কলাপাড়ায় প্রাইভেট ক্লিনিকের অপচিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে

আপডেট : June, 17, 2017, 1:27 am

কলাপাড়া প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়গনষ্টিক সেন্টারের অপচিকিৎসায় ছলিমপুর গ্রামের সাথী রানী, রজপাড়ার নুপুর, পৌরশহরের তামান্না রহমান কেকা এবং আরামগঞ্জ গ্রামের জুলেখা বেগমের মৃত্যুর পর স্বাস্থ্য প্রশাসনের টনক নড়েছে। প্রাইভেট ক্লিনিক গুলোর অপচিকিৎসায় একের পর এক রোগীর মৃত্যুর পর স্বাস্থ্য প্রশাসন রহস্যজনক কারনে কোন পদক্ষেপ না নিলেও পুলিশ প্রশাসন এবার অভিযুক্ত ক্লিনিক মালিক সহ চার জনের নামে হত্যা মামলা রেকর্ড করেছে। জানা যায়, কলাপাড়া পৌর শহর, মৎস্যবন্দর আলীপুর-মহিপুর ও কুয়াকাটায় প্রায় দেড় ডজন ডায়গনষ্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট ক্লিনিক রয়েছে। এসকল প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়গনষ্টিক সেন্টারের মালিক পক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় যথাযথ কাগজ পত্র না থাকার পরও রহস্যজনক ভাবে এগুলো বন্ধ হচ্ছে না। ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে ওঠা এসব বানিজ্যিক ক্লিনিক ও ডায়গনষ্টিক সেন্টারে কর্মরত নার্স, ব্রাদার, টেকনিশিয়ান, ল্যাব সহকারী সহ কোন কোন চিকিৎসকের যথাযথ প্রশিক্ষন সনদ নেই। অথচ এসকল প্রতিষ্ঠানের দালালরা অফিস টাইমে সরকারী হাসপাতালের ভিতরে ও গেটে, খেয়া ঘাট, বাস ষ্ট্যান্ডে অনস্থান নিয়ে রোগী নিয়ে টানা-হেঁচড়া করে তাদের নির্দিষ্ট প্রাইভেট ক্লিনিক এবং ডায়গনষ্টিক সেন্টারে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে কমিশন হাতিয়ে নিচ্ছে। এছাড়া অফিস টাইমে হাসপাতালের চিকিৎসকরা ব্যস্ত থাকছেন ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের কাছ থেকে উপঢৌকন নিতে। সরকারের বেতন সুবিধা নিয়ে এসব চিকিৎসকরা রোগী দেখেন প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়গনষ্টিক সেন্টারে। তাই স্বাস্থ্য প্রশাসনের সম্মুখে রোগী নিয়ে দালালে দালালে হাতা-হাতি ও চুলো-চুলির ঘটনা ঘটলেও স্বাস্থ্য প্রশাসন থাকে নিশ্চুপ। কলাপাড়া হাসপাতালের খোদ চিকিৎসক ও ষ্টাফ সহ পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, বরগুনা, আমতলি ও বরিশালের সরকারী হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক এসকল প্রাইভেট ক্লিনিক বানিজ্যের সাথে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কলাপাড়া হাসপাতালে গাইনী চিকিৎসক না থাকায় সিজারিয়ান কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারনে কোন কোন অদক্ষ চিকিৎসক প্রাইভেট ক্লিনিকে গিয়ে গাইনী বিশেষজ্ঞ সেজে সিজার করছেন

বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে ভ্রাম্যমান আদালত প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়গনষ্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে ইতিপূর্বে একজন ভুয়া এমবিবিএস চিকিৎসককে আটক করে কারাদন্ড প্রদান ও একটি ক্লিনিক সিল করে দেয়ার পর অন্যরা দ্রুত তালা ঝুলিয়ে সটকে পড়ে। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চলছে এ রমরমা বানিজ্য। কোন কোন প্রাইভেট ডায়গনষ্টিক সেন্টার মালিকের বিরুদ্ধে তার পরিচালনাধীন ডায়গনষ্টিক সেন্টারে হাসপাতালের স্বনামধন্য চিকিৎসককে প্রাইভেট প্রাকটিস করার জন্য অনুরোধ করে বিফল হয়ে হুমকী-ধামকি দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া এসকল প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়গনষ্টিক সেন্টার গুলোতে অবৈধ গর্ভপাতের অভিযোগও রয়েছে। কলাপাড়া হাইস্কুল মাঠে প্রাইভেট ক্লিনিকের অবৈধ গর্ভপাতের ফসল একটি নবজাতকের লাশ নিয়ে ইতিপূর্বে কুকুরে টানাটানির পর তৎপর হয়ে ওঠে প্রশাসন। সম্প্রতি ভ্রুন হত্যার অভিযোগে নিজ স্ত্রী সহ এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন জনৈক ইটবাড়িয়া গ্রামের কালাম নামের এক ব্যক্তি। আরামগঞ্জ গ্রামের আলাউদ্দীন মৃধা নামের অপর এক ব্যক্তি আলেয়া ক্লিনিক মালিক সহ চার জনকে আসামী করে গত ১১জুন’২০১৭ কলাপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে গত ১৩ অক্টোবর’২০১৬ শহরের আলেয়া ক্লিনিকে চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অবহেলায় তামান্না রহমান কেকা এবং ১০জুন’২০১৭ জুলেখা বেগম এর মৃত্যুর অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা। আলেয়া ক্লিনিকের মত প্রভাবশালী এসব প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়গনষ্টিক সেন্টার মালিকদের পোষা দালালদের হাতে অসুস্থ্য রোগী ও তার স্বজনদেরকে শারিরীক ভাবে লাঞ্চিত করারও অভিযোগ রয়েছে। এমনও অভিযোগ রয়েছে হাতের আঙুলের ব্যাথার চিকিৎসা করাতে গেলে এসকল প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়গনষ্টিক সেন্টারে আলট্রাসনোগ্রাফির পরীক্ষা নিরীক্ষা করানো হয়। কলাপাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুল মান্নান জানান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অভিযুক্ত আলেয়া ক্লিনিক পরিদর্শনে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।’

Facebook Comments