কীর্তনখোলার ভাঙনের মুখে ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট

ফেব্রুয়ারি ২৬ ২০১৭, ১৮:৪৪

কীর্তনখোলা নদীর অব্যাহত ভাঙনে হুমকির মুখে বরিশাল নগরীর বেলতলায় স্থাপিত সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ প্লান্ট উদ্বোধনের আগেই ভাঙনের হুমকিতে পড়ায় হতাশ বরিশালবাসী। এরই মধ্যে ভাঙন রোধে প্রাথমিকভাবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ১০ হাজার ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ ১০ হাজার জিও ব্যাগ ফেললেও তা কোনো কাজে আসছে না।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, অব্যাহত ভাঙনে ওয়ার্টার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের নদীসংলগ্ন গাইড ওয়াল ভেঙে গেছে, প্লান্টের সীমানার ভেতরে থাকা বালুর স্তর ধুয়ে যাচ্ছে, মাটি ভেঙে বিলীন হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে।

তিনি জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড ৪০০ কোটি টাকার যে প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে সময় দরকার। কিন্তু যেভাবে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে, তাতে চলতি শুষ্ক মৌসুমে তা রোধ করা না হলে আগামী বর্ষা মৌসুমে এ প্লান্ট রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

এ নির্বাহী প্রকৌশলী আরো জানান, ছয় মাস আগে প্লান্টটি সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করার কথা থাকলেও বিদ্যুত্ সংযোগ না থাকায় তা হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি। সিটি করপোরেশনের কাছে বিদ্যুত্ বিভাগের বকেয়া থাকায় তারা এ প্লান্টে বিদ্যুত্ সংযোগ দিচ্ছে না। ফলে প্লান্টটি সচল করা সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যুত্ পেলেই সচল করে সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাইদ জানান, প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সাড়ে চার কিলোমিটার এলাকা ভাঙন রোধ প্রকল্পের বিষয়টি সভায় আলোচনা করা হয়েছে। প্রস্তাবটি প্রি-একনেক সভায় পাস হলে তা একনেকে উঠবে।

তিনি জানান, ১৭ ফেব্রুয়ারি প্ল্যানিং কমিশনের

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভাঙনকবলিত চার কিলোমিটার এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড যে প্রকল্প হাতে নিয়েছে, তা শুরু করতে আরো তিন বছর সময় প্রয়োজন। কিন্তু ভাঙন যেভাবে তীব্রতর হচ্ছে, তাতে আগামী বর্ষা মৌসুমে এ প্লান্ট বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (পানি) মনিরুল ইসলাম স্বপন জানান, নিয়ম অনুযায়ী এ প্লান্ট সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করতে হলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে ছয় মাস চালু রেখে তাদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। ছয় মাস চালু না থাকলে এ প্লান্ট সিটি করপোরেশন গ্রহণ করবে না।

বিদ্যুত্ সংযোগ নিয়ে ছয় মাস তাদের ব্যবস্থাপনায় চালু রেখে সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের কথা বলেন তিনি। কিন্তু নদীভাঙনের কারণে বর্তমানে এ প্লান্ট অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। প্লান্ট রক্ষায় নদীভাঙন রোধ জরুরি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নগরীর পানির চাহিদা মেটাতে বরিশালের বেলতলায় ২০১২ সালে ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এবং নগরীর রুপাতলীতে ২০১৩ সালে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে কীর্তনখোলা নদীর পাড়ে দুটি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের কাজ শুরু করা হয়। প্লান্ট দুটো চালু হলে ১ কোটি ৬০ লাখ করে ৩ কোটি ২০ লাখ লিটার বিশুদ্ধ পানি উত্পাদন সম্ভব হবে।

বাস্তবায়নকারী সংস্থা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও বরিশাল সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে বরিশালে পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও ড্রেনেজ প্রকল্পের আওতায় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু নদীভাঙনসহ নানা জটিলতায় প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও এর সুফল ভোগ করতে পারছে না নগরবাসী।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>