন আলভেস। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের দুই লেগের আসল নায়ক তো তিনিই। জুভেন্টাসের চারটি গোলেরই মূল কারিগর। কাল তাঁর ঝলকে ফিরতি লেগে মোনাকোকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে চলে গেছে জুভেন্টাস। ৩৪ বছর বয়সী আলভেস যে জাদু দেখিয়েই চলেছেন। ৩৩ মিনিটে মানজুকিচকে দিয়ে গোল করানোর পর ৪৪ মিনিটে আর নিজে পার্শ্বনায়ক হয়ে থাকতে চাইলেন না। এবার গোলই করলেন।
বার্সা-সমর্থকদের অস্ফুট আক্ষেপ আরও দীর্ঘায়িত হলো—আহা, আলভেস যদি থাকত।
বার্সেলোনায় আট বছর কাটিয়ে একেবারে বিনা মূল্যে ২০১৬ সালে জুভেন্টাসে নাম লেখান আলভেস। তখনই প্রথম মুখ খোলেন। এত দীর্ঘদিন যে ক্লাবকে উজাড় করে দিলেন, তার বিনিময়ে কী দিল সেই ক্লাব? ঠিক ক্লাব নয়, তাঁর তোপের মুখে ছিল ক্লাবের কর্মকর্তারা। চুক্তির শেষ দিকে ক্লাব আগ্রহই দেখায়নি তাঁর ব্যাপারে। বারবার এজেন্টের পক্ষ থেকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে, আলভেস কিন্তু চলে যাবে, তোমরা কী করছ? কিছু ভাবছ? কিন্তু

কোনো সাড়া নেই। আলভেসকে যে বার্সা অপাঙ্‌ক্তেয় ভাবছে, সেটা নীরব থেকেই বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন ক্লাবের কর্তারা!
বার্সেলোনার কৌশলগত একটা ভুল ছিল। উয়েফা তাদের দীর্ঘ মেয়াদে ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় অধিকতর তরুণ খেলোয়াড়দের দিকে ঝুঁকতে চেয়েছিল ক্লাবের কর্তারা। অ্যালেক্স ভিদালকে আনা হয়েছে সেভিয়া থেকে, ঠিক যেমন আলভেসকে আনা হয়েছিল। সার্জি রবার্তোকে তুলে আনা হয়েছে ক্লাবের একাডেমি থেকে। কিন্তু বুড়ো আলভেসের শূন্যতা পূরণের ধারেকাছেও যেতে পারেননি এই দুজন।
আলভেস নীরবে বিদায় নিয়েছেন, এমনকি একটা বিদায় সংবর্ধনা পর্যন্ত জোটেনি। মাঠে প্রিয় ন্যু ক্যাম্পকে বিদায়ী অভিবাদনও দেওয়া হয়নি। এক টাকাও খরচ না করে তাঁকে দলে ভেড়াল জুভেন্টাস। আর তখনই আবিষ্কার করা গেল, বার্সায় কী বিরাট শূন্যতা রেখে গেছেন এই ব্রাজিলিয়ান!
অথচ বার্সেলোনার ইতিহাসে ট্রফি সংখ্যায় দ্বিতীয় সফলতম খেলোয়াড় তিনি। ২৩টি বড় ট্রফি জিতেছেন, সামনে আছেন কেবল লিওনেল মেসি। এই মেসির সঙ্গে অদ্ভুত এক সম্পর্ক ছিল তাঁর মাঠে। কখনো কখনো মেসির বেশির ভাগ গোলের উৎস ছিলেন আলভেসই।
এবারের কোয়ার্টার ফাইনালে সেই বার্সার মুখোমুখি হলেন। দুই লেগেই স্বদেশি নেইমারকে একবারে বোতলবন্দী করে ফেললেন। বার্সা ১৮০ মিনিটে জুভেন্টাসের জালে একটি গোলও পাঠাতে পারল না!
আজ সেই বার্সা যখন চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে পড়ে, লিগ শিরোপাকেও অনিশ্চিত করে ফেলেছে, আলভেস তখন জুভেন্টাসের হয়ে ট্রেবল–জয়ের পথে! সূত্র: গোল।

Facebook Comments