ক্রেডিট কার্ডে সুদ হার সর্বোচ্চ ১৬ শতাংশ

আপডেট : May, 20, 2017, 12:49 pm

নীতিমালা জারি

* সীমার অর্ধেক টাকা নগদ উত্তোলন করা যাবে
* কার্ড ব্যবহারের ওপর কোনো ধরনের পুরস্কার, বোনাস, কুপন, টিকিট দেওয়া যাবে না
* সৌজন্য বা অতিরিক্ত কার্ডধারী বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগ পাবেন না
* ঋণ পরিশোধের মেয়াদ শেষ হলে গ্রাহক খেলাপি হয়ে পড়বেন, সিআইবিতে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে
* নীতিমালা নিয়ে আপত্তি রয়েছে ব্যাংকগুলোর

 

ক্রেডিট কার্ডে সুদ হার বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ভোক্তা ঋণের যে সুদ হার রয়েছে, তার চেয়ে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ বেশি হতে পারবে এসব কার্ডের সুদ হার। বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে ভোক্তা ঋণের সুদ হার সর্বোচ্চ ১১ শতাংশ, ফলে ক্রেডিট কার্ডে নতুন সুদ হার হবে সর্বোচ্চ ১৬ শতাংশ।
১১ মে ক্রেডিট কার্ড সেবাসংক্রান্ত এক নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক বলে দিয়েছে, শর্তগুলো অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। এর ফলে ক্রেডিট কার্ডের যেসব ব্যবহারকারী সুদ হার নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন, তা কিছুটা কেটেছে। বর্তমানে দেশে ৯ লাখ ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী রয়েছেন। তবে ব্যাংকগুলো এখনো এই নীতিমালা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়নি বলে জানা গেছে। এমনকি নীতিমালা নিয়ে আপত্তির কথাও জানিয়েছে।
দেশে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার। গত জানুয়ারি মাসেই গ্রাহকেরা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ৭৩৫ কোটি টাকার লেনদেন করেছেন। ডিসেম্বরে ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকেরা ৭০৫ কোটি টাকার লেনদেন করেন। গত জানুয়ারিতে প্রায় ৮ লাখ ৭৭ হাজার ক্রেডিট কার্ড চালু ছিল। এর মধ্যে দি সিটি ব্যাংকের ২ লাখ ৮ হাজার, ইস্টার্ন ব্যাংকের ১ লাখ ৫০ হাজার, স্টান্ডার্ড চার্টার্ডের ১ লাখ ৫০ হাজার ও ব্র্যাক ব্যাংকের ১ লাখ ৩ হাজার।
নতুন নীতিমালায় বিধান করা হয়েছে, ব্যাংক গ্রাহককে ক্রেডিট কার্ডের যে সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, তার ৫০ ভাগ নগদ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। কার্ডে ঋণের যে সীমা দেওয়া হয়েছে, তার সর্বোচ্চ অর্ধেক টাকা নগদ উত্তোলন করতে পারবেন। কার্ডধারীদের আকৃষ্ট করতে ব্যবহারের ওপর কোনো ধরনের পুরস্কার, বোনাস, কুপন, টিকিটের অফার দেওয়া যাবে না। একজন কার্ডধারীকে যে সৌজন্য বা অতিরিক্ত কার্ড দেওয়া হয়, ওই কার্ড কোনো ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগ পাবে না। ক্রেডিট কার্ড পেতে হলে কোনো ধরনের ঋণখেলাপি হওয়া যাবে না, পাশাপাশি গ্রাহকের ই-টিআইএন থাকতে হবে। কার্ডে যে ঋণ

হবে, তা মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পরিশোধ না করলে গ্রাহক খেলাপি হয়ে পড়বেন। তাঁর নামে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরোতে (সিআইবি) প্রতিবেদন পাঠাতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে। সুদ হিসাবের পদ্ধতি, বকেয়া পরিশোধের শেষ সময়সীমা গ্রাহককে সুস্পষ্টভাবে অবহিত করতে হবে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী কাউকে ক্রেডিট কার্ড দেওয়া যাবে না। তবে যদি কোনো শিক্ষার্থীর পড়ালেখা কার্ডের লেনদেনের ওপর নির্ভরশীল হয়, তাহলে ইস্যু করা যাবে। তা ছাড়া ক্রেডিট কার্ডে কোনো সংশোধনী আনতে হলে কার্যকরের ৩০ দিনের আগে গ্রাহককে অবহিত করতে হবে। কার্ড গ্রহীতার সম্মতি ছাড়া কোনো ধরনের চার্জ কর্তন করা যাবে না। কোনো সংবিধিবদ্ধ সংস্থার আবগারি শুল্ক বা কর অথবা চার্জ কর্তন করতে হলেও গ্রাহকের সম্মতি গ্রহণ করতে হবে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়, কার্ড গ্রহীতাকে প্রতি মাসের শেষে (বিলিং পিরিয়ড) লিখিতভাবে অথবা ইলেকট্রনিকভাবে লেনদেনে চিত্র ও সুদ কর্তনের বিস্তারিত বিবরণ পাঠাতে হবে। স্টেটমেন্ট পাঠানোর পর বিল পরিশোধে অন্তত ১৪ দিন সময় দিতে হবে। কোনো গ্রাহক বিলিং স্টেটমেন্ট না পাওয়ার অভিযোগ করলে পাঁচ দিনের মধ্যে বিনা মূল্যে নতুন স্টেটমেন্ট দিতে হবে।
নীতিমালায় জাল-জালিয়াতি প্রতিরোধে কিছু ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এ জন্য ব্যাংকগুলোকে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর ক্রেডিট কার্ডের প্রতিটি লেনদেনের তথ্য এসএমএস বা ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠাতে বলা হয়েছে।
ব্যাংকগুলোর আপত্তি
নতুন নীতিমালা জারির পর ক্রেডিট কার্ড সেবাদানকারী শীর্ষ চার ব্যাংক অস্বস্তিতে পড়েছে। ব্যাংকগুলো বলছে, ক্রেডিট কার্ড কোনোভাবেই ঋণ পণ্য না। কার্ডটি মূলত জীবনধারা বদলে দিতে পারে এমন সেবা। এ জন্য কার্ডধারীদের দেওয়া হয় নানা ছাড়। বিমানবন্দরে বিলাসবহুল লাউঞ্জ ব্যবহার থেকে শুরু করে পাঁচতারকা হোটেলে খাওয়াতেও দেওয়া হয় নানা ছাড়। দেশে ছাড়াও বিদেশেও পাওয়া যায় এসব সুবিধা। এ ছাড়া গ্রাহকদের ২৪ ঘণ্টা সেবা দিতে হয়। এর বিপরীতে কোনো ধরনের জামানতও রাখা হয় না। ফলে ক্রেডিট কার্ডে সুদের হার ২৭-৩৫ শতাংশ পর্যন্ত রাখা হয়। কার্ড ব্যবহারকারী মাত্র ৩০ শতাংশ গ্রাহক সুদ পরিশোধ করেন। অন্য গ্রাহকেরা নির্দিষ্ট সময়েই ঋণ পরিশোধ করেন। দি সিটি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিন প্রথম আলোকে বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে নীতিমালাটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানাব।

Facebook Comments