কাগজ-কলমে ঠিকঠাক থাকলেও শেবাচিমে নিয়মবর্হিভূত ওষুধের মজুদ

আপডেট : May, 15, 2017, 6:28 pm

কাগজ-কলমে ঠিকঠাক তারপরও নিয়মবর্হিভূত ওষুধের মজুদ
বরিশাল : বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারের পুকুর থেকে লক্ষাধিক টাকার ওষুধ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধারের ঘটনার একদিন পর মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ড থেকে ১৫ লক্ষাধিক টাকার ওষুধ মজুদ থাকা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।যার মধ্যে ইনজেকশনই বেশি রয়েছে, আর বাহিরে বাগিরে এসব ওষুদের দামও ৩০ লাখ টাকার কাছাকাছি। এ নিয়ে গোটা হাসপাতাল প্রশাসন কিছুটা নরেচরে বসেছে। এরই মধ্যে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের তৎপরতায় মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের ইনচার্জ স্টাফ নার্স বিলকিস বেগম ওই ওয়ার্ডের আয়া শেফালি বেগম ও তার ছেলে মামুনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। তাদের সকলকেই পুলিশের দায়ের করা একটি মামলায় জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় আরো কারা জড়িত খাকতে পারে সে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কুদ্দুস মোল্লা আদালতে বিলকিস বেগমের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছন। অপরদিকে হাসপাতাল প্রশাসনের দায়ের করা দুটি তদন্ত কমিটির তদন্তে মেডিসিন মেইন ও সাব স্টোরের কাগজে কলমে কোন ধরণের ঘাপলা পাওয়া যায়নি। যে সব ওষুধ পুকুর থেকে উদ্ধার হয়েছে তা ২০১৬ সালের জুলাই মাসে হাসপাতালের স্টোরে এসেছে এবং নভেম্বর মাসে স্টক শেষ হয়ে যায়। আর হাসপাতালের উপ-পরিচালককে নিয়ে গঠিত কমিটি আজকের দিনের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন পেশ করবেন। যারাই মূলত মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ড থেকে মজুদ করা ওষুধ উদ্ধার করে। হভসপাতালের নার্সিং তত্ত¡াবধায় মমতাজ বেগম জানান, তিনি যোগদানের পরই গ্রেফতার সেবিকার বিরুদ্ধে কিছু মৌখিক অভিযোগ শুনলেও এতো বড় ধরনের অপরাধ সংগঠিত করবে তা কারো জানা ছিলো না। ওই ওয়ার্ডে সুপারভাইজাররা নিয়োমিত যাওয়া-আসা করতো কিন্তু কোন কিছু বোঝার ছিলো না। আবার সর্বোশেষ অডিটে সবথেকে সুন্দরভাবে খাতায় হিসেবে নিকেশ আপটুডেট পাওয়া যায় বিলকিস বেগমের ওই ওয়ার্ড থেকেই। তবে সিনিয়র স্টাফ নার্সরা জানিয়েছেন, নার্সিং সুপারভাইজাররা যদি আরো সচেতন

হতো, শুধু কাগজে-কলমে না দেথে ওয়ার্ডের স্টোর ও বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করতো তবে এ ধরনের অপরধ শুরুতেই ধরা পড়তো। নার্সিং তত্ত¡াবধায় মমতাজ বেগম জানান, এ ধরনের ওষুধ রাখার অপরাধ কারো একার পক্ষে করা সম্ভব নয়, ইনজেকশনের ভায়েল (খালি বোতল) জমা দিয়ে যেখানে ওষুধ আনতে হয় সেখানে হাজার হাজার ওষুধ ওই ওয়ার্ড থেকে পাওয়ার বিষয়টিই আরো অনেকের জরিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে। এগুলো হাসপাতাল প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিত। তবে সাব স্টোরের ইনচার্জ লিটন জানান, অর্ডার খাতা যে খাতায় বিভাগীয় প্রধান, রেজিষ্টারসহ অনেকেরেই সাক্ষর থাকে। আর সে খাতার চাহিদা অনুযায়ী তিনি ওয়ার্ডে ওষুধ সরবরাহ করে থাকেন। পাশাপাশি ভায়েল ও জমা নেয়া হয়। এক্ষেত্রে অন্যভাবে দূর্ণিতীর আশ্রয় নিয়েছেন ওই সেবিকা। তবে এর বিপরীত জানালেন হাসাপাতালের ওষুধের মেইন স্টোর কর্মকর্তা ডাঃ মাহামুদ হাসান খান। তিনি জানান, সাব স্টোরে জনবল কম রয়েছে, ধার করে জনবল নিয়েও কাজ করতে হয়। সে ক্ষেত্রে অনেক সময় বেশি ভায়েল হলে গোনা সম্ভব হয় না। যে বিষয়টি পরিচালককে অবহিত করা হয়েছে। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে মুখে ৫ শত ভায়েলের কথা বলে ১ শত ভায়েল হয়তো জমা দিয়েছে ওয়ার্ড ইনচার্জ। আবার ডাবল বেড দিখেয়েও ওষুধ উত্তোলন করতে পারে। তবে ওই ওয়ার্ডসেহ বেশ কিছু ওয়ার্ডের বিষয়ে সন্দেহ থাকায় বেশিরভাগ সময় নেই বলে চাহিদার চেয়ে কিছু কম ওষুধ দেয়া হতো। দেখার জন্য যে আবার ওষুদ নিতে আসে কিনা তারা। এদিকে পরিচালক ডাঃ এস এম সিরাজুল ইসলাম তদন্ত কমিটির বরাত দিয়ে জানান, ঘটনার সাথে স্টোরের কারো জড়িত থাকার বিষয়টি তদন্তে পাওয়া যায়নি। বৃহষ্পতিবার ব্যতিত ১ দিনের বেশি ওষুধ কোন ওয়ার্ডে দেয়া হয় না, আর সেখানে মজুদের প্রশ্ন তো নেইই, এটা পুরো নিয়ম বহির্ভূত। তবে এর সাথে কারা জড়িত তা বিলকিস বেগমই বলতে পারবে।

Facebook Comments