কী ছিল আর কী হলো!

আপডেট : June, 15, 2017, 7:04 pm

২৭ ওভারে বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ১৫২। এমন পরিস্থিতি কত রানের আশা করতে পারে একটি দল? বাংলাদেশের স্কোর অনায়াসে তিন শ পেরোবে বলে মনে হচ্ছিল, কী করলে ৩৩০-৩৪০ হতে পারে, ধারাভাষ্য কক্ষে এ নিয়ে আলোচনা। সেই বাংলাদেশ ভারতের লম্বা ব্যাটিং লাইনআপকে দিতে পারল ২৬৫ রানের লক্ষ্য।

এ রানটাও এল মাশরাফির এলোপাতাড়ি ব্যাট ঘোরানোর ছোঁয়ায়। না হলে, ৪৫তম ওভারেই তো রান তোলার শেষ ভরসাও হারিয়েছে বাংলাদেশ। ১১ রানের মধ্যে ফিরে গেছেন শেষ দুই স্বীকৃত ব্যাটসম্যান মোসাদ্দেক হোসেন ও মাহমুদউল্লাহ। ২২৯ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে আড়াই শ রান করতে পারবে কিনা সে পেক্ষায় ধুঁকে ধুঁকে এগিয়েছে বাংলাদেশ।
অথচ এর আগে বাংলাদেশের স্কোর নিশ্চিতভাবে তিন শর দিকে ছুটছিল। ২৮তম ওভারের শেষ বল থেকে ৩৬তম ওভারের দ্বিতীয় বল—এই ৪৫ বলের মধ্যে ২৫ রান করেছে বাংলাদেশ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এর মাঝেই ফিরে গেছেন তামিম, সাকিব, মুশফিক। এই তিন স্তম্ভকে হারিয়ে বাংলাদেশের রানের চাকা শ্লথ হয়ে যায়। ২৮ ওভারের পর ৪৯ ওভার পর্যন্ত মাত্র ৭ ওভারে ৬ বা এর বেশি রান নিতে পেরেছে বাংলাদেশ। ৮ উইকেট হাতে নিয়ে এই সময়েই ঝড় তোলার কথা ছিল বাংলাদেশের। এই সময়ে বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিয়েছে দুটি ঘটনা, মাশরাফির ব্যাটিং ও ধোনির গ্লাভসের সুবাদে পাওয়া ৫ রানের পেনাল্টি!
১২৩ রানের তৃতীয় উইকেট জুটির পর বাংলাদেশ ছুটছিল দুরন্ত গতিতে। ৭০ রান করে তামিম ইকবাল ফেরার পরও বাংলাদেশ ছুটছিল। কারণ উইকেটে তখন ফর্মে থাকা সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। কিন্তু কাট করতে গিয়ে সাকিব ফিরলেন ৩৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে। পরের ওভারেই এর চেয়ে বাজে এক শট খেলে আউট হয়েছেন মুশফিক। কেদার যাদবের ফুল টসে অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে ক্যাচ দিয়েছেন মুশফিক (৬১)।
এই ৭ বল সব গড়বড় করে দিল। বাংলাদেশ অবশ্য সবচেয়ে বেশি আক্ষেপ করবে ২৮তম ওভারের শেষ বল থেকে ৩৬তম ওভারের দ্বিতীয় বল পর্যন্ত ৪৫ বলের সময়টা নিয়ে। এ সময় ২৫ রানের মধ্যে ফিরে গেছেন তামিম, সাকিব, মুশফিক। এই তিন স্তম্ভকে হারিয়ে বাংলাদেশের রানের চাকা শ্লথ হয়ে যায়। যেটা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন মাহমুদউল্লাহ-মোসাদ্দেক। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৪১

ওভারে ৫ উইকেটে ২১২ রান করেছে বাংলাদেশ।
ক্যাচ ধরার পর কোহলির উদ্‌যাপন কুৎসিত হতে পারে, তবে ম্যাচের ওই পরিস্থিতিতে মুশফিকের অমন শটও খুব একটা দৃষ্টি সুখকর ছিল না। ৩ উইকেটে ১৭৭ রানের পর প্রায় তিন শ ছুঁই ছুঁই স্কোরের স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশ থমকে গেল আচমকা। ১৭৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর এখন স্কোর কত হয় সেটাই দেখার। বাংলাদেশ যে এখন শেষ ওভারগুলোতে ঝড় তুলতে পারে না নিয়মিত।
অথচ দলকে এখন টেনে নেওয়ার কথা ছিল তামিম ও মুশফিকের। ভারতের মূল বোলারদের সামলে, প্রভাব খাঁটিয়ে দুজনই আউট হয়েছেন কেদার যাদবের অফ স্পিনে! দলের ১৫৪ রানে তামিম হয়েছেন বোল্ড, মুশফিক দিয়েছেন ক্যাচ। আর সাকিব আউট হয়েছেন তাঁর ‘ভারতীয় সংস্করণে’র হাতে, রবীন্দ্র জাদেজার বলে মহেন্দ্র সিং ধোনির ক্যাচ হয়েছেন।
এর আগে ৩১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ভারতের বোলিং আর মেঘলা কন্ডিশন পরীক্ষা নিচ্ছিল সেমিফাইনালের চাপের ম্যাচে। কিন্তু দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান তামিম-মুশফিকের শতরানের জুটিতে সে চাপ কাটিয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ। পঞ্চাশ পেরিয়েই তামিম আবার টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রানের মালিক হয়েছেন, মাঠে শিখর ধাওয়ানকে দর্শক বানিয়ে।
২৮, ৩, ৩—আগের তিন ম্যাচে সৌম্যর রান। আজ তো রানই করতে পারলেন না। ভুবনেশ্বর কুমারের বলে ‘প্লেড অন’ বাঁহাতি ওপেনার। ১ রানে ১ উইকেট হওয়ার পর সাব্বির-তামিম ইকবালের দ্বিতীয় উইকেট জুটি চেষ্টা করেছে ধাক্কাটা সামাল দেওয়ার। চার বাউন্ডারিতে সাব্বির ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন আগের তিন ম্যাচের ব্যর্থতা পুষিয়ে দেওয়ার। টানা ১৩ বল রান না ওঠায় অস্থির হয়ে উঠলেন সাব্বির। ভুবনেশ্বরকে কাট করতে গিয়ে রবীন্দ্র জাদেজার হাতে ধরা পড়লেন পয়েন্টে। ফেরার আগে সাব্বির করতে পারলেন ১৯ রান।
গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই রান পাননি দুজন। তাঁরা জ্বলে উঠতে পারেননি আজও। ৭ ওভারের ১ বল বাকি থাকতে বাংলাদেশের ২ উইকেট নেই। সৌম্য-সাব্বিরকে হারিয়ে বিপাকে পড়া বাংলাদেশকে টেনে তোলার চেষ্টা করছেন তামিম-মুশফিক।
ভাগ্যকে আজ পাশে পাচ্ছে বাংলাদেশ। হাফ চান্সগুলো পক্ষে যাচ্ছে। তামিম নিজে যেমন বোল্ড হয়েও একবার বেঁচে গেছেন হার্দিক পাণ্ডিয়া নো বল করায়। ৪ রানে মাহমুদউল্লাহও একবার জীবন পেয়েছেন। এমনকি এর মধ্যে জরিমানা থেকে ৫ রানও পেয়েছে বাংলাদেশ।

Facebook Comments