এমভি গ্রীন লাইন ২ : ছয় মাসে তিন দূর্ঘটনা!

অক্টোবর ২১ ২০১৭, ১৮:৩৩

কখনো ঢেউয়ের তোরে স্টিয়ারিং হুইল ভাঙ্গে অাবার কখনো প্রচন্ড বাতাসে দরজার লক ভেঙ্গে দরজা খুলে যায়। কখনো কার্গোর সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ। এসব যেন বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে চলা এমভি গ্রীন লাইন ওয়াটার ওয়েজের নিত্যদিনের ঘটনা। অার এসব ঘটনায় টনক নড়ছে না কর্তৃপক্ষের।যার ফলে ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে ক্রমান্বয়ে অনিরাপদ হয়ে উঠছে এমভি গ্রীন লাইন।

হিসেবমতে, এ বছরের সর্বশেষ ছয় মাসে তিনবার দূর্ঘটনায় পতিত হয়েছে গ্রীন লাইন ওয়াটার ওয়েজের এমভি গ্রীন লাইন ২। অার এর প্রতিবার প্রাননাশের অবস্থার সৃষ্টি হলেও ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছে জাহাজটিতে অবস্থান করা যাত্রীররা।

একের পর এক দূর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে জাহাজটি।অার মৃত্যূর দুয়ার থেকে ফিরে অাসছেন যাত্রীরা। গত ২২ এপ্রিল ২০১৭ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতি দুই মাসে একবার দূর্ঘটনায় পড়েছে এমভি গ্রীন লাইন ২।

 

বরিশাল লাইভের সন্মানিত পাঠকদের জন্য এমভি গ্রীন লাইন – ২ সর্বশেষ যে তিনটি দূর্ঘটনায় পতিত হয়েছে তার বিস্তারিত তথ্য নিয়ে অাজকের বিশেষ প্রতিবেদন।

এমভি গ্রীন লাইন – ২ এ বছরের ২২ শে এপ্রিল থেকে অাজ ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ছয় মাসে তিন বার দূর্ঘটনায় পতিত হয়েছে। যার সর্বশেষ দূর্ঘটনাটি ঘটেছে অাজ।

অাজ ২১ শে অাক্টেবর ঢাকা-বরিশাল রুটে চাঁদপুরের মেঘনা মোহনা অতিক্রম করার সময় গ্রীনলাইন-২ একটি লঞ্চ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। শনিবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন প্রায় ৫ শতাধিক যাত্রী।

প্রত্যক্ষদর্শী মুহাম্মদ ইমরান জানায়, প্রচণ্ড বাতাসে প্রথমে লঞ্চের সামনের অংশের গ্লাস ফেটে

যায়। তার কিছুক্ষণ পরেই লক ভেঙে প্রধান গেটটি খুলে যায়। এতে গেটটি আর বন্ধ করা সম্ভব হয়নি এবং প্রচণ্ড ঢেউয়ে ভেতরে পানি প্রবেশ করতে থাকে। এ পরিস্থিতিতে যাত্রীরা চিৎকার দিতে থাকে। পরে অনেকটা জোরপূর্বকভাবে লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করে চাঁদপুর ঘাটে ভেড়ানো হয়।

এর অাগে এবছরের ১৭ অাগস্ট আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে তীব্র ঝড়ের কবলে পড়ে দ্রুতগামী জাহাজটির সুকান (স্টিয়ারিং হুইল) ভেঙ্গে যাওয়ার বরিশালের হিজলা সংলগ্ন মেঘনার শাখা নদীর মিয়ার চরে আটকা পড়েছিল বরিশাল থেকে ঢাকাগামী ওয়াটার বাস সার্ভিস গ্রীন লাইন-২।

পরে আটকা পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করে একই কোম্পানির গ্রীন লাইন-৩ নামে অপর একটি জাহাজ দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল।

এর ভিতর সবচেয়ে মারাত্মক দূর্ঘটনাটি ঘটেছিল এ বছরের ২২ শে এপ্রিল।
এদিন বরিশাল সদর উপজেলার কীর্তনখোলা নদীর বেলতলা খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় বালুবাহী একটি কার্গোর ধাক্কায় এমভি গ্রীন লাইন-২ লঞ্চের তলা ফেটে গিয়েছিল।অার লঞ্চটি তাৎক্ষণিকভাবে তীরের নেয়ায় দুই শতাধিক যাত্রী প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন।

ঐ ঘটনায় কার্গোটি পানিতে ডুবে গেছে। একই সঙ্গে গ্রীন লাইন-২ লঞ্চের নিচের অংশও পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল।

উল্লেখ্য, ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটে ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর চলাচল শুরু করে ক্যাটাম্যারান টাইপের চেয়ার সিটের ‘এমভি গ্রীন লাইন-২’ ও ‘এমভি গ্রীন লাইন-৩’ নামের দুটি জাহাজ।দ্রুতগতির তকমা লাগানো এ জাহাজে মাত্র পাঁচ ঘণ্টায় গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা বললেও তা গন্তব্যে পৌছাতে সাড়ে ছয় ঘন্টার বেশি সময় লাগে। এছাড়া প্লাস্টিকের চেয়ারে করে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে জাহাজটির কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

বিস্তারিত অাসছে…

 

Facebook Comments