কীর্তনখোলায় নৌ-দূর্ঘটনাঃদূর্ঘটনাগ্রস্ত জাহাজ উদ্ধার না করেই ফিরে গেলো নির্ভীক

আপডেট : April, 23, 2017, 6:25 pm

বরিশাল : বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে কয়লাবাহী কার্গোর সাথে যাত্রীবাহি দিবা সার্ভিসের এমভি. গ্রীণ লাইন-২ লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনার পর উদ্ধারে গিয়ে ফিরে এসেছে বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজ নির্ভিক।

উদ্ধারকারী জাহাজের ওজন উত্তোলনের ক্ষমতার চেয়ে এমভি. গ্রীণ লাইন-২ লঞ্চ ও মামুন মাসুদ-১ নামের কার্গোটির ওজন কয়েকগুন বেশি হওয়ার আজ রোববার বেলা ১২ টার দিকে তারা ঘটনাস্থল থেকে ফিরে আসে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-সংরক্ষন ও পরিচালনা বিভাগের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম। তিনি বাংলানিউজকে জানান, বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজ নির্র্র্ভীক এর উত্তোলন ক্ষমতা রয়েছে আড়াই’শ টনের জাহাজের। সেখানে গ্রীন লাইন কাগজে কলমে রয়েছে ৬৪৫ টন। অপরদিকে কার্গেটিতে ৫২৫ টনের মতো কয়লাই ছিলো। আর কার্গোর ওজন যদি হয় ৪ শত টনের মতো সেখানে প্রায় হাজার টন ওজন রয়েছে কার্গোটির। আর পানিতে ডুবে যাওয়ায় উভয় নৌ-যানের ওজন আরো বেড়েছে।

তিনি বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় উদ্ধারের জন্য বরিশাল মুক্তিযোদ্ধা পার্ক সংলগ্ন জেটি থেকে নির্ভীক ঘটনাস্থল চরবাড়িয়ায় যায়। তবে ওজন বেশি হওয়ায় তারা আজ রোববার দুপুরে নির্ভীক নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ফিরে এসেছেন। আর পুরো বিষয়টিই উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে কোন বিকল্প চিন্তাভাবনাও করার সুযোগ নেই তাদের। তাই বিকল্প পদ্ধতিতে জাহাজ দুটি উদ্ধার করার চেষ্টা করছেন মালিকরা। তবে কার্গোটি উদ্ধারের পূর্বে ভেতরে থাকা কয়লা তুলে ফেলতে হবে।

এদিকে বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তার ও ট্রাফিক বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল হুদা জানান, তারা নদীর যে অংশে কার্গোটি ডুবে গেছে সে জায়গাটি সনাক্ত করে রেখেছেন। তবে উভয়

জাহাজের উদ্ধারকাজ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এখন মালিকপক্ষ জাহাজ দুটি উদ্ধারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

অপরদিকে নৌ-দূর্ঘটনার বিষয়ে এখনো কোন মামলা হয়নি বলে জানিয়ে বরিশাল নৌ-পুলিশের নৌ-বন্দর ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শফিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, তারা ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদে নৌ-চলাচলের ব্যবস্থা রাতেই চালু করেছেন। এখন নৌ-যানগুলোর মালিকপক্ষ ও বিআইডব্লিউটিএ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন।

গ্রীন লাইন ওয়ার্টার ওয়েজেরে জেনারেল ম্যানেজার আঃ ছত্তার  বলেন, তাদের কোম্পানির সদস্যরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজ নির্ভীক এসে তাদের লঞ্চটিকে তুলতে না পেরে ফিরে গেছে। তাদের উত্তোলন ক্ষমতা জাহাজের ওজনের থেকে অনেক কম। উদ্ধারকারী জাহাজের অপেক্ষায় থেকে তাদের জাহাজের ভেতরে বেশি পরিমানে পানি ঢুকে আরো জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এখন তারা নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্থ স্থানগুলো পানির মধ্যেই সারানোর চেষ্টা চালাবেন। পরে ভাটার সময় লঞ্চের ভেতরের পানি বের করে এনে সেটিকে ভাসানোর কাজ করবেন।

অপরদিকে কার্গো কর্তৃপক্ষের সদস্যরা বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখলেও সেটিকে উত্তোলনের কোন সিদ্ধান্ত এখনো নেয়া হয়নি বলে জানাগেছে।

উল্লেখ্য, শনিবার বিকেল পৌনে ৪ টার দিকে বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে কয়লাবাহী কার্গোর সাথে যাত্রীবাহি দিবা সার্ভিসের এমভি. গ্রীণ লাইন-২ লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এসময় ৫২৫ টন কয়লা নিয়ে কার্গোটি ঘটনাস্থলেই ডুবে যায়। অপরদিকে গ্রীনলাইন লঞ্চটির সামনা ফেটে গেলে সেটি যাত্রীদের নিয়ে নদীতীরে চলে আসে। তাই নিরাপদেই এ লঞ্চের ৪ শত যাত্রী তীরে উঠতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যার মধ্যেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

Facebook Comments