কলাপাড়ায় প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে ৬৯ প্রধান শিক্ষক ও ৫৬ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য

জুলাই ০৯ ২০১৭, ২২:৫৪

জাহিদ রিপন, পটুয়াখালীঃ পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে শতভাগ সাফল্য অর্জনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ কোন কাজে আসছেনা। উপজেলা শিক্ষা অফিসের দুর্নীতি-অনিয়ম, কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বল্পতা, শিক্ষক সংকট, ঝূঁকিপূর্ন স্কুল ভবন, স্কুল পরিচালনা পর্ষদের দুর্বলতা, শিক্ষক-শিক্ষাকাদের ছুটি বিহীন অনুপস্থিতি, প্রাইভেট টিউশন, কোচিং বানিজ্য, উপবৃত্তির টাকা বিতরনে অনিয়ম, খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচীতে দুর্নীতি, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে অংশগ্রহন এবং দারিদ্র্যতা প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে শতভাগ সাফল্য অর্জনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। ফলে ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে। তথ্য নির্ভরযোগ্য সূত্রের। প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ১৭১টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি রেজি: প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৬টি আন-রেজি: প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩টি এবতেদায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৮টি এবতেদায়ী সংযুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪টি উচ্চ বিদ্যালয় সংযুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১৫টি কিন্ডার গার্টেন রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৪৩,৭২৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২১,৫৪০ জন ছাত্র এবং ২২,১৮৯ জন ছাত্রী রয়েছে। আর এসব শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছে যথাক্রমে ৭৩ জন, ০৩ জন, ৫৬ জন, ১৫ জন, ১১২ জন, ১৬, এবং ৫৫ জন শিক্ষক রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১৫ সনে ঝড়ে পড়া শিশুর সংখ্যা ২৫৬ এবং ২০১৬ সনে ঝড়ে পড়া শিশুর সংখ্যা ১৯৮। প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারী স্কুলের শতভাগ শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পাচ্ছে। উপজেলার লতাচাপলি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেনী এবং হাজিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত শিক্ষা চালু করা হয়েছে। শিক্ষা অফিসের ওই সূত্রটি আরও জানায়, কলাপাড়ায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে ৫৬টি, প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে ৬৯টি, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পদ শূন্য রয়েছে ৩টি এবং অফিস ষ্টাফ পদ শূন্য রয়েছে ৫টি। এছাড়া ৮/১০টি স্কুল ভবন ব্যবহার অনুপযোগী রয়েছে। এসকল বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চাহিদা পত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানায় ওই সূত্রটি।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোর মধ্যে দু’চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়া অধিকাংশ বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার কম। অনেক বিদ্যালয়ের শ্রেনী কক্ষে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের অনুপস্থিতে পাঠদান বন্ধ। ক্লাশ টাইমে শিক্ষার্থীদের দেখা যায় খেলা করতে। সমুদ্র মোহনা ও নদী পাড়ের দরিদ্র শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে না গিয়ে দেখা যায়

পরিবারের সদস্যদের সাথে মাছের রেনু ধরতে, গেরস্থালি ও কৃষি কাজে সহযোগীতা করতে। শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত বিস্কিট অনেক বিদ্যালয় থেকে উধাও হয়ে প্রভাবশালী শিক্ষকের ঘেরের মাছের খাবার কিংবা গৃহপালিত পশু’র খাবার হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে। উপবৃত্তির টাকা বিতরন নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ। এছাড়া প্রাথমিক স্তরের অনেক শিক্ষক রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠছেন। এরা সরকারী দলের নাম ভাঙ্গিয়ে চলায় অফিসও তাদের সমীহ করে। উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার আসল চিত্র দেখা যায় বৌলতলি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, যেখানে ১২৫ জন ছাত্র ছাত্রীর জন্য মাত্র ১জন শিক্ষক।
উপজেলার ৮/১০টি স্কুল ভবন অধিক ঝূঁকিপূর্ন। যেকোন সময় ভবন ধ্বসের আশংকা রয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালের মে মাসে পক্ষিয়াপাড়া বিদ্যালয় ভবনের পিলার ধ্বসে অল্পের জন্য প্রানে রক্ষা পান শিক্ষার্থীরা। এছাড়া শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন ও কোচিং বানিজ্য প্রভাব ফেলছে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পরিবার গুলোতে। শিক্ষকদের নির্ধারিত টাকা দিতে না পারায় অনেক শিক্ষার্থী ও তাদের দরিদ্র অভিভাবকরা প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের সুফল পাচ্ছেনা।
এদিকে কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জিম্মি হয়ে পড়েছে মাত্র কয়েকজন প্রভাবশালী শিক্ষক, দীর্ঘদিন ধরে একই স্থানে চাকুরী করা দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর হাতে। চলতি বছরের শুরুতে ২০ জন শিক্ষকের বদলী নিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ের অভিযোগও রয়েছে এদের বিরুব্দে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভ’ক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগের তীর তৎকালীন কর্মকর্তার দিকে। সম্প্রতি ৫৭ টি স্কুলের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ক্ষুদ্র মেরামত প্রকল্পের ৯ হাজার টাকা বিতরন কালে স্কুল প্রতি ১ হাজার টাকা রেখে দেয়া হয় অফিস খরচের নামে। শতাধিক শিক্ষকদের শ্রান্তি বিনোদনের ভাতা থেকে ৫’শত টাকা করে অফিস খরচের নামে নেয়া হয়। তারপরও ভুক্তভোগী শিক্ষকরা লিখিত অভিযোগ কিংবা মুখ খুলতে সাহস করেন না দুর্নীতিবাজ শিক্ষা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ে। গনমাধ্যম কর্মীদের কাছে এসব অভিযোগ এলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিব ইউএনওকে এ বিষয়ে জ্ঞাত করার পর তারা বিষয়টি দেখবেন বলে সাংবাদিকদের জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনিলাল সিকদার শিক্ষা অফিসের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। এ বিষয় গুলো আমার জানা নেই। এছাড়া শিক্ষকদের বদলীর বিষয়টি আমার যোগদানের পূর্বে সম্পন্ন হয়েছে।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>