এবার খুশি তো ভারত!

জুন ২৪ ২০১৭, ০০:০৯

স্পোর্টস ডেস্ক: গত এপ্রিলে আইসিসির দুবাইয়ের সভায় ১৩-১ ভোটে হেরে জোর ধাক্কা খেয়েছিল ভারতীয় বোর্ড। বিগ থ্রি মডেল বাতিল হয়ে ওই বৈঠকেই আইসিসি নতুন আর্থিক কাঠামোর প্রস্তাব করে। আর নতুন এই আর্থিক কাঠামোয় আইসিসির রাজস্ব থেকে ভারতের প্রাপ্য কমে যায় ১৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগে যেখানে আট বছরে পেত ৫৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, সেখানে অঙ্কটা নেমে আসে ২৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। প্রস্তাবকৃত সেই আর্থিক কাঠামো খানিকটা সংশোধন করে গতকাল আইসিসির বোর্ড মিটিংয়ে চূড়ান্ত হয়েছে। ২০১৬-২০২৩ মেয়াদে ভারতের ভাণ্ডারে যাবে ২৯৩-এর স্থলে ৪০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ভারতের অর্থের পরিমাণ বাড়াতে গিয়ে অবশ্য অন্যদের অর্থ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কাটছাঁট করা হয়েছে আইসিসির ব্যয়েও। তবে প্রস্তাবকৃত অর্থের চেয়ে চূড়ান্ত প্রাপ্য বেশি হওয়ায় ভারত খুশি কি অখুশি, সেটি স্পষ্ট নয়। মূলত এপ্রিলের মিটিংয়ে বিসিসিআইকে যখন ২৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রস্তাব করা হয়, ভারত তখন জোর গলায় বিরোধিতা করে। কিন্তু বাকি সব দেশের অর্থের অঙ্ক বেড়ে যাওয়ায় কেউই ওই প্রস্তাবের বিপক্ষে কথা বলেনি। নিজেদের দাবিমতো অর্থ নিশ্চিতে মরিয়া ভারত ৫৭০ মিলিয়ন না দিলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দল না পাঠানোর হুমকিও দেয়। আইসিসির চেয়ারম্যান শশাঙ্ক মনোহর তখন প্রস্তাবিত অর্থের সঙ্গে আরও একশ’ মিলিয়ন জোগাড় করে দেওয়ার আশ্বাস দেন ভারতকে। তাৎক্ষণিকভাবে সেই প্রস্তাবও মানেনি বিসিসিআই। তাদের পাল্টা প্রস্তাব ছিল, বাকি সব সদস্য দেশকে প্রস্তাবকৃত অর্থ দিয়েও তাদের ৫৭০ মিলিয়ন দেওয়া সম্ভব। যেহেতু ক্রিকেট বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় বাজার ভারত, তাই তাদেরই বেশি প্রাপ্য। সহযোগী
দেশগুলো থেকে কোনো আয় আসে না বিধায় তাদের জন্য আলাদা করে বরাদ্দ করারও দরকার নেই। (প্রস্তাবকৃত আর্থিক কাঠামোয় সহযোগী দেশগুলোর জন্য রাখা হয়েছিল ২৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।)

তবে আইসিসিতে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়া ভারতকে শেষ পর্যন্ত মনোহরের প্রস্তাবই ‘মেনে’ নিতে হয়েছে। মনোহরের কথা অনুযায়ী তাদের পাওয়ার কথা ৩৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, এখন পাবে ৪০৫ মিলিয়ন। অর্থাৎ মনোহরের প্রস্তাবের চেয়ে যা মাত্র ১২ এবং প্রস্তাবকৃত কাঠামোর চেয়ে ১১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বেশি। ভারতের জন্য এই অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে অন্যদের প্রাপ্য আয় কমানো হয়েছে। জিম্বাবুয়ে ছাড়া পূর্ণ সদস্য বাকি সব দেশেরই চার মিলিয়ন করে কমেছে। বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, উইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলংকা ও পাকিস্তান_ এই সাত দেশ আট বছরে পাবে ১২৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, প্রস্তাবে যা ছিল ১৩২। আর ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড পাবে ১৩৯, প্রস্তাবে তাদের জন্য ছিল ১৪৩। জিম্বাবুয়ে আগের মতোই ৯৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাবে। এ ছাড়া সহযোগী দেশগুলোর প্রস্তাবিত বরাদ্দ ৪০ মিলিয়ন কমিয়ে ২৪০ মিলিয়ন করা হয়েছে। আইসিসির ব্যয় থেকেও কমানো হয়েছে ১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সবার আয় কমানোর যোগফলেই ভারতের জন্য ১১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। আইসিসির নতুন এই আর্থিক কাঠামোতে পূর্ণ সদস্যদের জন্য আইসিসি যে বরাদ্দ দিয়েছে, তার ২৬ দশমিক ২ শতাংশই পাচ্ছে বিসিসিআই। অথচ ‘তিন মোড়ল’ যুগেও ভারত পেত মাত্র ২২.৮ শতাংশ। তবে বিসিসিআই এ নিয়ে কতটা খুশি, তা বোঝা যাবে লন্ডনের মিটিং শেষে বোর্ড কর্মকর্তারা ভারতে ফেরার পরে।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>