ক্রিকেটে অশনি সংকেত!

এপ্রিল ২৭ ২০১৭, ২০:৫৯

দুই বছর আগে অস্ট্রেলিয়া, আর এবার পাকিস্তান। নিরাপত্তাহীনতার ‘অজুহাতে’ ২০১৫ সালে বাংলাদেশে আসতে রাজি হয়নি অস্ট্রেলিয়া। ক্রিকেটের সবচেয়ে সফল দলের সঙ্গে টাইগারদের স্থগিত সিরিজের তারিখ আজও চূড়ান্ত হয়নি।

আগামী আগস্টে অস্ট্রেলিয়া আসতে পারে, এটুকুই জানা গেছে। সেটা পরের কথা, আপাতত পাকিস্তানের সঙ্গে সিরিজ স্থগিত হয়ে যাওয়ার ধাক্কা সামলাতে ব্যস্ত বাংলাদেশের ক্রিকেট।

টাইগারদের বদলে যাওয়ার সূচনা ২০১৫ বিশ্বকাপে। ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে ইতিহাস গড়েছিল মাশরাফির দল। এরপর সাফল্যের উল্লাস প্রতিধ্বনিত হয়েছিল বছর জুড়ে। বিশ্বকাপের পর পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা-ক্রিকেটের তিন পরাশক্তিকে ওয়ানডে সিরিজে হেলায় হারিয়ে ক্রিকেট ‍দুনিয়ায় আলোড়ন তুলেছিল।

এর মধ্যে পাকিস্তানকে পড়তে হয়েছিল হোয়াইটওয়াশের লজ্জায়। ওয়ানডেতে সাফল্যের ধারাবাহিকতায় র‌্যাংকিংয়ে উত্তরণ এবং সেই সুবাদে যোগ্য দল হিসেবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে জায়গা করে নিয়ে বাংলাদেশ আজ ক্রিকেটের সমীহজাগানো শক্তি।

সেই ধারাতে আবারও পাকিস্তানকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল বাংলাদেশ। যখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথা, তখনই কিনা এত বড় আঘাত! জুলাই-আগস্টে তিনটি ওয়ানডে, দুটি টেস্ট ও একটি টি-টোয়েন্টি খেলতে বাংলাদেশে আসার কথা ছিল পাকিস্তানের। কিন্তু বিধি বাম! প্রতীক্ষিত সিরিজটা এখন অনিশ্চয়তায় বন্দি।

পাকিস্তানের দাবি, বাংলাদেশ দলকে আগে দুটো টি-টোয়েন্টি খেলতে হবে তাদের দেশে। নিদেনপক্ষে বাংলাদেশের

হাই পারফরম্যান্স টিমকে পাঠাতে হবে। বলাই বাহুল্য, দাবিটা অযৌক্তিক। যে দেশ প্রতিনিয়ত বোমার আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত, যে দেশের নাগরিকদের জীবনের কোনও নিরাপত্তা নেই, সেখানে যাওয়া কি আদৌ সম্ভব? ২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কান দলের বাসে সন্ত্রাসী হামলার কথা তো ক্রিকেট অনুসারীদের ভুলে যাওয়ার কথা নয়।

তারপর থেকে পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট একরকম ব্রাত্য। বছর দুয়েক আগে জিম্বাবুয়েকে অনেক অনুরোধ করে তারা নিয়ে আসতে পেরেছিল। তিনটি ওয়ানডে আর দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সবগুলোই হয়েছিল লাহোরে। তবে সিরিজটা যে নির্বিঘ্নে শেষ হয়েছিল, সেই দাবি পিসিবি কর্মকর্তারাও করতে পারবেন না বোধহয়। দ্বিতীয় ওয়ানডে চলার সময় গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের বাইরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছিল।

জিম্বাবুয়ের ঔদার্য, এত বড় একটা ঘটনার পরও তারা শেষ ওয়ানডে বাতিল করেনি, ম্যাচটা খেলেই ফিরে গিয়েছিল দেশে। পাকিস্তান অবশ্য ঘটনাটাকে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ‘থলের বেড়াল’ তাতে আটকে রাখা যায়নি।

এখনও যে পাকিস্তান নিরাপদ দেশ, তা নয়। তবু বাংলাদেশের জাতীয় বা অন্য কোনও দলকে পাকিস্তানে নিয়ে যেতে মরিয়া পিসিবি কর্মকর্তারা। বিসিবিও তাদের হতাশ করেনি পুরোপুরি। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে দুটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি খেলতে পাকিস্তান গিয়েছিল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। -বাংলা ট্রিবিউন

 

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>