কীর্তনখোলায় ভাঙন, হুমকিতে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট

লিটন বাশারকীর্তনখোলা নদীর অব্যাহত ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে নগরীর বেলতলাস্থ সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্লান্ট নির্মাণের কাজ ৬ মাস পূর্বেই শেষ হলেও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে সিটি করপোরেশনের কাছে তা হস্তান্তর করা হয়নি। এ দু’টি দপ্তরের পাশাপাশি বিদ্যুত্ সংযোগ প্রদান নিয়ে বিদ্যুত্ বিভাগ যুক্ত হয়ে এখন ত্রি-মুখী লড়াই চলছে। চরম অনিশ্চয়তার মাঝে থাকে এ  ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের সুপেয় পানি নগরবাসীর ভাগ্যে জুটবে নাকি তার আগেই কীর্তনখোলার অথৈ পানিতে হারিয়ে যাবে তা নিয়ে শংকা দেখা দিয়েছে। নদী ভাঙনের কবল থেকে প্লান্টটি রক্ষায় ইতোমধ্যেই জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড ১০ হাজার করে মোট ২০ হাজার জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যর্থ চেষ্টা করেছেন। যা কোনো কাজে আসছে না।

 

নগরবাসীর পানি সংকট নিরসনে ২০১২ সালে বেলতলায় ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এবং ২০১৩ সালে নগরীর রুপাতলীতে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পৃথক দুটি সারফেজ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট এর কাজ শুরু হয়। কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী স্থানে এ প্লান্ট দু’টি চালু হলে ১ কোটি ৬০ লাখ করে প্রতিদিন ৩ কোটি ২০ লাখ লিটার বিশুদ্ধ পানি উত্পাদন করা সম্ভব হবে। বাস্তবায়নকারী সংস্থা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও বরিশাল সিটি করপোরেশন সূত্রে জানাগেছে, এলজিইডি মন্ত্রণালয়ের অধীনে পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও ড্রেনেজ প্রকল্পের আওতায় সারফেজ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নানান জটিলতায় প্রকল্পের কাজ শুরু করতেই দীর্ঘ সময় পার হয়ে যায়। এরপর নির্মাণ কাজের দীর্ঘ সূত্রিতা কাটিয়ে পুরো প্লান্ট নির্মাণের কাজ সমাপ্ত হলেও এর সুফল ভোগ করতে পারছে না নগরবাসী। আদৌ ভবিষ্যতেও পারবে কি না তা নিয়ে নগরবাসীর মাঝে সংশয় দেখা দিয়েছে।

 

ভাঙন কবলিত এলাকায় থাকা এ প্লান্ট সম্পর্কে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম জানান, অব্যাহত ভাঙনে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের নদী
সংলগ্ন গাইড ওয়াল ভেঙে গেছে, প্লান্টের সীমানার ভেতরে থাকা বালুর স্তর ধুয়ে যাচ্ছে, মাটি ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।   তিনি জানান ট্রিটমেন্ট প্লান্ট রক্ষার জন্য বড় ধরনের নদী ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প গ্রহণ করা দরকার। পানি উন্নয়ন বোর্ড শহর রক্ষা বাঁধের ৪শ’ কোটি টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করলে প্লান্ট রক্ষা পেত। কিন্তু আসছে বর্ষা মৌসুমের পূর্বে ঐ প্রকল্পের কাজ চালু হওয়ার সম্ভবনা খুবই কম। সে ক্ষেত্রে বর্ষকালে এ প্লান্ট টিকিয়ে রাখা মুশকিল হবে। তিনি প্লান্ট চালু না হওয়ার জন্য সিটি করপোরেশনকে দায়ী করে বলেন, ৬ মাস পূর্বে এ প্লান্ট নগর ভবনের বুঝে নেওয়ার কথা। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত প্লান্টে বিদ্যুত্ সংযোগ পর্যন্ত আনতে পারেনি। সংযোগ না দেওয়ার ব্যাপারে বিদ্যুত্ বিভাগের প্রকৌশলীরা জানান- সিটি করপোরেশনের কাছে বিশাল অংকের বিদ্যুত্ বিল বকেয়া থাকায় তারা এ প্লান্টে সংযোগ দিচ্ছে না। নগর ভবনকে বকেয়া বিদ্যুত্ বিলের একটি অংশ পরিশোধের শর্ত দিয়ে সংযোগ দিতে চেয়েছিলেন।

 

যদিও  সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (পানি) মনিরুল ইসলাম স্বপন বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপর দায় চাপিয়ে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী এ প্লান্ট আমাদের কাছে চালু অবস্থায় হস্তান্তর করতে হবে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ৬ মাসেও বিদ্যুত্ সংযোগ আনতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা প্লান্ট  চালু করতে পারেনি এবং আমাদের বুঝিয়ে দিতেও পারেনি। মনিরুল ইসলাম স্বপন জানান, নদী ভাঙনে বর্তমানে এ প্লান্ট অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভাঙনের কবল থেকে প্লান্ট রক্ষায় নদী ভাঙন প্রতিরোধ জরুরি বলে জানান নগর ভবনের এ প্রকৌশলী।

 

নদী ভাঙন প্রতিরোধের ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাইদ জানান, কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী এলাকায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রায় ৪শ’ কোটি টাকার শহর রক্ষা বাঁধ প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশন ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন। এখন প্রি-একনেক ও একনেকের সভায় অনুমোদন পাওয়ার পর প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।
Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>