কলাপাড়ায় বাল্যবিয়ের আয়োজনের প্রতিবাদ করায় হামলা!

এপ্রিল ০৩ ২০১৭, ২১:০৮

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বাল্যবিয়ের আয়োজনের প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মো. শফিক বিশ্বাস (৪৫) নামের এক সচেতন ব্যক্তি। এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের চান্দুপাড়া গ্রামে। বর্তমানে তিনি  কলাপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান আহতের ভাই সোহেল বিশ্বাস।

আহত শফিক বিশ্বাস ঢাকা ন্যাশনাল আইডিয়ার কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক ছিলেন।

শফিক বিশ্বাস জানান, গতকাল রবিবার সন্ধ্যার দিকে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশে চরচান্দুপাড়া গ্রামের সলেমান খানের মেয়ে পাকিজা আক্তার ও পার্শ্ববর্তী বালিয়াতলী ইউনিয়নের বৌদ্ধপাড়া গ্রামের শাহালম হাওলাদারের অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক ছেলে সুজন পালিয়ে আসে। তারা লালুয়ার মুক্তিযোদ্ধা বাজার এলাকায় পৌঁছায়। সেখানে উপস্থিত ফরিদ বিশ্বাস, মুস্তফা গাজী, ফয়সাল বিশ্বাস, নসা মৃধা, শাহাবুদ্দিন আকন এবং শাহাবুদ্দিন খান দুজনকে তাদের কবজায় নেয়। রাতে মেয়েটিকে ফরিদ বিশ্বাসের বাসায় নিয়ে যাওয়ার পর নানা শঙ্কায় স্থানীয় আনোয়ার মৃধাসহ অন্যান্যরা আমাকে বাড়ি থেকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে জানতে পারি আমাদের ইউনিয়নের এস.কে.জে.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে সদ্য এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে মেয়েটি, এমনকি ওই শিক্ষার্থী ওই বিদ্যালয় থেকে অস্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ লাভ করেছিল বলে সে আমাকে নিশ্চিত করেছে। ফরিদ বিশ্বাসের বাড়িতে মেয়ের পিতা উপস্থিত হওয়ার পর আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ায় ফরিদ বিশ্বাসসহ তার সহযোগী অন্যান্যরা কিশোর-কিশোরীর বিয়ের আয়োজন করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। সদ্য বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ বিষয়ে আইন করা বিষয়ে তাদেরকে

অবহিত করলেও মেয়ের কলঙ্ক নিয়ে চিন্তা করে বাল্যবিয়ের আয়োজন করে তারা। এ সময় কিশোরীকে পালিয়ে নিয়ে আসা বিয়ে পাগল কিশোরকে জিজ্ঞাসা করা হলে সেও কিশোরীকে বিয়ে করার জন্য আকুতি জানায়। বাল্যবিয়ের আয়োজনের বিষয় নিয়ে আমার সাথে ফরিদ বিশ্বাসের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত ফরিদ বিশ্বাস তার হাতে থাকা বড় টর্চ লাইট দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করে। এতে মাথা ফেটে যায়। এ সময় মস্তফা গাজীও লাঠি দিয়ে আমার ওপর হামলা করে।

তিনি আরো জানান, রাষ্ট্রের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করতে গিয়ে আমি স্বার্থপর লোকের হামালার শিকার হওয়ায় ক্ষোভে নিজেকে রক্ষা করতে ফরিদ বিশ্বাসকে আঘাত করি। পরে সোমবার  সকালে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি হই।

এ প্রসঙ্গে ফরিদ বিশ্বাসের সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত মো. আনোয়ার মৃধা জানান, ছেলেটি মেয়েটিকে প্রেমের বেড়াজালে জড়িয়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধা বাজারের দিকে এসেছিল। সেখানে উপস্থিত সকলের কাছে সন্দেহ হলে তাদের আটক করে। পরে মেয়েটিকে নিরাপদে রেখে তার অভিভাকদের ডেকে আনা হয়। তবে বিয়ের আয়োজন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মেয়ে এবং ছেলের বিষয় নিয়ে আপন চাচাতো ভাই ফরিদ বিশ্বাস ও মো. শফিক বিশ্বাস উত্তেজিত হয়ে হামলায় জড়িয়ে পরে।

এ ব্যাপারে কলাপাড়া থানার ওসি জি.এম শাহ নেওয়াজ জানান, এ ঘটনায় কেউ কোন অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>