এবার সাংবাদিককে মারধর করলেন তালতলী উপজেলা চেয়ারম্যান মিন্টু

মার্চ ২৯ ২০১৭, ১৮:২৭

 

বরগুনা প্রতিনিধি: সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক ও নিরীহি রাখাইন নির্যাতনের পর এবার তালতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান মিন্টুর রোষানলের স্বীকার হলেন সাংবাদিক।

২৯ মার্চ বুধবার দুপুরে বরগুনার তালতলীতে চলমান ই্উনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্ধের নিউজ সংগ্রহ করতে গিয়ে তালতলী উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান মিন্টু ও আওয়ামীলীগ কর্মীদের হাতে শারিরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন এস.এ টিভি ও দৈনিক মানবকন্ঠের বরগুনা প্রতিনিধি নুরুজ্জামান ফারুকসহ তিন সাংবাদিক। এসময় এস.এ টিভির ক্যামেরা ছিনতাই করে নেয় হামলাকারীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সুত্রে জানাগেছে , চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্ধ দেওয়ার ফুটেজ সংগ্রহ করার জন্য বুধবার বেলা ১২টার দিকে তালতলী উপজেলা নির্বাচন অফিসে যায় এসএ টিভি ও দৈনিক মানবকন্ঠের বরগুনা প্রতিনিধি মো. নুরুজ্জামান ফারুক। তিনি সেখানে উপস্থিত জনতা ও প্রার্থীদের প্রতীক নিয়ে যাওয়ার ফুটেজ তোলার জন্য নির্বাচন অফিসের উপরে ওঠেন। এমন সময় সেখানে তালতলী উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান মিন্টু উপস্থিত হয়ে কোন কারন ছাড়াই মো. নুরুজ্জামান ফারুককে এলোপাথারি মারধর শুরু করেন। এসময় উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে থাকা আওয়ামীলীগ কর্মীরা নুরুজ্জামান ফারুকের ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

এর আগে প্রতীক বরাদ্ধের নিউজ সংগ্রহ করার জন্য বরিশাল সময়ের তালতলী উপজেলা প্রতিনিধি মো. মিজানুর রহমান ও দৈনিক সোনালী খবর ও নিউজ টুডের উপজেলা প্রতিনিধি খায়রুল ইসলাম নির্বাচন অফিসে গেলে উপজেলা চেয়ারম্যান, বাসার শিকদার ও শামিম পাটোয়ারিসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা এদের উপর হামলা করে

নগদ অর্থ, মোবাইল, ক্যামেরা ও ট্যাব ছিনিয়ে নেয়।

সাংবাদিক মো. নুরুজ্জামান ফারুক বলেন, আমি সংবাদ সংগ্রহের কাজে নির্বাচন অফিসে গিয়ে তথ্য ও ফুটেজ সংগ্রহের সময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কোন কারণ ছাড়াই আমার উপর চড়াও হয়ে এলোপাথারি মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে স্থানীয়রা থামিয়ে দিলেও আবারো নিচে নেমে গিয়ে মারধর শুরু করেন। এসময় উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে থাকা সন্ত্রাসী বাহিনী আমার কাছ থেকে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা আমাকে উপজেলা চেয়ারম্যানের রোষানল থেকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাসায় নিয়ে আসে।

তিনি আরো বলেন, বিষয়টি আমি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি। লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

এবিষয়ে অভিযুক্ত তালতলী উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান মিন্টুর কাছে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি কারো গায় হাত তুলিনি। সাংবাদিকদের সাথে উপস্থিত আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের সাথে ধাক্কাধাক্কি বাজে একপর্যায়ে আমি সেখানে উপস্থিত হয়ে এসএস টিভির প্রতিনিধিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি।

বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক(পিপিএম) বলেন, এসএ টিভির সাংবাদিকসহ তিন সাংবাদিককে মারধরের বিষয়টি আমি মৌখিকভাবে শুনেছি। তবে এবিষয়ে আমি লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

প্রসঙ্গত, এর আগে উপজেলা চেয়ারম্যান মিন্টুর বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও), শিক্ষক ও নীরিহ মানুষকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে নিরিহ রাখাইনদের উপর নির্যাতন করে তাদের জমি দখল, টেন্ডারবাজি ও সাধারন মানুষকে হয়রানীর অভিযোগ রয়েছে।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>