কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই বরিশালে কোটি টাকার ব্রিজ ধস

আপডেট : July, 6, 2017, 4:44 pm

শামীম আহমেদ বরিশালঃ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও অপরিকল্পিত সংস্কারের অভাবে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুরা বন্দরের নির্মিত কোটি টাকার ব্রিজটি মঙ্গলবার সন্ধ্যারাতে ধসে পড়েছে। এ সময় বেশ কয়েকজন পথচারী আহত হয়েছে। চার ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। জানা গেছে, বরিশাল এলজিইডির স্বল্প ব্যয় প্রকল্পের অধীনে ১৯৮৯-১৯৯০ অর্থ বছরে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে সানুহার-ধামুরা সড়কের উজিরপুর-গৌরনদী-ধামুরা খালের ধামুরা বন্দরের মাছ বাজার সংলগ্ন স্থানে ১২০ ফুট দীর্ঘ লম্বা একটি লোহার সেতু নির্মাণের প্রকল্প গ্রহন করা হয়। ১৯৯২ সালে সেতুটি নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়। ২০০৯-২০১০ অর্থ বছরে সেতুটি সংস্কার জন্য ১০ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি সংস্কারে এলজিইডি কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনার অভাব ছিল। সেতুটি সংরক্ষণে ফাউন্ডেশন বা খুটির রক্ষণা বেক্ষণ দরকার ছিল কিন্তু কর্তৃপক্ষ ফাউন্ডেশনে কাজ না করে সেতুর আরসিসি ঢালাই ভেঙে ফেলে নতুন করে আরসিসির শ্লাব ঢালাই করেছে। যাতে সেতুটি ধসে পড়ার কাজকে তরান্বিত করেছে। এ ছাড়া গত ৬মাস ধরে সেতুটি নড়বড়ে হয়ে পড়লে উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলীকে বার বার অবহিত ও লিখিতভাবে জানানো হলেও তারা সংস্কারের কোন উদ্দ্যোগ গ্রহণ করে নাই। কর্তৃপক্ষের গাফলতির কারণে কোটি টাকার সেতুটি ধসে পড়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ১২০ ফুট লম্বা সেতুটির মাঝ অংশে তিনটি স্পানের প্রায় ৬০ ফুট অংশ ধসে খালের মধ্যে বিলীন হয়েছে। ধসে পড়া সেতুর কাছে শত শত উৎসুক মানুষ ভীড় করছে। এ সময় স্থানীয় মো. আনসিুর রহমান (৩৫), ফারুক

সিকদার (৪০), রুবেল হোসেন (৩৬), মো. চান্দু খানসহ (৫২) অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এলজিইডির কর্তৃপক্ষের গাফলতি ও অবহেলার কারণে কোটি টাকার সেতুটি ধসে পড়েছে। আমরা বার বার সেতুটির বেহাল দশার কথা জানিয়েছি এমন কি লিখিতভাবে অবহিত করেছি। কর্তৃপক্ষ কোন প্রতিকার করেননি। ব্যবসায়ীরা জানান, কর্তৃপক্ষ সেতুটির সংস্কারের নামে অপরিকল্পিত ব্যয় করেছে যা কোন কাজে লাগে নাই। বরং সেতুটি ধসে পড়তে সহায়তা করেছে। এক সঙ্গে বেশী লোকজন ও ভারী যানবহন চলাচলের সময় সেতুটি কেঁপে উঠত। বিষয়টি অবহিত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করা হলেও তিনি ব্যবস্থা গ্রহন করেননি। শোলক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী হুমাউন কবির বলেন, এ সেতু দিয়ে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এ বন্দরে কেনাকাটার জন্য আসেন। এক সময় বন্দরের ব্যবসায়ীরা ১৫/২০ টন মালামাল নিয়ে সেতুর ওপর দিয়ে ট্রাক চলাচল করত। দীর্ঘদিনে সেতুটির সংস্কার হয়নি। ২০১০ সালে যে সংস্কার হয়েছে তা ছিল অপরিকল্পিত। উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইউনুস আলী মঙ্গলবার সন্ধ্যা রাতে দুর্ঘটনা স্থলে পৌছলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে লাঞ্চিত করেছে। এক পর্যায়ে তোপের মুখে প্রকৌশলী ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন। এলাকাবাসীর দাবি জরুরী ভিত্তিতে সেতুটি নির্মান করার। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে এলজিইডির উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইউনুস আলী বলেন, অভিযোগ সঠিক নয়, ওই খালটিতে অসংখ্য ছোট লঞ্চ ও মালবাহী ট্রলার চলাচল করে তাতে প্রায়ই সেতুটিকে ধাক্কা দেয় ফলে সেতুটি দুর্বল হয়ে সর্বশেষ মঙ্গলবার সন্ধ্যা রাতে ট্রলারের ধাক্কায় ধসে পড়েছে।

Facebook Comments