এবার বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ৪৫ কোটি টাকার কাজে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া

মে ০৯ ২০১৭, ০৭:৫৫

বরিশাল সিটি করপোরেশন সড়ক ও নালা সংস্কারের জন্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করেছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় ইলেকট্রনিক টেন্ডার (ই-টেন্ডার) আহ্বানের নির্দেশনা দিয়েছিল। কিন্তু তা উপেক্ষা করা হয়েছে। তা ছাড়া সিটি করপোরেশনের মাসিক সভায় এ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

প্রথম আলো’র অনলাইন সংস্করনে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিটি করপোরেশন শাখা-১ গত বছরের ১ আগস্ট এক চিঠিতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সব উন্নয়নকাজ ই-টেন্ডারের মাধ্যমে করার নির্দেশনা দেয়। ওই শাখার উপসচিব খলিল আহমদের সই করা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘বরিশাল সিটি করপোরেশনের ক্রয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সব ক্রয় কার্যক্রম ই-টেন্ডারিংয়ের মাধ্যমে করার নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’ একই তারিখে তাঁর স্বাক্ষরিত আরেকটি চিঠিতে বলা হয়, ‘বরিশাল সিটি করপোরেশনের সব উন্নয়ন প্রকল্প মাসিক সভার সিদ্ধান্ত ব্যতীত গ্রহণ না করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’
কিন্তু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে প্রায় ৪৫ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। গত ২১ এপ্রিল জাতীয় দৈনিকে ৫৩টি গ্রুপে সড়ক ও নালা সংস্কারের জন্য এ দরপত্র আহ্বান করা হয়।
সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এ কে এম মরতুজা আবেদীন বলেন, ই-টেন্ডার করা হলে দরপত্র কিনতে টাকা লাগে না। কাজ ভাগাভাগি করে নেওয়ার সুযোগও কম থাকে। অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ কমে যায়।
২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এস এম জাকির হোসেন বলেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে মাসিক সভায় আলোচনা হলেও অনুমোদন কীভাবে হয় তা আমরা জানি না। দরপত্র আহ্বানের বিষয়ে আমাদের জানানো হয়নি। এ কাজ ভাগ-বাঁটোয়ারা করার জন্যই

ই-টেন্ডারিং করা হয়নি।’
সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে একটা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। কিন্তু প্রকৌশল বিভাগ থেকে জানানো হয়, টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে ই-টেন্ডার আহ্বান করা সম্ভব নয়। তাই এবারও আগের মতো দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিটি করপোরেশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা থাকায় ই-টেন্ডার আহ্বানের জন্য প্রস্তুত ছিলেন প্রধান প্রকৌশলী। তিনি ই-টেন্ডারিংয়ের আহ্বানের জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু মেয়র তা চাননি। এ কারণে মেয়র তাঁকে গালমন্দ করেন। এ পরিস্থিতিতে প্রধান প্রকৌশলী এক মাসের ছুটিতে যান। এই সুযোগে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে দিয়ে গতানুগতিক পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করানো হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে মেয়র আহসান হাবিব কামাল বলেন, পদ্ধতিগত কারণে ই-টেন্ডার আহ্বান করা সম্ভব হয়নি। ই-টেন্ডারিংয়ের প্রস্তাব দেওয়ায় প্রকৌশলীকে গালমন্দ করার অভিযোগ সঠিক নয়। বরং কেন ই-টেন্ডারিং করা হয়নি, সে জন্য গালমন্দ করা হয়েছে। তা ছাড়া করপোরেশনের মাসিক সভায় উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয় না, এই অভিযোগও সঠিক নয়।
প্রধান প্রকৌশলী খান মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ‘দরপত্র সম্পর্কে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আমি এক মাসের ছুটিতে আছি।’
সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এম এ মোতালেব বলেন, ই-টেন্ডারিং করার জন্য আমাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ই-টেন্ডারিং করার জন্য সার্বক্ষণিক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ইন্টারনেট সংযোগ থাকা দরকার। সিটি করপোরেশনে সেই সুবিধা না থাকায় ই-টেন্ডারিং করা যায়নি।
বরিশালে ইন্টারনেট নিয়ে কাজ করে, এমন একটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বরিশাল সিটি করপোরেশনে যে গতির ইন্টারনেট আছে, তাতে ই-টেন্ডার আহ্বান করা হলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>