এয়ার হোস্টেস বা কেবিন ত্রু হতে চাইলে

আপডেট : July, 29, 2017, 11:38 pm

এয়ারলাইন্সে ভিড় করছে তারুণ্য। কেননা, এ কর্মক্ষেত্রে তরুণদের জন্য ছড়িয়ে রয়েছে অনেক স্মার্ট ও পছন্দের পেশা। এর মধ্যে এয়ার হোস্টেস বা কেবিন ত্রুক্র পেশাটির প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ তুলনামূলক বেশি। এ পেশায় পাওয়া যায় ভিন্ন রকম অ্যাডভেঞ্চারের স্বাদ। এ ক্ষেত্রে গ্গ্ন্যামার ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বটে; তবে থাকা চাই ইচ্ছাশক্তি, আত্মবিশ্বাস আর ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতাও। তাই তো দিন দিন ক্যারিয়ার হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তাই এখানে বাড়ছে প্রতিযোগিতাও। ভালো বিষয় হলো, এ জন্য দীর্ঘ প্রস্তুতি না থাকলেও চলে। কিছু প্রশিক্ষণ কোর্স করেও বাংলাদেশ বিমান ও বেসরকারি এয়ারলাইন্সে চাকরির সুযোগ নেওয়া যায়। আশার কথা, শুধু বাংলাদেশ নয়; বিশ্বের অন্যান্য এয়ারলাইন্সে সাফল্যের এ ক্যারিয়ারে যুক্ত হয়েছেন ও হচ্ছেন বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা।

থাকা চাই

এয়ার হোস্টেস বা কেবিন ত্রুক্র হিসেবে ক্যারিয়ার বেছে নিতে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে ভালো। সেই ক্ষেত্রে এইচএসসিতে প্রতি বিষয়ে বি গ্রেড এবং একইভাবে ‘এ’ লেভেল পাস করতে হবে। তবে কখনও কখনও গ্র্যাজুয়েশন এবং মাস্টার্সও চায় চাকরিদাতা কর্তৃপক্ষ। আর বয়সটাও এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আপনার বয়স হতে হবে নূ্যনতম ১৮ বছর। থাকা চাই বাংলাদেশি পাসপোর্ট। স্মার্টনেস, ভালো ইংরেজি বলার দক্ষতা এগিয়ে রাখবে এয়ার হোস্টেস বা কেবিন ত্রুক্র পেশার প্রতিযোগিতায়। উপস্থিত বুদ্ধি, ধৈর্য ও সহনশীলতা, যে কোনো পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা, বিরক্তিকর মুহূর্তেও নিজেকে স্বাভাবিক রাখার ক্ষমতা এই চাকরিতে সফলতা এনে দেবে।

বেতন-ভাতা

ক্যারিয়ারের শুরুতে আপনি সাধারণত ৩৫-৫০ হাজার টাকা মাসিক বেতন পাবেন। কোনো কোনো এয়ারলাইন্স কোম্পানি এ ক্ষেত্রে বেতনকে আরও বেশি গুরুত্ব দেয়। তারা ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত বেতন দিয়ে থাকে শুরুতেই। পাশাপাশি পৃথিবীর যে দেশেই যান না কেন, সেখানে আপনার জন্য থাকবে থাকা-খাওয়া ও ফ্লাইং আওয়ারভিত্তিক ভাতা। এ ছাড়া অন্যান্য পেশার মতো এখানেও আবাসন খরচ, প্রভিডেন্ট ফান্ড, মেডিকেল ভাতাসহ রাজ্যের সুযোগ-সুবিধা তো রয়েছেই!

কাজের মানচিত্র

এখানে আপনার কাজটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। একটি এয়ারলাইন্স কোম্পানিকে ভালো অবস্থানে নেওয়া আবার সেই প্রতিষ্ঠানকে টেনে মাটিতে নামানোর কিন্তু অনেকটাই নির্ভর করে আপনার ওপর! আপনার কাজ হচ্ছে বিমানে বহনকারী যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া

ও সেবা সুনিশ্চিত করা। এটাই আসলে আপনার প্রধান কাজ। এ ছাড়া বিমানের ওঠানামা সংক্রান্ত সব তথ্য পাইলটের হয়ে যাত্রীদের জানাতে হবে আপনাকেই।

পরিচ্ছন্নতা, খাবার-দাবারের সরঞ্জাম পেঁৗছানো, জরুরি ইকুইপমেন্ট, ফার্স্ট এইড আগে থেকেই ঠিক রাখাও আপনার দায়িত্ব। বিমানে ওঠার পর যাত্রীদের টিকিট মিলিয়ে দেখা, সিট দেখিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের আসন নিশ্চিত করাসহ বিমান আকাশে ওড়ার আগে যাত্রীদের সিটবেল্ট লাগাতে বলা এবং কেবিন লাগেজ সিটে পেঁৗছাতে সহায়তা করা- এসব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে আপনার মাধ্যমে সুনাম অর্জন করবে এয়ারলাইন্স কোম্পানিটি। সেই সঙ্গে আপনার সুনামও ছড়িয়ে পড়বে।

৩০ থেকে ১২০ ঘণ্টা ওড়াল

এ পেশায় কাজের কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। উড়োজাহাজ আকাশে থাকা মানেই কাজ থাকবে আপনার।

এয়ারলাইন্সগুলো শুধু বিদেশের প্রধান শহরগুলোতেই ফ্লাইট পরিচালনা করে না। বরং বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরেও চালু রয়েছে কিছু ফ্লাইট। ঢাকা-চট্টগ্রাম, সিলেট, কক্সবাজার, রাজশাহী, বরিশাল, সৈয়দপুরে ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে ফ্লাইট চালাচ্ছে ঢাকা থেকে জেদ্দা, দুবাই, মাস্কাট, কুয়ালালামপুর, ব্যাংকক, কাঠমান্ডু, কলকাতাসহ অনেক শহরে। তবে আপনাকে সপ্তাহে গড়ে ৩০ ঘণ্টা কাজ করতে হবে। আর মাসে সর্বোচ্চ ১২০ ঘণ্টা ফ্লাই করার সুযোগ পাবেন।

বিদেশি এয়ারলাইন্সের ডানায়

দেশ দিয়েই আপনার ওড়াউড়ি শুরু হতে পারে। এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরে দেশের বাইরের অন্যান্য বড় এয়ারলাইন্সেও কাজ করতে পারেন। এখান থেকে আপনি যে অভিজ্ঞতা পাবেন, তা আপনার জন্য বড় হাতিয়ার হয়ে উঠবে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো এ অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেবে। পাশাপাশি ভাষাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যত বেশি দেশের ভাষা জানবেন, তত বেশি ভালো করার সুযোগ পাবেন এ পেশায়।

গুরু দায়িত্ব

পেশা হিসেবে এটি সত্যিই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে আপনি নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন অন্য দেশের অন্য ভাষাভাষী মানুষের কাছে। আপনার ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে বিদেশিরা জানতে চাইবেন আপনার দেশ সম্পর্কে। তারা ভালো ব্যবহার পেলে দেশটাকে ভালোভাবে নেবে। অন্যদিকে, আপনার খারাপ আচরণের দায়ও কিন্তু বয়ে বেড়াতে হবে দেশকে। তাই এ পেশাকে আপন করার আগে দেশকে ভালোবাসতে শিখুন। দেশের মানুষকে ভালোবাসুন এবং দেশ সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জেনে তারপর পা বাড়ান। আকাশে উড়ে বেড়াক আপনার স্বপ্ন। সেই সঙ্গে উড়ূন আপনিও! মুক্ত বিহঙ্গের মতো সাবলীল হোক ক্যারিয়ার।

Facebook Comments