কৃষ্ণচূড়ায় অনন্য বরিশাল

আপডেট : May, 12, 2017, 3:14 pm

চারিদিকে জলাশয়। নদী-খাল বেষ্টিত সবুজে ঘেরা অপার সৌন্দর্য্যের লীলাভূমির মধ্যে সূর্যের কিরণ মাথায় নিয়ে উচুঁ করে দাঁড়িয়ে আছে কৃষ্ণচূড়াগুলো। প্রকৃতি যেন সব সৌন্দর্য্য উজাড় করে দিয়েছে তার প্রেমে। তা না হলে এত সৌন্দর্য্য সে পায় কোথা থেকে।

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের ঐতিহ্য শত বছরের। সেই সৌন্দর্য্যকে আরও বাড়িয়ে তুলছে আকাশ ছোঁয়া কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো। প্রকৃতিকে ভালবেসে এগুলো যেনে দাঁড়িয়ে আছে অতন্দ্র প্রহরীর মত। শুধু ভালোবাসা আর সৌন্দর্য্য উপহার দেয়াই যেন তার কাজ।

প্রকৃতির ভালবাসাকে ধারণ করে নিজের সৌন্দর্য্যকে বিলিয়ে দিচ্ছে প্রতিটি পথিকের মাঝে। তার সুবাস স্নিগ্ধ করে তোলে পরিবেশ। ভালোবাসার ছায়া তৃপ্ত করে ক্লান্ত পথিকের হৃদয়। তার হাসি যেন হার মানায় ওই চাঁদের ভালোবাসাকেও।

ভোরের সূর্য কিরণের সঙ্গে লুকোচুরি খেলে বড় হওয়া সেই কৃষ্ণচূড়া সূর্যের কড়া রোদকে পদদলিত করে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য সৃষ্টি করে ছায়ানীবিড় পরিবেশ। তারপরও সকলের ক্লান্তি দূর করে হৃদয়কে শীতল করে প্রিয় কৃষ্ণচূড়া। এ যেন তার কোনো আবেগ বা ভাব নয়। অনেকটা নির্লজ্জর মতো ভালোবাসা বিলিয়ে যাচ্ছে যুগ যুগ ধরে। তবুও যেন ফুরায় না তার হৃদয়ের ভালোবাসা।

তার

সুবাসই জাগিয়ে তোলে নিদ্রাবৃত প্রকৃতিকে। তাই এমন সৌন্দর্য্য দেখে বরিশালের প্রেমে পরেছিলেন প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশ। কীর্তনখোলার পাড়ে কবির বসতি আজ ভরে উঠেছে কৃষ্ণচূড়ার সজীবতার আলাপনে। বহুযুগ ধরে তার রুপ রয়েছে অটুট। বিবর্ণ পৃথিবীর হৃদয়কে যেন দিয়েছে অনন্য রূপ।

রূপের অনিন্দিতা কৃষ্ণচূড়ার রঙে রঙিন আজ নগর বরিশালের নীল আকাশ। পথিকের কাছে ধরা দিলেও আকাশ যেন স্পর্শ করতে পারে না তার সিগ্ধতাকে। তার সৌন্দর্য্য যেন দৃষ্টিনন্দন করে তুলছে নগর সভ্যতাকে। নববধূর মত মুচকি হাসি দিয়ে আকৃষ্ট করছে পথচারীদের।

কৃষ্ণচূড়ার স্পর্শে শ্রীবৃদ্ধি পেয়েছে কীর্তনখোলা পাড়ের। শুধু কী কীর্তনখোলা? নগরজুরেই আজ কৃষ্ণচূড়ার জয়জয়কার। অশ্বিনী দত্তের ব্রজমোহন কলেজ কিংবা রাজাবাহাদুর সড়ক, ধর্মীয় উপাসনালয়, ডিসি লেক অথবা বান্দ রোড যেখানেই চোখ যায়, যেদিকেই লাল কৃষ্ণচূড়ার সৌন্দর্য্য চোখে পড়ে। কবি সুদীপ তন্তুবায় নীলের ভাষায়:

কৃষ্ণচূড়া, বহুযুগ ধরে হয়তো

তোমার অস্তিত্ব

সজীবতার আলাপনে!

রূপ ছিল অটুট,

হয়তো ছিল না কোনো নাম।

বহুযুগ ধরে সংকীর্ণ ধূলিময়

সরণির ধারে, উন্মুক্ত প্রান্তরে,

পীবর বনানীর মাঝে কিংবা

ছোট্ট জলাশয়ের তীরে

– তুমি সেই…..

ঝরে পড়ে নশ্বর পাপড়ীগুলি

প্রকৃতির নিয়ম জড়িয়ে;

বিবর্ণ মৃত্তিকার হৃদয়ে বয়ে যায়

যেন আগ্নেয়গিরির উত্তপ্ত লাভা!

বয়ে যায় সৃষ্টির কারুকাজে,

জীর্ণ পাতায় পাতায়…..

Facebook Comments