কুয়াকাটা-কলাপাড়ার স্কুল ছাত্রীরাও মাদকে আসক্ত!

মার্চ ১৪ ২০১৭, ২০:৫১

মোঃ হাফিজুর রহমান আকাশ, কুয়াকাটাঃকলাপাড়ায় মাদকের ভয়াল ছোবলে যুবসমাজ থেকে শুরু করে কিশোর-কিশোরী পর্যন্ত এখন অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। যুবসমাজ মাদকসেবী থেকে পরিণত হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীতে। চোলাই মদ, গাঁজা থেকে শুরু করে ইয়াবা, বাবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের এখন রমরমা বাণিজ্য চলছে। স্কুলগামী ছাত্রীরা পর্যন্ত মাদকের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। অতি সম্প্রতি খেপুপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী ক্লাশ চলাকালে মাদক সেবনের দায়ে স্কুল থেকে বহিষ্কার হয়েছে। কোন কোন পারিবারের সবাই আবার মাদক ব্যবসায় নেমেছে। উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা থেকে শুরু করে দুইটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়নে মাদকের করালগ্রাস থেকে বিপথগামী যুবসমাজসহ গোটা সমাজ ব্যবস্থাকে রক্ষা করতে এখন পুলিশসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সুধীসমাজ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। পুলিশ তাদের অভিযানের মাত্রাও বাড়িয়ে দিয়েছে। সর্বশেষ সোমবারে (১৩ মার্চ) অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলার এক সভায় মাদক নির্মূলে বিভিন্ন স্পট চিহ্নিত করে সামাজিক সচেতনতার পাশাপাশি কঠোর আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মাদকের ভয়াল থাবার চিত্র ফুটে উঠেছে ফেব্রুয়ারি মাসে কলাপাড়া উপজেলার কলাপাড়া এবং মহিপুর থানায় দায়েরকৃত মামলার পরিসংখ্যানে। দুই থানায় মোট ৩৩টি মামলা দায়ের হয়েছে। তার মধ্যে ১১টি মাদকের। আইন-শৃঙ্খলার সভায় বক্তারা বলেন, এখন মেয়েদের মধ্যে মাদক ছড়িয়ে গেছে। কিছু পরিবারের মূল ব্যবসা মাদক। এক শিক্ষকের মেয়ে মাদক সেবন করে স্কুলে আসে। মধুপাড়া এবং হাড়িপাড়ায় চোলাইমদ তৈরি হয়, হচ্ছে বিক্রি। মুক্তিযোদ্ধা বাজারে প্রকাশ্যে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। চলে জুয়ার জমজমাট আসর। মেলাপাড়া গ্রামের ইদ্রিসের বাড়িতে চলে মাদকসহ জুয়ার আসর। হাজীপুরে ব্রিজের নিচে ইয়াবা ট্যাবলেট সেবনকারীদের আড্ডা বসে। পৌরশহরের

কবি নজরুল ইসলাম সড়কে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে সন্ধ্যার পরে। গোডাউন ঘাট, সিকদার সড়ক, ফেরিঘাট, নাছনাপাড়া চৌরাস্তা, বঙ্গবন্ধু কলোনী, নীলগঞ্জ আবাসন, মেলাপাড়ার ছালাম হাওলাদারের ঘেরে, পাটুয়া বাজারে, লোন্দা ঘাটে, বানাতিবাজারে, বাবলাতলা বাজারে, ছোট বালিয়াতলী বাজারে, চাপলী বাজারে, লক্ষ্মী বাজারে, চাকামইয়ার ব্রিজঘাটে, মহিপুর ব্রিজের সংযোগ সড়কের পাশে, কুয়াকাটা পৌর এলাকায় কয়েকটি আবাসিক হোটেলে চলে আসছে মাদকের বাজার। মাদকের ছোবল এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে ২৪ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের বার্ষিক পিকনিক চলাকালে মদ, ইয়াবা খেয়ে মাতাল অবস্থায় ওই কলেজের কয়েক ছাত্র একই কলেজের কয়েক ছাত্রীকে উত্যক্ত করে। এদের কাছে তখন জীবন নাশক অস্ত্র ছিল বলে কলেজ অধ্যক্ষ মোঃ কালিম উল্লাহ নিশ্চিত করেছেন। এমনকি অভিযুক্ত এসব শিক্ষার্থীদের কলেজ থেকে বহিষ্কারের চিঠি দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সালিশ বৈঠকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বিষয়টির সমাধান করা হয়। আর এই মাদকসেবী এবং জুয়ারিরা অর্থের যোগান দিতে কৃষকের গবাদিপশু পর্যন্ত চুরি করে বিক্রি করছে। কৃষক সর্বশান্ত হয়ে যাচ্ছে। মাদকের নেশার অর্থ যোগান দিতে ছিনতাই-চুরি বেড়ে গেছে। কলাপাড়া থানার ওসি জিএম শাহনেওয়াজ জানান, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অভিযান চলমান রয়েছে। একই বক্তব্য মহিপুর থানার ওসি মিজানুর রহমানের। তারা জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে অন্তত কলাপাড়া থানা পুলিশ নয় জনকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া মহিপুর থানা পুলিশ ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু মাদকের ব্যবসা কিংবা মাদকের করাল গ্রাস বন্ধ হয়নি, এ কথা স্বীকার করেছেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। বর্তমানে মাদকের এ আগ্রাসন বন্ধে এখনই কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন উপজেলার সাধারণ মানুষ।

Facebook Comments