কলাপাড়ায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

জুলাই ১৩ ২০১৭, ২১:৪৮

কলাপাড়া প্রতিনিধিঃ মৎস্যবন্দর মহিপুরের ইউপি সদস্য সোবাহানের বিরুদ্ধে জেলেদের চাল ও স্থানীয়দের বাজারে ভিটি দেয়া সহ পাচঁ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ভূমি দস্যু হিসেবে পরিচিত এই ইউপি সদস্যের অত্যাচারে স্থানীয়রা অতিষ্ঠ হয়ে পরেছেন। বিধাব ভাতা,রয়স্ক ভাতা,ভিজিডি,ভিজিএফ,রেশন কার্ড বিতরন ও নাম অর্ন্তভুক্ত করতে জনপ্রতি দুই’শ থেকে পাচঁশত টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিকার পেতে স্থানীয় জেলে সহ শতাধিক ব্যাক্তিরা ইউপি চেয়াম্যান, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা,উপজেলা চেয়াম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এসব অভিযোগের তোয়াক্কা না করে উল্টো অভিযোগকারীদের দেখে নেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগিরা জানান।
সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান ,সোবাহান মেম্বর একজন ভুমিদস্যু মামলাবাজ। তার বিরুদ্ধে কলাপাড়া থানায় হামলা সহ একাধিক মামলা রয়েছে।
মহিপুর বন্দরের ব্যবসায়ী মো.জাহাঙ্গীর মৃধা,আলমগীর মৃধা,মিলন ফিটার,আলম হাং,রুহুল আমিন,ময়না বেগম,রাশিদা বেগম সহ একাধিক ব্যাক্তিদের কাছ থেকে বাজারে ভিটি দেয়া ও মামলার ফয়সালা করার কথা বলে প্রায় দশ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
মহিপুর থানা সদরের সোবাহান প্যাদা বলেন, ইউপি সদস্য সোবাহান মহিপুর বাজারে ভিটি দেয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে আশিঁ হাজার টাকা নেয়। অদ্যবধি টাকা বা ভিটি দেয়া হয়নি। টাকা চাইতে গেলে নানা টাল বাহানা করে আসছে। এ ব্যাপারে সোবাহান প্যাদা বাদি হয়ে

ইউপি সদস্য সোবাহানের বিরুদ্ধে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্টেট আদালতে মামলা দ্বায়ের করেছেন।
নজীবপুর এলাকার জেলে বৃদ্ধ সানু ঘরামী ( জেলে আইডি নং ১০৭৮৬৬০০৬৬০০০১৫৮ ) অভিযোগ করেন, তিনি নজীবপুর এলাকার ৩৪৯ নং তালিকা ভুক্ত জেলে হওয়া সত্তেও এখন পর্যন্ত কোন চাল পায়নি। জেলের নামের চাল আনতে ইউপি মেম্বর সোবাহান তার কাছে টাকা দাবি করে। তার দাবি কৃত টাকা না দেয়ায় তাকে চাল দেয়া হয়নি। এ বিষয় প্রতিকার চেয়ে বৃদ্ধ সানু ঘরামী স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এ বিষয় ইউপি মেম্বর সোবাহান জানান, তার সামাজিক কাজ কর্মে ইর্ষান্নিত হয়ে প্রতিপক্ষরা আমার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। কারও কাছ থেকে তিনি কোন টাকা পয়সা নেয়নি। এসব অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে তিনি আইনী পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো.কামরুল ইসলাম বলেন,জেলে তালিকাভুক্ত হওয়া সত্তেও চাল না দেয়ার অভিযোগে দুইটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন তিনি। তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা যাচাই করে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবি এম সাদিকুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, সোবাহান মেম্বরের বিরুদ্ধে টাকা ,জেলেদের চাল আত্মসাৎ সহ ৩টি অভিযোগ এসেছে। সোবাহান মেম্বর টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলেছেন। জেলে চাল আত্মসাৎ বিষয়ে মৎস্য কর্মকর্তা সত্যতা খতিয়ে দেখবেন।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>