এবারের রমজানে মিলতে পারে কিছুটা স্বস্তি, যদি…

আপডেট : May, 27, 2017, 9:41 am

পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে আর দুই দিন পর। দিনের ব্যাপ্তি দীর্ঘ থাকায় এবার রমজান মাসে ১৫ ঘণ্টারও বেশি সময় রোজা থাকতে হবে। রোজাদারদের এ সময় ক্লান্তি দূর করে স্বস্তি এনে দিতে পারে বর্ষাকালের বৃষ্টি।

রমজান মাস শুরু হতে পারে ২৮ মে থেকে (চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল), ৩০টি রোজা হলে ঈদুল ফিতর ২৭ জুন। অর্থাৎ ২৬ জুন পর্যন্ত শেষ হবে রমজান মাস। তাই প্রায় পুরো রমজান মাস থাকবে বর্ষাকালে।
তবে বর্ষাকালের হিসাব দুই ধরনের।

বাংলা বর্ষপঞ্জিতে আষাঢ় ও শ্রাবণ মাস মিলিয়ে বর্ষাকাল। সেই হিসাবে পয়লা আষাঢ় শুরু হয় জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে। আর শ্রাবণ বিদায় নেয় মধ্য আগস্টে।
কিন্তু আমাদের দেশে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের কাছে বর্ষাকালের সময় হিসাবটা দ্বিগুণ। ইংরেজি বর্ষপঞ্জিকা অনুযায়ী, তাঁদের কাছে বর্ষাকাল শুরু হয় ১ জুন, শেষ হয় ৩০ সেপ্টেম্বর।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই চার মাসে বাংলাদেশের মোট বৃষ্টিপাতের শতকরা ৭১ ভাগ বৃষ্টি হয়ে থাকে।

বর্ষাকালে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টি বেশি হয়ে থাকে। বঙ্গোপসাগর থেকে আসা মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের টেকনাফ উপকূল ছুঁয়ে ফেলে সাধারণত ১ জুন। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর থেকে সৃষ্ট মৌসুমি বায়ু উত্তর-পূর্ব দিকে গিয়ে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের টেকনাফের পাহাড়ি অঞ্চলে বাধা পায়। বাধা পেয়ে এটি পুবালি বাতাস হয়। এরপর উত্তর দিকে এগিয়ে যায়। যেদিন এই বায়ু বাংলাদেশের ওপর আবির্ভাব হয়, সেদিন থেকেই বর্ষাকাল শুরু হয়। মৌসুমি বায়ুর দীর্ঘদিনের গতিপ্রকৃতি পর্যালোচনা করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক। তিনি বলেন, ‘মৌসুমি বায়ু বঙ্গোপসাগরের জলরাশি থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প বয়ে নিয়ে আসে, যা থেকে মেঘমালার সৃষ্টি হয়। এই মেঘমালার কারণে বাংলাদেশে বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার ওপর এই বৃষ্টিপাত নির্ভর করে থাকে।

২০১৬ সালের ১ জুন টেকনাফের দিকে আসে মৌসুমি বায়ু। দিন সাতেক পর ৬ থেকে ৭ জুন টেকনাফ উপকূল

পেরিয়ে যায় এটি। ৯ থেকে ১০ জুন মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের মধ্যভাগে চলে আসে। ১৭ জুন সারা দেশে এর বিস্তার ঘটে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অনেক সময় ২৮ মের দিকে মৌসুমি বায়ু টেকনাফসহ বাংলাদেশ উপকূলের দিকে চলে আসে। চলতি বছরের ২২ মে মৌসুমি বায়ুর অবস্থান ছিল মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন অঞ্চলে।

জুনে বৃষ্টির মাত্রা

বাংলাদেশ অঞ্চলে মৌসুমি বায়ুর চার মাস অবস্থানের সময় বেশি বৃষ্টি হয় জুলাই মাসে। ১৯৭০ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের হিসাব করে এমন তথ্য পেয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা। জুলাই মাসে গড় বৃষ্টির পরিমাণ ৫২৩ মিলিমিটার। এটিকে স্বাভাবিক বৃষ্টি হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। এরপর আসে জুন মাস। এই মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টির মাত্রা ৪৫৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার। আগস্টে ৪২০ দশমিক ৪ ও সেপ্টেম্বর মাসে ৩১৮ দশমিক ২ মিলিমিটার। তবে ২০১৬ সালের জুন মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টি পরিমাণ কমে হয়েছিল ৩৬৩ মিলিমিটার। আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এই কমে যাওয়া মানে বৃষ্টি কমে গেছে তা নয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৩৫টি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের মধ্যে ২০০১ সালের ১৪ জুন সন্দ্বীপে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছিল ৫৯০ মিলিমিটার।
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টির ধরন

জুন মাসে এবার স্বাভাবিক বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে রেখেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সে অনুযায়ী এর পরিমাণ হতে পারে ৪৫৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার। এর সঙ্গে দু-একটি নিম্নচাপ ও লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে।
বৃষ্টি কমবেশি যা-ই হোক, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বর্ষাকালে টানা এক থেকে তিন দিন, কখনো কখনো টানা পাঁচ দিন থেকে সাত দিনও বৃষ্টি হয়ে থাকে। এর ফলে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে।
আবুল কালাম মল্লিক বলেন, জুনে দিনের ব্যাপ্তি দীর্ঘ হয়। সূর্যেও তেজ থাকে প্রচণ্ড। কিন্তু আকাশে মেঘমালা থাকায় সূর্য ঢাকা থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এতে কিরণকাল ৮ ঘণ্টা থেকে ১০ ঘণ্টায় নেমে আসবে। তাপমাত্রাও কমে আসবে। ফলে রোজাদারেরা গরমে কিছু স্বস্তি হয়তো পাবেন।
তবে টানা বৃষ্টির পর আবার গরম বেড়ে যেতে পারে বলে জানান তিনি।

Facebook Comments