এ যেন সোনার হরিন!

লিটন বাশারঃ ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটে লঞ্চের স্পেশাল সার্ভিসের টিকেট বিক্রির নির্ধারিত দিনের আগেই টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। টিকেটের জন্য যাত্রীদের মধ্যে চলছে হাহাকার। যাত্রীরা অগ্রিম টিকেট বিক্রয়ের দিনে কাউন্টারে গিয়ে দেখতে পান টিকিট বুকিং করার আগেই শেষ হয়ে গেছে বিক্রি।

টিকিটের আশায় সুরভী লঞ্চ কাউন্টারে আসা যাত্রী মো. মেজবা উদ্দিন জানান, ১৫ জুন থেকে লঞ্চ কাউন্টারগুলো যাত্রীদের কাছে টিকিট বিক্রি শুরু করবে বলে জানানো হয়েছিল। সে অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালেই কাউন্টারে এসেছিলাম টিকেটের জন্য। কিন্ত কাউন্টার খোলার সাথে সাথেই জানানো হয় টিকিট নেই। বিক্রি শেষ হয়ে গেছে। টিকেট বিক্রির দায়িত্বরত কাউন্টারে কর্মরতদের এমন কথায় বেশ বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েন যাত্রীরা।

সুন্দরবন, কীর্তনখোলা, পারাবাত ও টিপু লঞ্চের কাউন্টার ঘুরে একই দৃশ্য দেখা গেছে। শুক্রবার তাই সাপ্তাহিক ছুটির দিনের অজুহাতে সিংহ ভাগ লঞ্চের কাউন্টারই খোলা হয়নি। যাত্রীরা দিশেহারা হয়ে ঘুরছেন একটি টিকেটের জন্য। লঞ্চের কাউন্টার ও লঞ্চ মালিকদের সেল ফোন অধিকাংশই বন্ধ। কারোরটা খোলা থাকলেও তা রিসিভ করছেন না বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেন। ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চে একটি টিকিট পাওয়া এখন যেন সোনার হরিণ।

এ ব্যাপারে লঞ্চ মালিকদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ভিআইপি, রাজনৈতিক নেতা , আমলা ও সাংবাদিকরা আগে–ভাগেই যে ভাবে কেবিনের চাহিদাপত্র পাঠিয়েছেন তাতে আর কাউন্টারে বসে টিকেট বিক্রির কোন সুযোগ নেই। তারপরও যে সব কোম্পানির একাধিক লঞ্চ স্পেশাল সার্ভিসে থাকছে তারা কিছু টিকেট বৃহস্পতিবার কাউন্টারে বসে বিক্রি করেছেন। তারা জানিয়েছেন বৃহস্পতিবারই টিকেট বিক্রি শেষ হয়ে গেছে।

কীর্তনখোলা লঞ্চের বুকিং কাউন্টার থেকে সালমা শিপিং লাইন্স এর ম্যানেজার বেল্লাল হোসেন জানান, আমরা ১০ জুন থেকে ঈদ স্পেশাল সার্ভিসের টিকিট বিক্রি শুরু করেছি। এখন আমাদের হাতে স্বল্প কিছু টিকিট রয়েছে। তাও নিয়মিত যাত্রী ও ভিআইপিদের আগে ভাগে বুকিং দেওয়া রয়েছে। যদি তারা টিকেট গুলো না নেন তবেই সাধারন যাত্রীদের কাছে বিক্রি করা সম্ভব হবে। নতুবা কাউন্টার থেকে আর সাধারন যাত্রীদের কাছে টিকেট বিক্রির কোন সুযোগ নেই।

টিপু-৭ ও ফারহান লঞ্চের ম্যানেজার লিটু

মিয়া জানান, তাদের টিকিট বিক্রি শেষ পর্যায়ে। স্পেশাল সার্ভিস শুরুর দিন থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ঢাকা থেকে বরিশালগামী তাদের সকল লঞ্চের টিকিটই বিক্রি প্রায় শেষ।

সুরভী লঞ্চের কাউন্টার থেকে ম্যানেজার রাকিব হোসেন জানান, তারা ৬ জুন থেকে যাত্রীদের চাহিদা পত্র গ্রহণ করেছেন। ইতিমধ্যেই তারা চাহিদাপত্র অনুযায়ী তাদের সাধ্যের মধ্যে নির্ধারিত যাত্রীদের টিকিট সরবারহ করতে শুরু করেছেন। নতুন করে যারা টিকেটের জন্য হঠাৎ ১৫ জুন এসে হাজির হয়েছেন তাদের টিকেট দেওয়া সম্ভব হয়নি। রাকিব বলেন, ১৫ জুন স্পেশাল সার্ভিসের টিকেট বিক্রির কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ঐ দিন চাহিদা পত্র বা বুকিং নেওয়ার কথা বলা হয়নি। বুকিং ও চাহিদা পত্র সব লঞ্চ কর্তৃপক্ষই আগেভাগে নিয়েছেন।

সুন্দরবন লঞ্চের বুকিং কাউন্টারের ম্যানেজার জাকির হোসেন জানান, আমাদের লঞ্চের শতভাগ টিকিট বুকিং শেষ হয়েছে। এখন চাহিদা পত্র মোতাবেক নির্ধারিত যাত্রীদের শুধুমাত্র টিকিট সরবারহ করা হচ্ছে। নতুন যারা কাউন্টারে আসছেন তাদের খালি হাতে বিদায় করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই।

তিনি বলেন, ঈদ স্পেশাল সার্ভিস শুরুর দিন থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত আগের বুকিং ব্যাতিত নতুন কোন যাত্রীই আর টিকিট পাবে না সুন্দরবন লঞ্চে।

পারাবাত লঞ্চের কাউন্টারের ম্যানেজার সেলিম হাওলাদার জানান, তাদের লঞ্চের টিকিট বিক্রি প্রায় শেষ হয়েছে। ঈদের আগ পর্যন্ত টিকিট প্রত্যাশী কোন যাত্রীই আর টিকিট পাবেন না।

আগামী ২২ জুন থেকে ঢাকা-বরিশাল নৌ-রুটে শুরু হবে ঈদ স্পেশাল সার্ভিস। চলবে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত। সরকারি-বেসরকারি ছোট-বড় মিলিয়ে সর্বমোট ৩০টি নৌ-যান থাকছে এবার ঈদ স্পেশাল সার্ভিসে। এ তথ্য জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ। সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, আপাতত টিকেট নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কারোরই বাড়ি ফেরা আটকাবে না। সবাই টিকেট পাবেন এবং পরিবারের সাথে আনন্দে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন। তারা অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে কোন লঞ্চে তারা হুড়া করে না উঠার জন্য যাত্রীদের পরামর্শ দেন।

প্রসঙ্গত: শুধু ঈদ নয়। ঢাকা-বরিশাল নৌ-রুটে বিআইডব্লিউটিএ’র রুট পারমিট উপেক্ষা করে রোটেশন পদ্ধতিতে লঞ্চ পরিচালনা করায় সারা বছরই এ রুটের নৌ-যাদের মধ্যে টিকেটের জন্য হাহাকার লেগেই থাকে।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>