এবার শেবাচিম থেকে নবজাতক চুরি!

আপডেট : June, 4, 2017, 3:30 pm

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে মায়ের কোল থেকে এক নবজাতক চুরি হয়েছে। শিশুটি মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার খোরকী  গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন আকন ও সালমা বেগম দম্পত্তির সন্তান।

রোববার (৪ মে) ভোরে হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডের বারান্দা থেকে নবজাতকটি চুরি হয়। নবজাতক ‍চুরির খবর পেয়ে সকালে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

পরিবারের অভিযোগ, পাশের বেডের অপর এক রোগী এবং তাদের স্বজনরাই নবজাতকটিকে চুরি করে পালিয়েছেন।

নবজাতকের নানা আবদুল হক মাঝি জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে তার মেয়ে সালমাকে শেবাচিম হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। ওয়ার্ডের ভেতরে রোগী বেশি থাকায় তারা সামনের বারান্দায় বিছানা পান। বৃহস্পতিবার রাতেই সিজার করে পুত্র সন্তানের জন্ম দেন সালমা।

ভোর রাতে সেহরির সময় তিনি হাসপাতালের বাইরে যান। কিছুক্ষণ পরে ফিরে এসে দেখতে পান মায়ের কোলে নবজাতক নেই। তাদের বেডের পাশে থাকা রিনা বেগম নামে অপর রোগীও উধাও হয়ে গেছেন বলে জানান আবদুল হক।

নবজাতকের মা সালমা বেগম বলেন, রিনা নামের ওই নারী অনেকদিন ধরেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার (০৩ জুন) রাতে হঠাৎ করেই তার ফুফু এবং ফুফাতো বোন

পরিচয়ধারী দুই নারী আসেন তাকে দেখতে। রাতে তারাও রোগীর সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু  সকাল থেকে কারো দেখা মিলছে না।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাত মাসের অন্ত‍ঃসত্ত্বা এবং রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা  নিয়ে ভর্তি হন রিনা বেগম। তিনি বরগুনা জেলার আমলতার পাড় নামক এলাকার বাসিন্দা সোলায়মানের স্ত্রী বলে হাসপাতালের ভর্তি ব্যবস্থাপত্রে উল্লেখ করেছেন।

নবজাতকের বাবা আনোয়ার হোসেন আকন বলেন, নিখোঁজ থাকা রোগী ছাড়াও পাশের বেডের অপর এক রোগীর শাশুড়ি ও মেহেন্দিগঞ্জের ভাষানচর এলাকার বাসিন্দা বিলকিসকেও তাদের সন্দেহ হচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. এসএম সিরাজুল ইসলাম জানান, রাত সাড়ে ৪টা থেকে ভোর ৬টার মধ্যে যে কোনো সময় নবজাতককে চুরি করা হয়েছে। যে স্থান থেকে নবজাতক চুরি হয়েছে সেখানে সিসি ক্যামেরা না থাকলেও আশপাশের সিসি ক্যামেরাগুলোর ধারণ করা ভিডিও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. আওলাদ হোসেন জানান, নবজাতকের বাবা থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি নবজাতকের সন্ধান পেতে পুলিশের দুটি টিম কাজ শুরু করেছে।

Facebook Comments